সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : জঙ্গিবাদে মদদদাতাদের কোন ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর পতেঙ্গায় কোস্টগার্ডের দুটি জাহাজের কমিশনিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। কোস্টগার্ড বার্থে এই কমিশনিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কোন জঙ্গি রাষ্ট্র নয়। জঙ্গি দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। জঙ্গিবাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় ও মদদদাতাদের বর্তমান সরকার কোন ধরনের ছাড় দেবে না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সাথে কোস্টগার্ডও জঙ্গি দমনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

জনবলের সীমাবদ্ধতা স্বত্ত্বেও কর্মদক্ষতায় উপকূলীয় অঞ্চলে কোস্টগার্ড একটি আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীকে পরিণত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, কোস্টগার্ড স্বল্পতম সময়ের মধ্যে সুবিশাল সমুদ্র ও উপকূলীয় এলাকার আপামর জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে অসামান্য অবদান রেখে চলেছে।  সমুদ্রবন্দর ও বহি:নোঙ্গরের নিরাপত্তা বিধান, সুন্দরবন এলাকায় জলদস্যুতা দমন, নদী ও সাগরে চোরাচালানবিরোধী অভিযান, জাটকা নিধন প্রতিরোধ এবং মা ইলিশ রক্ষায় কোস্টগার্ডের সুপরিকল্পিত এবং কার্যকরী টহল জাতীয় ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক সাফল্য এনে দিয়েছে।

তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেশের সমুদ্রবন্দর ও বহির্নোঙ্গর এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজের অব্যাহত নিরাপত্তা প্রদানে কোস্টগার্ডের কর্মতৎপরতা বর্হিবিশ্বে সমাদৃত। এ কারণেই চট্টগ্রাম বন্দর আন্তজার্তিক মেরিটাইম ব্যুরোর বিবেচনায় নিরাপদ বন্দর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

চোরাচালান ও অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ কার্যক্রমে কোস্টগার্ডের বার্ষিক সাফল্য আর্থিক মানদণ্ডে হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করেছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

কোস্টগার্ডের জনবল এবং সমুদ্রগামী বড় জলযান বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের বিশেষ বিবেচনায় আছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে কোস্টগার্ডের জন্য ইতালি থেকে কেনা দুটি জাহাজের কমিশনিং করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।  দুই জাতীয় নেতার নামে উৎসর্গ করা জাহাজ দুটি হচ্ছে সিজিএস সৈয়দ নজরুল এবং সিজিএস তাজউদ্দিন আহমেদ।

সিজিএস সৈয়দ নজরুলের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন এম সালেহ উদ্দিন এবং সিজিএস তাজউদ্দিন আহমেদের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন এম হাসান তারিক মন্ডলের হাতে জাহাজ দুটির কমিশনিং ফরমান তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।  এর মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোস্টগার্ড বহরে কার্যক্রম শুরু করলো জাহাজ দুটি।

জাহাজ দুটির প্রত্যেকটি ৮৭ মিটার লম্বা, সাড়ে ১০ ফুট চওড়া ও ১৩’শ টন ধারণক্ষমতার।  ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৩ নটিক্যাল মাইল বেগে সাড়ে তিন হাজার ফুট নটিক্যাল মাইল অতিক্রম করতে পারে জাহাজ দুটি।  ইতালি থেকে আনা জাহাজ দুটি ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছে।

অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, স্বরাষ্ট্রসচিব ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ, তিন বাহিনী প্রধান এবং কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরীসহ বিভিন্ন বাহিনী ও সরকারি উদ্ধতন কর্মকর্তা এবং রাজনীতিকরা।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম