সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : টেকসই উন্নয়নে জেলা পরিষদ কার্যকরী ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের রূপকল্প-২০২১ এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ ও দারিদ্র বিমোচনে জেলা পরিষদ অধিক কার্যকরী ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।’

বুধবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, জেলা পরিষদের কার্যক্রম আরও সুসংহত, শক্তিশালী এবং গণমুখী করতে দেশের ৬১টি জেলা পরিষদে নির্বাচন হয়েছে, যার জেলা পরিষদের ১৩১ বছরের ইতিহাসে প্রথম। নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়েছেন তারা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবেন।

মোশাররফ হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃণমূল পর্যায়ে গণতন্ত্র চর্চাকে সুসংহত করতে চান। এজন্য জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে তিনি স্থানীয় সরকারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ কারণে আমি বিশ্বাস করি জেলা পরিষদ নির্বাচন চলমান প্রক্রিয়ার গণতান্ত্রিক চর্চা শুধু বেগবানই করবে না, গণতন্ত্রের শেকড় আরও গভীরে নিয়ে যাবে।

মন্ত্রী বলেন, ‘জেলা পরিষদ বাংলাদেশের স্থানীয়সরকার প্রতিষ্ঠাগুলোর মধ্যে প্রাচীনতম জনসমাদৃত একটি প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠান শহর ও গ্রামাঞ্চলের জনগণের সার্বিক উন্নয়ন ও সেবায় নিয়োজিত। আমাদের সমাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা উত্থান-পতন সত্ত্বেও জেলা পরিষদের কার্যক্রম কখনও থেমে যায়নি। বরং নতুন নতুন ক্ষেত্র সংযোজিত হয়েছে। জেলা পরিষদই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যা তার আর্থিক ক্ষমতার মধ্যে প্রত্যন্ত অঞ্চলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে কার্যকরী অবদান রেখে চলেছে। জেলা পরিষদের মাধ্যমে গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মন্দির-গীর্জা-প্যাগোডা প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।’

লিখিত বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, ‘বৃটিশ উপনিবেশিক শাসনকালে ১৮৭০ সালে চৌকিদারী আইন পাশের মাধ্যমে পল্লী অঞ্চলে এক স্তর বিশিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয়। এ আইনের অধীনে কয়েকটি গ্রামকে ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত করে প্রতিটি ইউনিয়নের ৫ সদস্যে বিশিষ্ট পঞ্চায়েত গঠন করা হতো। জেলা ম্যজিস্ট্রেট কর্তৃক পঞ্চায়েতের সকল সদস্যকে ৩ বছরের জন্য নিয়োগ করা হতো। পঞ্চায়েত গঠনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ঔপনিবেশিক আইন শৃঙ্খলা রক্ষা এবং রাজস্ব আদায়।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘১৮৮৫ সালে লোকাল সেলফ গভর্নমেন্ট অ্যাক্ট প্রণীত হয়। এর আওতায় তৎকালীন বেঙ্গল জেলা বোর্ড গঠিত হয়। ১৮৮৬ সালে প্রত্যেক জেলায় প্রত্যেক মহাকুমায় লোকাল বোর্ড গঠিত হয়। এ লোকাল বোর্ডই ডিস্ট্রিক্ট বোর্ডের নির্বাচকমন্ডলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতো। ১৯৭২ সালে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে জেলা প্রশাসককে এর প্রশাসক করে ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল কার্যাবলী পরিচালনা ও তত্ত্বাবধায়নের ক্ষমতা অর্পন করা হয়। ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলের স্থলে জেলা বোর্ড নামকরণ হয়। ১৯৭৬ সালে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে জেলা বোর্ডের নামকরণ হয় জেলা পরিষদ।’

দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্যের আগে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী দ্বিতীয় দফায় বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা- চার বিভাগের ৬১১জন জেলা পরিষদ সদস্যকে শপথ বাক্য পাঠ করান। এর আগে সকালে প্রথম দফায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ- বিভাগের ৫৫৮ জন জেলা পরিষদ সদস্যকে শপথ পড়ান তিনি।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম