সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর : টঙ্গীর তুরাগ তীরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ৫২তম বিশ্ব ইজতেমা। শুক্রবার ফজরের নামাজের পর মাওলানা ওবায়দুল খোরশেদের আম বয়ানের মধ্য দিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অর্ধশতাধিক দেশের কয়েক হাজার মেহমান ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৬টি জেলার মুসল্লিরা এই পর্বে অংশ নিচ্ছেন। মাওলানা ওবায়দুল খোরশেদ উর্দু বয়ানের বাংলায় অনুবাদ করেন বাংলাদেশের মাওলানা জাকিরুল ইসলাম।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ৫ মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। ফজরের নামাজের পর দুই মুসল্লির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তারা হলেন টাঙ্গাইলের জানু ফকির (৭০) ও মানিকগঞ্জের সাহেব আলী (৩৫)।

তাবলীগ জামায়াত আয়োজিত বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বে অংশগ্রহণের জন্য দেশি- বিদেশি মুসল্লিরা ইজতেমা ময়দানে এসে সমবেত হয়েছেন। আজ ভোরবেলায়ও অনেক মুসল্লিকে বিভিন্ন যানবাহনে চেপে ইজতেমা ময়দানে আসতে দেখা যায়। ইজতেমার প্রথম পর্বে দেশের ১৬টি জেলা থেকে আগত মুসল্লিরা ২৭টি খিত্তায় অবস্থান করে ভোর থেকেই বয়ান শুনছেন। অর্ধশতাধিক দেশের কয়েক হাজার বিদেশি মেহমান প্রথম পর্বে অংশ নিচ্ছেন।

ইজতেমার নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত পরিমাণ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। দেশব্যাপী জঙ্গি হামলা বিষয়টি মাথায় রেখে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে জা্নিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

গাজীপুরের জেলা পুলিশ সুপার হারুন অর রশীদ জানান, ইজতেমা মাঠের সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষায় ৫ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রায় ৬ থেকে ৭ হাজার নিরাপত্তা কর্মী কাজ করবেন। পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নিরাপত্তা মনিটরিং হবে। বাইনোকুলার, মেটাল ডিটেকটর, কন্ট্রোল রুম ব্যবহার করা হবে।

ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে ইজতেমা ময়দানের পাশে স্থাপন করা হয়েছে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। এ সকল মেডিকেল ক্যাম্প থেকে ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্য সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হচ্ছে বিনামূল্যে।

বৃহস্পতিবার (১২ জানুয়ারি) দুপুরে হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াকফ) বাংলাদেশের উদ্যোগে মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান।

হামদর্দ ছাড়াও ইবনে সিনা, যমুনা ব্যাংক, র‌্যাবসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অর্ধশত মেডিকেল ক্যাম্প ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে খুশি আগত মুসল্লিরাও।

প্রথম পর্বে ৩ দিনের বিশ্ব ইজতেমা শুক্রবার শুরু হয়ে রবিবার (১৫ জানুয়ারি) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। দ্বিতীয় পর্বের ইজতেমা শুরু হবে ২০ জানুয়ারি।

এবার প্রথম পর্বের ইজতেমায় ঢাকাসহ ১৭ জেলার মুসল্লিরা অংশ নিবেন। শুরুর দিনই অনুষ্ঠিত হবে বৃহত্তম জুমার নামাজ। এবারের বিশ্ব ইজতেমার ময়দানে বিশাল চটের ছাউনি দেওয়া হয়েছে। পুরো ইজতেমা ময়দানের চারপাশে প্রায় ১৬০ একর এলাকাজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন।

মুসল্লিদের অংশ নেওয়ার জন্য ইজতেমা ময়দানে জেলাওয়ারি ২৭টি খিত্তায় ভাগ করা হয়েছে। ১ থেকে ৫ নম্বর খিত্তায় ঢাকা জেলা, ৬, ৭ ও ৮নং খিত্তায় টাঙ্গাইল, ৯, ১০ ও ১১নং খিত্তায় ময়মনসিংহ, ১২ নং খিত্তায় মৌলভীবাজার, ১৩ নং খিত্তায় ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, ১৪ নং খিত্তায় মানিকগঞ্জ, ১৫ নং খিত্তায় জয়পুরহাট, ১৬ নং খিত্তায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ১৭ নং খিত্তায় রংপুর, ১৮ ও ১৯ নং খিত্তায় গাজীপুর, ২০ নং খিত্তায় বান্দরবান, ২১ নং খিত্তায় রাঙামাটি, ২২ নং খিত্তায় খাগড়াছড়ি, ২৩ নং খিত্তায় গোপালগঞ্জ, ২৪ নং খিত্তায় শরীয়তপুর, ২৫ নং খিত্তায় সাতক্ষীরা, ২৬ ও ২৭ নং খিত্তায় যশোর জেলার মুসল্লিরা অবস্থান নেবেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৭ সাল থেকে নিয়মিত বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে একই বছর দুইবার বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে নিয়মিত দুই পর্বে বিশ্ব ইজতেমার আয়োজন করা হচ্ছে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম