সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর স্থগিতের বিষয় প্রশ্নে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী জবাব দিলেন ইঙ্গিতে, প্রবাদে। গত ডিসেম্বর এই সফর হওয়ার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী শেষমেশ যাননি দেশটিতে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য আসেনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। এই বিষয়েই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন সাংবাদিকরা।

ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের বৈঠকে যোগ দিতে রবিবার সুইজারল্যান্ডে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এই সফরের বিষয়ে শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় সাংবাদিকরা তার কাছে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে জানতে চান।

হাঙ্গেরি সফর শেষে গত ৩০ নভেম্বর দেশে ফেরার পর তার ভারতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের কিছুদিন আগে এই সফর স্থগিতের খবর পাওয়া যায়। কেন স্থগিত হয়েছে এই সফর, প্রধানমন্ত্রী কবে ভারত যাবেন-এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো বক্তব্য দেয়নি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ঠিক হয়েছে কি না। জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি একটি স্পর্শকাতর বিষয়। এটা নিয়ে এই ফোরামে বলা ঠিক হবে না।’

পরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফরে জাপানের এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উদাহরণে টেনে মন্তও্রী বলেন, ‘আমি ওই সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে বলেছিলাম- দিলে রজনী ঘিরে। আমার সেই উত্তর এই প্রশ্নের জবাবেও খাটে- দিলে রজনী ঘিরে।’

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের অনুপ্রবেশ নিয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারের বৈঠকের পর কতটুকু অগ্রগতি হলো-এমন প্রশ্নও এড়িয়ে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘এই ইস্যুতে অনেক কিছুই বলা হয়েছে। আর কী বলবো। আপনারা দেখেন পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়। পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য অপেক্ষা করুন। আর মিয়ানমার এই ইস্যুতে কি বলে সেদিকে নজর রাখুন। গতকালও তারা একটি বিবৃতি দিয়েছে সেটি দেখলে অনেক কিছু আপনারা বুঝবেন, জানতে পারবেন। এই ইস্যুতে আপনারা স্টাডি করেন।’

প্রধানমন্ত্রীর সুইজারল্যান্ড সফর
আগামী ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের ডাভোস শহরে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) এর ৪৭ তম বার্ষিক সভা। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেবে।

এই সভায় যোগ দিতে রবিবার ঢাকা ত্যাগ করে ২১ জানুয়ারি দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় ৪৫টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান অংশ নেবেন। অংশ নেবেন জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব এন্তোরিও গুটারেস।

মন্ত্রী জানান, এবারই প্রথম ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামে বাংলাদেশের কোন নির্বাচিত সরকার প্রধানকে এই অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে এই আমন্ত্রণ বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশের শক্তিশালী ভূমিকা ও অবস্থানকে প্রতিফলিত করে।

ডব্লিউইএফ সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক একটি বেসরকারি সংস্থা যা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে বিশ্ব বাণিজ্য বৃদ্ধি ও প্রসারে নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে থাকে। সমসাময়িক বিশ্ব-রাজনীতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা নিরূপণ এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি-প্রকৃতি, নিয়ামক ও করণীয় বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উদ্ভাবনী ধারণা, পন্থা এবং সমাধানের উপায় ব্যাপক আলোচনার মধ্য দিয়ে খুঁজে বের করা সংস্থাটির মূল উদ্দেশ্য।

মন্ত্রী জানান বৈশ্বিক এবং আঞ্চলিক পর্যায়ে শিল্প, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা বিষয়ক অগ্রগতি ও করণীয় সম্পর্কে এ সভায় আলোচনা হবে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তি ও ক্ষেত্রসমূহ এ সভার মধ্যদিয়ে আরো মজবুত ও প্রসারিত হবে।

সভায় পানি অর্থনীতি, টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, তথ্য প্রযুক্তি এবং নারী নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন বিষয়ে বিভিন্ন প্লেনারি ও প্যানেল সেশনে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এই সফরের মাধ্যমে বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, উদার, গণতান্ত্রিক ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে আরো একবার তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের ফলে এ সম্মেলনটি বিশ্বের শীর্ষ বহুজাতিক কোম্পানি, ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধকরণের ক্ষেত্রেও প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা মনে করি।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সচিব শহীদুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম