সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর ক্রমবর্ধমান যানজট নিয়ন্ত্রণে ছোট গাড়ির অনুমোদনে কড়াকড়ি আরোপের পক্ষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী। এজন্য সড়ক পরিবহন সংস্থা-বিআরটিএকে নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। মন্ত্রী জানান, পরিবারপ্রতি গাড়ির সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়ে একটি আইন সংসদে তোলার প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার দুপুরে রাজধানীর মানিকমিয়া এভিনিউয়ে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে বিএরটিএ-এর জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী।

রাজধানীর অসহনীয় যানজটের জন্য পরিবহন বিশেষজ্ঞতা অত্যাধিক ব্যক্তিগত গাড়িকে দায়ী করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরেই। ব্যক্তিগত গাড়ি কমিয়ে গণপরিবহন ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও মানসম্মত করার তাগিদও দিয়ে আসছেন তারা। কিন্তু শহরে ট্রেন সেবা না থাকা, বাসে আর ট্যাক্সিক্যাব বা অটোরিকশায় নৈরাজ্যের কারণে সম্পদশালীরা প্রাইভেটকারের দিকে ঝুঁকছেন।

বিআরটিএর হিসাবে রাজধানীতে প্রাইভেট কারের সংখ্যা দুই লাখ ৩৬ হাজারেরও বেশি। এর বাইরে প্রতিদিন যোগ হচ্ছে ৫৩টি, যা রাজধানীর অসহনীয় যানজটকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সরকার প্রাইভেট কার কমিয়ে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর কথা বললেও কাঙ্ক্ষিত মান নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তা ছাড়া যেখানে সেখানে বাস দাঁড়ানো, যাত্রীর জন্য ডাকাডাকিসহ নানা কারণে যানজটও বাঁধাচ্ছে এই বাহনগুলো।

তবে সরকার বাসের সেবা বাড়ানো, বাসের চলার জন্য আলাদা লেন ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট চালু, মেট্রোরেল চালু প্রভৃতি উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি চলছে মেট্রোরেলের কাজ। সড়কমন্ত্রী বলছেন, এসব কাজ শেষ হলে প্রাইভেট কারের ব্যবহার সীমিত হবে।

এক পরিবারে একাধিক প্রাইভেট কারের নিবন্ধন না দেয়ার কথা সংসদসহ একাধিক স্থানে বলেছেন সড়কমন্ত্রী। বিষয়টি জাতীয় সমন্বিত বহু মাধ্যমভিত্তিক পরিবহন নীতিমালায় অন্তর্ভুক্তও করা হয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘গাড়ি ব্যবহারে আমাদের সবাইকে সর্তক এবং সংযমী হতে হবে। পরিবার প্রতি গাড়ি ব্যবহার সীমিত করতে হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিদিন ছোট গাড়িকে লাইসেন্স দেয়ার পরিমাণ বাড়ছে যা খুবই এলার্মিং। বিআরটিএ চেয়ারম্যানকে আমি নির্দেশ দিচ্ছি যেন ছোট গাড়ির লাইসেন্স যেন খোঁজ খবর নিয়ে দেয়া হয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ছোট ছোট গাড়ি ব্যাপক পরিমান চলতে দেখা যায়। এতে সড়কে অসহনীয় যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। সুতরাং কোন রাস্তায় দিয়ে কী গাড়ি চলবে, কী চলবে না এগুলো বিবেচনায় আনতে হবে।’

যানজট নিরসনে মোটরসাইকেলের ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে সরকার। এজন্য এই দ্বিচক্র যানটি আমদানিতে কমানো হয়েছে শুল্ক। যার প্রভাবে সম্প্রতি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দাম কমেছে বাহনটির। সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘মোটরসাইকেল চলাচলে উন্নতি হচ্ছে। এখনকার বেশির ভাগ মোটরসাইকেলে যাত্রী দুইজন। এর একজনের অবশ্যই হেলমেট থাকে। বিষয়টি আস্তে আস্তে মানুষের অভ্যাস গড়ে উঠবে।’

মোটরসাইকেলের সব আরোহীকেই হেলমেট পড়ার তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক লোকদের যারা মোটর সাইকেলে চলাচল করে, তাদের অধিকাংশের হেলমেট ব্যবহার করে না। এদের অধিকাংশই আবার তরুণ।’

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, নারীদের চলাচলের জন্য বিআরটিসির ১৫টি বিশেষ গাড়ি রয়েছে। বিআরসির বহরে নতুন গাড়ি যোগ হলে সেখান থেকেও নারীদের জন্য গাড়ি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিআরটিএর চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান, পরিচালক (প্রশাসন) নাজমুল আহসান মজুমদার।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম