সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে মুসল্লিদের স্রোত এখন তুরাগমুখী। সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত হবে এবারের বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় ও শেষ পর্বের আখেরি মোনাজাত। এতে অংশ নিতে লাখো মানুষ জড়ো হয়েছেন ইজতেমা ময়দানে।

মোনাজাতের আগে সকাল সাড়ে আটটা থেকে শুরু হয়েছে হেদায়তি বয়ান। তাবলিগ জামাতের শীর্ষ মুরব্বি দিল্লীর হযরত মাওলানা সা’দ আহমেদ উর্দুতে বয়ান দিচ্ছেন। তার বয়ান অনুবাদ করে শোনাচ্ছেন বাংলাদেশের মাওলানা ওমর ফারুক। বয়ান শেষে মাওলানা সা’দ আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করবেন। প্রথম পর্বের আখেরি মোনাজাতও পরিচালনা করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশের লাখো লাখো মুসল্লি ছাড়াও বিশ্বের ৯৫ দেশের কয়েক হাজার মুসল্লি আখেরি মোনাজাতে অংশ নিচ্ছেন।

৫২তম বিশ্ব ইজতেমার আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবারই ইজতেমা ময়দান কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়। আজ সকাল আটটার মধ্যেই টঙ্গী শহর, ইজতেমাস্থল এবং এর আশপাশ এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। যত দূর চোখ যায় শুধু মানুষ আর মানুষ। মোনাজাতে শরিক হতে পুরুষের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক নারী ও শিশুর টঙ্গী, ঢাকার উত্তরা ও এর আশপাশের এলাকার বিভিন্ন অলিগলিতে অবস্থান নিয়েছেন। মূল প্যান্ডেলে জায়গা না পেয়ে নিজ উদ্যোগেই তারা প্যান্ডেলের বাইরে পলিথিন শিট ও কাপড়ের শামিয়ানা টানিয়ে ইজতেমায় শরিক হয়েছেন। অনেকে তাঁদের আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে উঠেছেন। লাখো মুসল্লির পদভারে মুখর হয়ে উঠেছে টঙ্গীর তুরাগতীর। মোনাজাত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিড় অব্যাহত থাকবে। ইজতেমার শেষ দফায় ঢাকাসহ (একাংশ) দেশের ১৭টি জেলার মুসল্লিরা ২৬ খিত্তায় অবস্থান নিয়েছেন।

মোনাজাত উপলক্ষে মুসল্লিদের সুবিধার্থে শনিবার মধ্যরাত থেকে ওই এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে পুলিশ। রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বিধিনিষেধ বলবত থাকবে। এবারের বিশ্ব এজতেমা নজীরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১২ হাজার র‌্যাব ও পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি রয়েছে সাদা পোশাকে প্রায় ৩ হাজার গোয়েন্দা সদস্য। আকাশ ও নৌপথে রয়েছে র‌্যাবের সতর্ক নজরদারি।

হয়নি যৌতুকবিহীন বিয়ে: প্রতিবছর রেওয়াজ অনুযায়ী বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় দিন বাদ আছর ইজতেমা ময়দানে কনের অনুপস্থিতিতে যৌতুকবিহীন বিয়ের আয়োজন করা হলেও এবারের ইজতেমার তা আয়োজন করা হয়নি। গতবছর থেকে এমন বিয়ের আয়োজন বন্ধ রাখা হয়।

ইজতেমা আয়োজক কমিটির সদস্য প্রকৌশলী মো. গিয়াস উদ্দিন জানান, ইজতেমায় বিয়ে হওয়ায় এলাকার লোকজন এমনকি অনেক স্বজনও তা জানতে পারেন না। ফলে বিয়ের আকর্ষণ কমে যায়। এজন্য গত বছর থেকে ইজতেমা ময়দানে যৌতুকবিহীন বিয়ের ওই আয়োজন হচ্ছে না।

তাশকিলের কামরায় চিল্লাভুক্ত মুসল্লি: ইজতেমার প্যান্ডেলের উত্তর-পশ্চিমে তাশকিলের কামরা স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন খিত্তা থেকে বিভিন্ন মেয়াদে চিল্লায় অংশ গ্রহণেচ্ছু মুসল্লিদের এ কামরায় আনা হচ্ছে এবং তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। পরে কাকরাইল মসজিদের তবলিগি মুরব্বিদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এলাকা ভাগ করে তাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় তবলিগি কাজে পাঠনো হবে।

এদিকে আখেরি মোনাজাত উপলক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের পক্ষ থেকে আখাউড়া, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন রুটে ২৯ বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোগ করা হয়েছে। এছাড়া আখেরি মোনাজাতের আগে ও পরে সকল ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রা বিরতি করবে। দ্বিতীয় পর্বের ২০ জানুয়ারি হতে ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাত পর্যন্ত টঙ্গী থেকে জামালপুর, আখাউড়া, লাকসাম রুটসহ কয়েকটি বিশেষ ট্রেন চলবে। রবিবার আখেরি মোনাজাতের দিন টঙ্গী থেকে ঢাকা, লাকসাম, আখাউড়া, ময়মনসিংহ এবং ঈশ্বরদী রুটে একাধিক বিশেষ ট্রেন যাতায়াত করবে। আখেরি মোনাজাতের পরের দিন টিকেটধারী মুসল্লিরা যাতে উঠতে পারেন সেজন্য সকল ট্রেন টঙ্গী স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেবে।

গত ১৩ জানুয়ারি থেকে এবারের ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ওই পর্ব শেষ হয়।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম