সংবাদ শিরোনাম

 

ঢাবি প্রতিনিধি : সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কে বিভেদের ওয়াল উঁচু হচ্ছে বলে মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই বিভেদ কোনোদিন কারও জন্য ভাল না। বিভেদের দেয়ালের বদলে সম্পর্কের সেতু তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল এলামানাই এসোসিয়েশনের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একসময় জাতীয় প্রেসক্লাবে কোন ওয়াল ছিল না, এখন সেখানেও ওয়াল। ঢাকায়ও ওয়াল, মফস্বলেও ওয়াল। আজকে আইনজীবী, চিকিৎসকদের মধ্যে এইসব সেবামূলক বিষয়গুলো যেখানে আছে সেখানেও ওয়াল আর ওয়াল। এটা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য শুভ নয়।’

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ‘আজকে খুবই উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করি যে, আমাদের সম্পর্কের সামাজিক সম্পর্ক, রাজনৈতিক সম্পর্কে বিভেদের ওয়াল উঁচু হচ্ছে। সম্পর্কের সেতু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। শুধু ওয়াল হচ্ছে এটা কোনদিনই আমাদের কারো জন্য ভাল না।’ তিনি বলেন, ‘রাজনীতিকে আমরা যদি মনে করি পালাবদলের খেলা সেটা শুভ নয়, রাজনীতি পালাবদলের অংশ নয়, রাজনীতি মানুষের জন্য রাজনীতি ক্ষমতাবদলের হাতিয়ার না। রাজনীতি মানুষের সেবা করার, কল্যাণ করার হাতিয়ার।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সব সময় মানবিক বিষয়কে প্রাধান্য দিতেন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধু চট্রগ্রামে গিয়ে লালদীঘী ময়দানে ছয় দফার উপর জনসমাবেশ করেছেন। কিন্তু রাতে তার বিরুদ্ধ রাজনৈতিক নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর বাসায় দেখা করেছেন, চা খেয়েছেন। এতে কি তিনি আদর্শচ্যুত হয়ে গেছেন? এমনও দেখেছি, একাত্তরের পর অনেকেই স্বাধীনতাবিরোধীদের সঙ্গে সুব্যবহার করেননি। তাদের বিষয়েও চুপি চুপি বঙ্গবন্ধু খোঁজ খবর নিয়েছেন। কারণ, বঙ্গবন্ধু মানবিক দিকটা দেখতেন। এটাকে অগ্রাহ্য করার কোন উপায় নেই।’

বর্তমান সময়ে সাম্প্রদায়িকতাকে সবার জন্য বিপদ হিসেবে বলে বর্ণনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন সবার শত্রু হলো দরিদ্র্য। এটা প্রতিহত করতে না পারলে আমাদের আমাদের অবিনাশী চেতনা ব্যাহত হবে।

মাদকের বিরুদ্ধে লড়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশের গ্রামে গ্রামে ইয়াবা পৌঁছে গেছে। এসব সেবনে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। যদি এটা রোধ করা না যায় তবে একটা প্রজন্ম হারিয়ে যাবে।’

রাজনীতিকদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনারা শুধু রাজনৈতিক বক্তৃতা করবেন না। মাদকের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন গড়ে তুলবেন। নিজ নিজ এলাকাকে মাদক মুক্ত করে তুলবেন। মনে রাখবেন তথাকথিত রাজনীতিকরা সময় পরবর্তী নির্বাচনের কথা ভাবে। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভাবেন।’

বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সমান অধিকার আছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনারা কেউ নিজেদের মাইনিরিটি ভাববেন না। সংবিধান ও সরকার আপনাদের পাশে আছে। তাই কোনো আঘাত আসলে পালটা আঘাত দেওয়ার মানসিকতা রাখবেন।’

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, যুব ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে আজাদ। বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সাংস্কৃতি সম্পাদক অসীম কুমার উকিলসহ এসোসিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম