সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রযুক্তিখাতে বাংলাদেশের কার্যক্রম ও অগগ্রতির চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ অগ্রগতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন উদীয়মান বৈশ্বিক জ্ঞানের অর্থনীতিতে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) স্থানীয় সময় বিকেলে সুইজারল্যান্ডের দাভোসের একটি হোটেলে ‘ডিজিটাল লিডার্স পলিসি মিটিং অন জবস’ শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতাকালে তিনি এ কথা বলেন।  বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ৪৭তম বার্ষিক সভায় অংশ নিতে পাঁচ দিনের সফরে সুইজারল্যান্ডে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আলোচনায় শেখ হাসিনা বলেন, প্রযুক্তির কল্যাণে আমাদের জীবনযাত্রার উন্নয়ন হচ্ছে, হচ্ছে সহজতর। বিশ্বায়নের এ যুগে আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, যেন প্রত্যেকেই বিশ্বের এই ইতিবাচক পরিবর্তনের সুফল পায়। এই যাত্রায় আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যেন প্রযুক্তি মানুষের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নকে সীমিত করার কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।
এসময় বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের রূপকল্প ২০২১ ও মেগা রূপকল্প ২০৪১ এর কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অনেক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আমরা ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার সংকল্প বাস্তবায়ন করতে চলেছি।
“আমরা চাই আমাদের লাখো তরুণ আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রাযুক্তিক জ্ঞান-দক্ষতা রপ্ত করে নিজেদের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখুক। আমাদের লক্ষ্য সমাজ এবং বাইরের বিশ্বের সঙ্গে আমাদের জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত ব্যবধান কমিয়ে তাতে সেতুবন্ধন তৈরি করা।”
প্রযুক্তি ও তারুণ্যের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ৩ দশক বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর বড় অংশ হবে তারুণ্য। এখন আমাদের জনগোষ্ঠীর এক তৃতীয়াংশেরই বয়স ১০-২৪ বছরের মধ্যে। আমাদের জনগণ যেকোনো প্রযুক্তি সহজেই রপ্ত করতে পারে এবং এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে। এটা আমাদের এগিয়ে চলার পথকে আরও সহজ করছে।
“এখন বিশ্বের মধ্যে সেরা মোবাইল ব্যবহারকারী জনগোষ্ঠীর তালিকায় আমাদের জনগণ দশম। ৬ কোটিরও বেশি মানুষ অনলাইনে আছে, এদের বেশিরভাগই আবার স্মার্টফোন ব্যবহারকারী।”
কৌশলের নিরিখে বাংলাদেশ এখন প্রযুক্তি এবং এ সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন আমাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির (আইসিটি) ওপর উন্নতমানের একটি জাতীয় রোডম্যাপ আছে। যার ফোকাস শিক্ষার জন্য আইসিটি, আইসিটি শিক্ষা নয়। আমাদের লক্ষ্য আমাদের সন্তানদের দক্ষতা বাড়ানো এবং তাদের যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।
প্রজন্মকে প্রযুক্তিবান্ধব করে গড়ে তুলতে মাধ্যমিক পর্যায়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তুলে ধরেন শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল প্লাটফর্ম ‘টিচার্স পোর্টালের’র কথাও।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন ‘মুক্তপথ’ নামে একটি ই-শিক্ষা প্লার্টফর্ম তৈরি করছি। এ প্লাটফর্মটির মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে বাংলাদেশিরা তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করে কর্মসংস্থান তৈরি করে নিতে পারেন। এটা হলো আমাদের তারুণ্যকে এ কর্মমুখী বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় সব ক্ষেত্রে জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতে তার সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্য আইসিটির মাধ্যমে আমাদের যুবগোষ্ঠীকে স্বনির্ভর করে গড়ে তোলা।
“এখন বিশ্বজুড়ে কাজ করা আইটি ফ্রিল্যান্সারদের অন্যতম বড় ক্ষেত্র বাংলাদেশ। আমরা এখন নারী ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছি। জোর দিচ্ছি দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় ফ্রিল্যান্সার তৈরিতেও।”
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন দেশজুড়ে ৪৫০০ ডিজিটাল সেন্টারের কথাও। বলেন, এর ফলে বাংলাদেশের প্রতিটি অলি-গলি এখন একটি অপরটির সঙ্গে সংযুক্ত। সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। মানুষের অর্থ-শ্রম দু’টোই বাঁচছে, কাজের নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
তৃণমূলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা স্বনির্ভর ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’কে উৎসাহিত করছি। এতে দেশজুড়ে ১০ হাজারেরও বেশি উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে, যাদের মধ্যে অর্ধেকই নারী।
‘এভাবেই বাংলাদেশ এখন উদীয়মান বৈশ্বিক জ্ঞানের অর্থনীতিতে নিজের জায়গা করে নিচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী বৈশ্বিক জ্ঞান ও ব্যবসায় সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের লাখো তরুণের মধ্যে সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনক্ষমতা ছড়িয়ে দিতে এলে আমরা অবশ্যই স্বাগত জানাবো। আর এভাবে কাজ করলে নিশ্চিতভাবেই ‘পরস্পরের জয়’ হবে।
এ সেশনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অংশ নেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী এবং তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম