সংবাদ শিরোনাম

 

দেখতে দেখতে তিন বছর পেরিয়ে এসেছে বর্তমান সরকার। গণমাধ্যমে সরকারের এই তিন বছরের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। রাজনৈতিক বিরোধীরা ছাড়া বেশির ভাগ মানুষ মনে করে, এই সময়ে সরকারের সাফল্যের পাল্লাই ভারী। পদ্মা সেতুর কাজের অগ্রগতি এর মধ্যেই ৪০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের সেতুকেন্দ্রিক স্বপ্ন ক্রমেই বাস্তবতার ছোঁয়া পাচ্ছে। পায়রা সমুদ্রবন্দর সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে। বিদ্যুতে দেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির অবস্থাও বেশ ভালো। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থেকেও দেশ এখন অনেকটাই মুক্ত। জঙ্গি কর্মকা- যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে। ফলে বর্তমান সরকারের প্রতি মানুষের এক ধরনের আস্থা তৈরি হয়েছে।
আগের মেয়াদসহ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার মোট আট বছর ধরে ক্ষমতায় রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মূল্যায়নের সময় মানুষ পুরো সময়টাকেই বিবেচনায় নিয়ে থাকে। অনেকের মতে, এই সময়ে বাংলাদেশ যে উন্নতি করেছে, স্বাধীনতা-পরবর্তীকালে কখনো এমন ধারাবাহিক ও সার্বিক উন্নয়ন দেখা যায়নি। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের জল ও স্থল সীমান্ত নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিরোধ চলে আসছিল। এ সময়ে ভারতের সঙ্গে স্থল সীমান্ত বিরোধ মীমাংসার ফলে ছিটমহলগুলোর ‘বন্দি’ বাসিন্দারা মুক্তিলাভ করেছে। সমুদ্রে অফুরন্ত সম্পদের হাতছানি থাকলেও মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সীমানা বিরোধের কারণে সেই সম্পদ আহরণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া যায়নি। ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে এবং ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তি হওয়ায় বাংলাদেশ এক লাখ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গকিলোমিটার জলসীমায় অর্থনৈতিক কর্মকা- পরিচালনার একচ্ছত্র অধিকার পেয়েছে। এই সময়ে বাংলাদেশ খাদ্য উৎপাদনে স্বনির্ভর হয়েছে। আমদানির বদলে বাংলাদেশ এখন সীমিত পরিসরে চাল রপ্তানিও করতে পারে। অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের তালিকায় চলে এসেছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অনেক কমেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। রপ্তানি আয়ে রীতিমতো উল্লম্ফন ঘটেছে। শুধু পায়রা বন্দর নয়, অন্য দুটি বন্দরেরও অনেক আধুনিকায়ন করা হয়েছে। পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়া মোংলা বন্দরের ঘষিয়াখালী চ্যানেল খনন করে আবার চালু করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়ক চার লেন করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে ডাবল লাইন করার কাজ শেষ পর্যায়ে। মার্চ মাসের মধ্যে ডাবল লাইন চালু করা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। রূপপুরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল সৃষ্টির কাজও দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন এবং জ¦ালানি ও বিদ্যুৎ সহজলভ্য হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগ ক্রমে বেড়ে চলেছে। সঙ্গে বাড়ছে কর্মসংস্থানের সুযোগ। সব মিলিয়ে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের আট বছরকে মানুষ ইতিবাচকভাবেই মূল্যায়ন করছে। কিছুকিছু ব্যর্থতা যে নেই তা নয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সৃষ্টি, গণতান্ত্রিকব্যবস্থা জোরদার করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতি কমিয়ে আনা, শিক্ষার মানোন্নয়নসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি থাকলেও সরকারের এখনো অনেক কিছু করার রয়েছে। আমরা আশা করি, জনপ্রত্যাশার সঙ্গে সংগতি রেখে সরকার তার বাকি সময়টাতেও একইভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে সচেষ্ট থাকবে।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম