সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিনে যৌতুকবিহীন বিয়ের আয়োজন করা হলেও গতবারের মতো এবারও যৌতুকবিহীন বিয়ে হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন আয়োজক কমিটি।

তাবলিগের রেওয়াজ অনুযায়ী প্রতিবছর ইজতেমার দ্বিতীয় দিন বাদ আসর নামাজের পর ইজতেমার বয়ান মঞ্চের পাশে বিয়ের আসর বসত। বর ও পাত্রীপক্ষের উপস্থিতিতে এসব বিয়ে অনুষ্ঠিত হতো। কিন্তু গতবছর থেকে এই রেওয়াজ হচ্ছে না।

ইজতেমা আয়োজক কমিটির প্রধান মুরব্বি মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ইসলামিক শরিয়া অনুযায়ী প্রতি বছর যৌতুকবিহীন বিয়ে দেয়া হলেও ৫১তম ইজতেমার পর্ব থেকে তা বন্ধ করা হয়েছে। সে হিসেবে এবারও এমন বিয়ে হচ্ছে না।

তিনি জানান, ইজতেমা ময়দানে বিয়ে হলে তা এলাকাবাসীসহ অনেক স্বজন জানতে পারেন না বলে এ ধরণের বিয়ের আকর্ষণ কমে গেছে। এজন্য ইজতেমা ময়দানে যৌতুকবিহীন বিয়ের জন্য তালিকায় নাম দিলেও তাদের এলাকায় গিয়ে বিয়ের আয়োজন করতে বলা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্যে দিয়ে ৫২তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব শুরু হয়। আজ চলছে দ্বিতীয় দিন। এ দিনেও হিমেল হাওয়া আর কনকনে শীত উপেক্ষা করে লাখো মুসল্লি বয়ান, তাশকিল, তাসবিহ-তাহলিলে সময় কাটাচ্ছেন। তাদের আল্লাহু আকবর ধ্বনিতে মুখরিত টঙ্গীর তুরাগতীর।

ইজতেমায় আসা মুসল্লিরা বাংলাদেশ ও ভারতের তাবলীগ জামাতের শীর্ষ আলেমদের বয়ান শুনছেন। বয়ানের মূল বিষয়, নিজে ইসলামের পথে চলা এবং অন্যদের ইসলামের পথে চলার দাওয়াত দেওয়া। কালেমার দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া। আগামীকাল সকালে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই পর্ব।

আরও এক মুসল্লির মৃত্যু
বিশ্ব ইজতেমায় যোগ দিতে এসে শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে তারা মিয়া নামে আরও এক মুসল্লির মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। এ নিয়ে এবারের ইজতেমায় মোট সাতজনের মৃত্যু হলো।

এর আগে গত দুই দিনে ইজতেমায় যোগ দিতে আসা ছয় মুসল্লির মৃত্যু হয়। তারা হলেন, ফেনীর দাগনভূইয়ার বাবুল মিয়া, মানিকগঞ্জের সাহেব আলী, কক্সবাজারের হোসেন আলী, সাতক্ষীরার আব্দুস সাত্তার, টাঙ্গাইলের ধনবাড়ির জানু ফকির এবং ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার ফজলুল হক। বিশ্ব ইজতেমার মুরব্বি গিয়াস উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিরাপত্তার চাদরে ইজতেমা ময়দান
আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে ইজতেমা ময়দানে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা। রবিবার প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতে ভিআইপি ও ভিভিআইপিরাও অংশ নেবেন।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদ বলেন, মুসল্লিদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ বেশ তৎপর রয়েছে। সিসিটিভির মাধ্যমে ইজতেমা ময়দান ও আশপাশের এলাকা সার্বক্ষনিক মনিটরিং করা হচ্ছে। যে কোনো ধরনের নাশকতা মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে সাদা পোশাকে গোয়েন্দা বাহিনীর কয়েক হাজার সদস্য। মুসল্লিদের বাড়ি ফেরা পর্যন্ত তাঁরা এখানে দায়িত্ব পালন করবেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম