সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করায় বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে ডেকে ‘ভালো হয়ে যেতে’ বলেছে আওয়ামী লীগ। আরও কয়েকজন সংসদ সদস্যকেও ডেকেও সাবধান করে দেবে ক্ষমতাসীন দলটি। বলা হয়েছে, কারও বিরুদ্ধে অপকর্মের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে অ্যাকশন হবে সঙ্গে সঙ্গে।

রবিবার রাজধানীতে যুবলীগের এক অনুষ্ঠানে এই কথা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গুলিস্তানে মহানগর নাট্যমঞ্চে ২০ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

ক্ষমতাসীন দলের বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধেই নানা সময়ে অপকর্মে জড়ানোর অভিযোগ ‍উঠেছে। এর মধ্যে হত্যা মামলায় টাঙ্গাইলের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা এখন কারাগারে। কক্সবাজারের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির সাজা হয়েছে দুর্নীতির মামলায়। বেশ কিছুদিন জেলে থেকে সম্প্রতি তিনি মুক্তি পেয়েছেন। ধর্ম নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্যের পাশাপাশি দলীয় পদ হারিয়েছেন লতিফ সিদ্দিকী। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনায় সংসদ সদস্য র আ ম উবায়দুল মুক্তাদির চৌধুরীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ এসেছে গণমাধ্যমে।

তবে ওবায়দুল কাদের এদের কারও নাম উল্লেখ করেননি। তিনি বলেন, ‘পার্টির নামে কেউ কোনো অপকর্ম করলে তা সহ্য করা হবে না। অলরেডি ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেছি। চার-পাঁচ জন সংসদ সদস্যকে ডেকে ভালো হয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। আরও অনেককে ডাকা হবে।’

গুটিকয়েক মানুষের জন্য সরকারের বা দলের বদনাম হতে পারে না জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘যারা খারাপ কাজ করে তারা তো ক্ষতিগ্রস্ত হবেই, যারা ভালো করবে তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘খারাপ কাজ করলে খারাপ সময়ে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারের শাসনামল ভেবে দেখুন। কয় জন তখন বাড়িঘরে থাকতে পেরেছেন? আর একবার ক্ষমতা হারালে তারা ২০০১ এর থেকেও ভয়ঙ্কর ভয়াল মূর্তি নিয়ে অবতীর্ণ হবে।’

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের শাসনামল তুলে ধরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কিবরিয়া সাহেবের মতো লোক, আহসান উল্লাহ মাস্টার, নাটোরের মমতাজ উদ্দীনের মত ২১ হাজার নেতা-কর্মীকে রক্ত দিতে হয়েছে। তাই এখন সারাদেশে অপকর্ম যারা করছেন, তাদেরকে বলছি, সতর্ক হয়ে যান।’

শনিবার রাতে রাজধানীর ঢাকা কলেজে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের কথা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘পার্টির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে এমন কিছু করলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশন শুরু হবে। যে দায়ী তাকে গতকালই অ্যারেস্ট করা হয়েছে। সংগঠন থেকেও বহিষ্কার করা হয়েছে।’

আগামী নির্বাচনের জন্য এখনই প্রস্তুতি নিতে দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘ভালো আশা করবো, কিন্তু মন্দের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। জিতেই গেছি, এই মানসিকতা আমাদের ডোবাবে।’

ভোটে জেতার জন্য সরকার যথেষ্ট উন্নয়ন করেছে বলেও দাবি করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘উন্নয়নের অর্জনে কোনো ঘাটতি নেই। ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্টে বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তানসহ অনেক দেশ থেকে এগিয়ে। উন্নয়নে বাংরাদেশ আজ সারা বিশ্বের বিস্ময়।’

নতুন ইসি নিরপেক্ষ হবে
আগামী মাসের শুরুতে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের নিয়োগ শেষে যে নির্বাচন কমিশন নিয়োগ পাবে তারা নিরপেক্ষ হবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি বিএনপি বা আওয়ামী লীগপন্থি কাউকে নয়, একজন নিরপেক্ষ লোককেই সিইসি নিয়োগ দেবেন।’

শনিবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, নির্বাচন কমিশনে দলীয় লোক বসালে জনগণ তা মানবে না। খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের জবাবও দেন ওবায়দুল কাদের। বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে কী কেলেঙ্কারি হয়েছিল তা স্মরণ করার পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আজিজ মার্কা ইসি আপনি করেননি? এম এ আজিজ আপনাদের লোক ছিল না? কে এম হাসান কি বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন না? তাকে তো আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান বানাতে চেয়েছিলেন। এরা কতটা নিরপেক্ষ ছিলেন? এখন বিএনপি নেতারা যাদের নাম বলছেন, তারা কি কোনো পক্ষের নয়?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সরকারের ইচ্ছায় কোনো ইসি নিয়োগ নয়-আপনার এই বক্তব্যের সঙ্গে আমিও একমত। শেখ হাসিনারও কোনো ইচ্ছা নেই। রাষ্ট্রপতি যে নাম দেবেন, সেখানে আওয়ামী লীগের কোনো লোক থাকবে না।’


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম