সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপিকে ঠেকাতেই সড়কে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘গণতন্ত্র ক্রমাগত সংকোচনের ধারায় এটি আরেক ধাপ অগ্রগতি’ হিসেবে দেখছেন।

রবিবার বিকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন রিজভী।

রাস্তায় রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে কয়েকদিন তীব্র যানজটের পর শুক্রবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানান, এখন থেকে মূল সড়কে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি করা যাবে না। এটা তার নয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বলেও জানিয়ে দেন ওবায়দুল কাদের।

এর আগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন কর্মদিবসে রাজধানীতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ওবায়দুল কাদের জানান, কেবল ছুটির দিন মিছিল করার কথা চিন্তা করছেন তারাও।

তবে এই নির্দেশনার নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেছেনন, ‘মূলতঃ বিএনপির সভা-সমাবেশ বানচাল করার জন্যই এই আদেশ দেয়া হয়েছে।বিএনপি মনে করে মানুষের প্রতিবাদের ভাষা কেড়ে নেয়ার জন্যই এই আদেশ।’ব

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) মানবাধিকার প্রতিবেদন নিয়েও কথা বলেন রিজভী। বলেন, এই সংস্থাটি যা বলেছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি তার চেয়ে ভয়াবহ।

রিজভী বলেন, ‘বাংলাদেশে বিরোধী দলের ওপর যে নির্যাতন-নিপীড়ন চলছে তা দেশি-বিদেশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার তুলে ধরলেও সরকার তাদের জুলুম-পীড়ন অব্যাহত রেখেছে। মানবাধিকার কর্মীরা যত সত্য চিত্র তুলে ধরুক না কেন, তাতে জনবিচ্ছিন্ন সরকারের কিছুই যায় আসে না।’

সরকারের অনাচার-অবিচারের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেকসহ বাংলাদেশের জনগণ সোচ্চার হতে শুরু করেছে বলেও দাবি করেন রিজভী। বলেন, ‘নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে জনগণ শিগগিরই তুমুল গণ-আন্দোলন শুরু করবে।’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে জনগণের দাবি উপেক্ষা করছে। তারা চায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতোই আরেকটি নির্বাচন দিতে। এ কারণেই তারা ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির দেয়া সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার কথা বলছেন।

রিজভী বলেন, রাষ্ট্রপতি যদি বিএনপির পরামর্শ বিবেচনায় না নিয়ে কেবল আওয়ামী লীগের পরামর্শ বিবেচনা করেন, তাহলে নির্বাচন কমিশন একতরফা গ্রহণযোগ্য হবে না। তার অধীনে নির্বাচন হলে তা ‘ফলস’ নির্বাচন হবে। ওই নির্বাচন কমিশন জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না। বরং নির্বাচন কমিশনকে জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে।

রিজভী বলেন,আওয়ামী লীগ যদি রাষ্ট্রপতির কাছে কানে কানে বলে যে ‘আপনি তো আমাদের দলের লোক, আমরা যেভাবে বললো আপনি সেভাবেই করবেন’ তাহলে এদেশে কখনও শান্তি স্বস্তি আসবে না।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম