সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারের তিন বছরপূর্তিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাষণে হতাশ হয়েছেন বিএনপি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক এক প্রতিক্রিয়ায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দেশবাসী তার ভাষণে সম্পূর্ণ হতাশ হয়েছে, আমরাও হতাশ হয়েছি।’

বৃহস্পতিবার রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মির্জা বলেন, ‘সবার আশা ছিল, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে একটি রাজনৈতিক সমঝোতার আভাস দেবেন।  কিন্তু তার ভাষণে তা না থাকায় এ বক্তব্য সময়ের চাহিদা মেটাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিক এই প্রতিক্রিয়ায় আমি বলতে চাই, দেশবাসী এ ভাষণে সম্পূর্ণ হতাশ হয়েছেন, আমরাও হতাশ হয়েছি।’

বর্তমান সরকারের টানা দ্বিতীয় মেয়াদের তিন বছর পূর্তির দিন আজ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ নেবে বলে আশা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত সব দল মেনে নেবে বলেও প্রত্যাশা করছেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষে আগামী নির্বাচন হবে-সেই কথাটিও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সমুন্নত রাখতে সহায়তা করবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রতিক্রিয়ায় ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা আজ রাতে রেডিও-টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছেন। তাঁর এ ভাষণটি একেবারেই গতানুগতিক। আত্মতুষ্টি ও আত্মস্তুতিতে ভরা।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘উন্নয়নের যে ফিরিস্তি তিনি (প্রধানমন্ত্রী)  তাঁর ভাষণে দিয়েছেন তার অনেক কিছুই ভুল, অসত্য, ভিত্তিহীন এবং এতে রয়েছে শুভংকরের ফাঁক। দেশের মানুষ তাদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতায় বোঝেন দেশ উন্নয়ন নাকি অবনতির পথে এগুচ্ছে।

সরকার একটি ধারাবাহিকতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বৈধ কিংবা অবৈধ সব সরকারকেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য কিছু কাজ করতে হয়। কিছু উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিতে হয়। জাতীয় উন্নয়নের চিত্র হিসেবে সে সবের ফিরিস্তি দিলে মানুষ হতাশ হয় বলে আমরা মনে করি।’

একতরফা দোষারোপের মাধ্যমে তাঁর ভাষণে প্রচ্ছন্নভাবে অগণতান্ত্রিক ও একদলীয় মানসিকতাই ফুটে উঠেছে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন ফখরুল।

হামলা-মামলা, জেল-জুলুমে বিপর্যস্ত বিরোধীদলগুলো সকল গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ডেমোক্রেটিক স্পেস প্রতিদিন সংকুচিত হচ্ছে। নির্বাচনী ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। দুর্নীতি, লুণ্ঠন অবাধে চলছে। ব্যাংকগুলো ও শেয়ারবাজার লুঠ হয়ে গেছে। জনজীবনে নিরাপত্তা নেই, সুবিচার ও আইনের শাসন নেই, শিক্ষার মান নেমে গেছে। আয়ের বৈষম্য বেড়েছে। শিশুদের পাঠ্যপুস্তক ভুলে ভরা। গুম, খুন, অপহরণ, শিশু হত্যা, নারী ধর্ষণ নিত্যকার ঘটনা। প্রধানমন্ত্রী সবকিছু সুকৌশলে এড়িয়ে গেছেন।’

ফখরুলের দাবি, রাষ্ট্রীয় ও শাসক দলীয় সন্ত্রাসে সারা দেশে আজ ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধীদলের কর্মসূচিতেও তারা একের পর এক হামলা ও অন্তর্ঘাতের ঘটনা ঘটিয়ে চলেছে। অথচ প্রধানমন্ত্রী এরজন্য বিরোধীদলকে দায়ী করে অসত্য বক্তব্য দিয়েছেন।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকারের বৈধতা ও নৈতিকতার সংকট দেশের প্রধান সমস্যা। অথচ প্রধান সেই রাজনৈতিক সংকট তিনি এড়িয়ে গেছেন।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম