সংবাদ শিরোনাম

 

ক্রীড়া ডেস্ক : নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ দল। ক্রাইস্টচার্চের হেগলি ওভালে শুক্রবার (২০ জানুয়ারি) টসে হেরে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় স্বাগতিক নিউজিল্যান্ড। এটাই বাংলাদেশের এই সফরে শেষ ম্যাচ। ওয়ানডে ও টি২০ সিরিজ আগেই নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিকরা। এখন টেস্ট সিরিজেও প্রথম ম্যাচ জিতে এগিয়ে রয়েছে কেন উইলিয়ামসনের দল।

বাংলাদেশ সব উইকেট হারিয়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৮৪.৩ ওভারে সংগ্রহ করেছে ২৮৯ রান।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা তেমন ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ৩৮ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে বসে তারা। অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক করতে নামা তামিম ইকবাল এদিন দিনটি নিজের করে রাখতে পারেননি। মাত্র ৫ রানেই ফিরে গেছেন সাজঘরে। এরপর মাহমুদউল্লাহ উইকেটে আসলে তিনিও হাল ধরতে পারেননি দলের। ২৪ বলে ৩টি চারের মারে ১৯ রান করে ফিরে গিয়েছেন তিনিও।

তবে একপ্রান্ত থেকে সৌম্য সরকার উইকেট আগলে রেখেছিলেন। তার ব্যাটেই সচল দলের রানের চাকা। মাহমুদউল্লাহ ফিরলে সাকিব উইকেটে যোগ দেন সৌম্যর সঙ্গে। এ দুজন দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তুলেন।

দারুণ ব্যাটিং করে দলকে চাপমুক্ত করে চলেছিলেন সৌম্য। দারুণ সব শট খেলে মাত্র ৫৪ বলেই তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি ৭টি চারের সাহায্যে এ রান করেন তিনি।

সাকিবের সঙ্গে জুটি গড়ে সৌম্য ভালোই আক্রমণই করছিলেন। তবে সেঞ্চুরি থেকে ১৪ রান দূরে থাকতে ফিরতে হয় সৌম্যকে। শুরু থেকে দারুণ আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেছেন তিনি। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের স্থির হতে দিচ্ছিল না তার আগ্রাসি মনোভাব। তবে টেস্ট ক্যারিয়ারের সেঞ্চুরির দেখা পাওয়ার আগ মুহূর্তেই ট্রেন্ট বোল্টের আঘাতে ফিরে যান সৌম্য। কিউই পেসারের বলটি একটু আলসে ভঙ্গিতে পুশ করতেই শর্ট কভারে ডাইভিং ক্যাচে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম আউট করে দেন সৌম্যকে (৮৬)। ১০৪ বলের ইনিংসটিতে ১১টি চার মেরেছেন সৌম্য। তার আউটের মধ্যে দিয়ে সাকিবের সঙ্গে ১২৭ রানের জুটি থামে তার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।

সৌম্য ফিরে গেলে সাব্বির যোগ দেন সাকিবের সঙ্গে। এ দু’জনের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল দল। তবে এদিন হতাশ করে মাত্র সাব্বির মাত্র ৭ রানেই ফিরে গিয়েছেন। এরপর দলে আর মাত্র ২ রান যোগ করতেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন সাকিবও। আউট হওয়ার আগে তার সংগ্রহ ৭৮ বলে ৯টি চারের মারে ৫৯ রান।

নির্ভরযোগ্য ব্যাটসম্যানরা সব একে এক ফিরে গেলে দলের হাল ধরেন অভিষিক্ত দুই ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান সোহান ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ভালোই এগিয়ে নিয়ে চলছিলেন তার দলকে। এ দুজনের জুটি থেকে দলে রান আসে ৫৩ রান। তবে টিম সাউদির আঘাতে শান্ত (১৮) ফিরে গেলেও উইকেট কামড়ে পড়ে ছিলেন নুরুল হাসান।

নিজের অভিষেকেই দারুণ খেলছিলেন নুরুল হাসান। হাঁটছিলেন প্রথম হাফসেঞ্চুরির দিকেও। তবে ব্যক্তিগত ৪৭ রানে ট্রেন্ট বোল্ট তাকে পথ ধরান প্যাভিলিয়নের। এর আগে মেহেদী হাসান মিরাজ (১০) এবং তাসকিন আহমেদও (৮) একে একে ফিরেছেন সাজঘরে।

শেষ উইকেট জুটিতে কামরুল ইসলাম রাব্বি ও রুবেল হোসেন ভালোই খেলছিলেন। রাব্বির ব্যাট থেকে রান না আসলেও রুবেল ৩টি চারের মারে ২১ বল খেলে ১৬ রান যোগ করেন। এরপর দশম উইকেট হিসেবে রাব্বি আউট হলে প্রথম ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। রাব্বি ৬২ বলে ২ রান সংগ্রহ করেন। আর বাংলঅদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮৪.৩ ওভারে ২৮৯ রান।

কিউইদের হয়ে ৫টি উইকেট নিয়েছেন টিম সাউদি। আর ট্রেন্ট বোল্ট নিয়েছেন ৪টি উইকেট। বাকি একটি উইকেট পেয়েছেন নিল ওয়েগনার।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম