সংবাদ শিরোনাম

 

কাজী রুমেল ভৈরব :  কিশোরগঞ্জের বন্দর নগরী ভৈরবের মেঘনা রেলসেতুকে স্টুডিও বানিয়েছেন নতুন প্রজন্মের এক শ্রেনীর সেলফী প্রেমিক নির্বোধ তরুণের দল৷
ভৈরব উপজেলার একমাত্র বিনোদনের স্থান মেঘনা ব্রীজের পাদদেশ৷কর্মব্যস্ততার শেষে যেকোনো উৎসব আমেজে পরিবার পরিজন নিয়ে একটু প্রশান্তি জন্য এ অঞ্চলের মানুষের একমাত্র বিনোদনের স্থান এটি৷
অনেকের কাছে যা গরীবের কক্সবাজার নামে পরিচিত৷
নিঃসঙ্গ নিরাশ আঁধারে, মাঝে মাঝে যারা নিজের ভিতর যাযাবর বনে যায়, তারা কখনো কখনো একটু নিজেকে খুঁজে বেড়ায় এ মেঘনার পাদদেশে৷
সন্ধ্যা তারার মিটমিট আলো আর মেঘনার পানির ঘ্রাণ যারা মেঘনার পাড়ে ভৈরবকে আগলে রাখা পাথরের উপর বসে উপভোগ করেছে তাদের কাছে প্যারিসের আইফেল টাওয়ার একটি নিথর বিদ্যুৎ খাম্বা ছাড়া কিছুই না৷
গরীবের প্যারিস কিংবা কক্সবাজার খ্যাত এ মেঘনা ব্রীজের পাদদেশ তাই এ অঞ্চলে খুব জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র কিন্তু এ অনিন্দ্য সুন্দর স্থানটির পাদদেশ প্যারিসের মতো হলেও তার উপরই ভাগে গমন ঠিক ততোটাই ভয়ঙ্কর ও বিপদজনক কেননা এর উপর দিয়ে ঘন্টায় কম করে হলেও একের অধিক ট্রেন চলাচল করে ৷
মেঘনার পাদদেশ সর্বসাধারণের জন্য উন্মোক্ত হলেও উপরইভাগ সম্পূর্ণ সংরক্ষিত ৷ কিন্তু পর্যটকদের একটি অংশ,তরুণ প্রজন্মের কেউ কেউ ঘুরতে এসে মেঘনার রেলসেতুর উপর উঠে সেলফী কিংবা ছবি তুলতে ব্যস্ত হতে দেখা যায় যা ভয়ানক বিপদ জনক৷ তাদের অনেকেরই জানা নেই বিগত সালে এ অঞ্চলে কেবল রেল দুর্ঘটনায় প্রান হারিয়েছে সত্তরেরও বেশী প্রান৷
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের থেকে জানা যায়, এ অঞ্চলে রেলপথে গত এক বছরে ট্রেনে কাটা পড়ে ৭১ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভৈরব-টঙ্গী ও ভৈরব-বাজিতপুর রেলপথে ভৈরব রেলওয়ে থানার সীমানায় চলাচলকারী বিভিন্ন আন্তনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ওই সব মানুষের মৃত্যু হয়।
নিহতদের বেশির ভাগেরই পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ফলে ময়নাতদন্ত শেষে অজ্ঞাতপরিচয় বা বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে দাফন করা হয় তাদের।
ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল মজিদ জানান, ট্রেনে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণই ওই সব ব্যক্তির মৃত্যুর প্রধানতম কারণ।
ভৈরব রেলওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে ভৈরব রেলওয়ে থানার সীমানার ভেতর ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে  ৫৩ জন পুরুষ, ১৫ জন নারী ও তিনজন শিশুসহ মোট ৭১ ব্যক্তি মারা যান। এদের অধিকাংশেরই পরিচয় জানা যায়নি। যাত্রীদের অসতর্কতা, ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ, দুই বগির সংযোগস্থলে বসা এবং দরজার হাতলে ঝুলন্ত অবস্থায় যাতায়াত করার ফলে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
তাই বড় কোন দুর্ঘটনা এড়াতে স্থানীয় সচেতন মহল মেঘনার পাড়ে ভ্রমণে আসা পর্যটকদের সংরক্ষিত এ স্থানে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি প্রশাসনকেও বিষয় টি নজরে রেখে সেতুর দুই প্রান্তে নিরপত্তা জোরদার দাবী জানান ৷


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম