সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে যদি সংকট তৈরি হয় তাহলে তার দায় সরকারের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদকেও নিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি।  রাষ্ট্রপতির এক মাসের সংলাপ শেষে সার্চ কমিটি গঠন নিয়ে যখন আলোচনা চলছে তখন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই কথা বলেন।

রবিবার দুপুরে রাজধানীতে এক আলোচনায় এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মোশাররফ। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনার আয়োজন করে বিএনপির নারী বিষয়ক শাখা জাতীয়তাবাদী মহিলা দল।
আগামী মাসের শুরুতেই শেষ হচ্ছে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ। নতুন যে কমিশন আসছে তার অধীনেই হবে আগামী সংসদ নির্বাচন। এ কারণে এই কমিশন নিয়ে বিশেষ করে বিএনপির মধ্যে আগাম সতর্কতা আছে। নির্বাচন কমিশন গঠন কীভাবে হবে এ বিষয়ে গত ১৮ নভেম্বর ১৩ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করে বিএনপি। এর এক মাস পর ১৮ ডিসেম্বর বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সংলাপে যোগ দেয় বিএনপি।

এর পর এক মাসে আরও ৩০টি দলের সঙ্গে কথা বলেছেন রাষ্ট্রপতি। ১৮ জানুয়ারি সংলাপ শেষে বঙ্গভবনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সব দলের পরামর্শ অনুযায়ী একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠনের বিষয়ে আশাবাদী রাষ্ট্রপতি।

এরপর গত চার দিনে বঙ্গভবনের সিদ্ধান্ত আসেনি। যদিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে  সংবাদ প্রকাশ হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি করে কমিশনে নিয়োগের বিষয়ে নাম চাইবেন।

আগে ১৩ দফা নিয়ে কথা বললেও বিএনপি এখন সার্চ কমিটিতে কাদেরকে নিয়োগ দেয়া হবে-এ নিয়ে চিন্তিত। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপি এবং জনগণ প্রত্যাশা করে রাষ্ট্রপতি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে জনগণের মতামত উপলদ্ধি করে একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য সার্চ কমিটি গঠন করবেন। যারা পরবর্তীতে নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন করবে।’

বর্তমান সরকারের আমলে দেশে ব্যাপক উন্নয়নে বিএনপিরও কৃতিত্ব আছে- গত ১৩ জানুয়ারি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন কথা বললেও খন্দকার মোশাররফ বলছেন অন্য কথা। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় টিকে থাকতে সরকার উন্নয়নের নামে মিথ্যাচার করছে। কারণ গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন টেকসই হয় না। সরকারের কোনো ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ নেই। সর্বক্ষেত্রে অরাজকতা ও দুর্নীতি। এভাবে চলতে থাকলে দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে।’

বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করতে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র অব্যাহত আছে বলেও অভিযোগ করেন মোশাররফ হোসেন।

গণতন্ত্র এখন আওয়ামী লীগের বাক্সে বন্দি এমন মন্তব্য করে মোশাররফ বলেন, ‘জনগণের অধিকার হরণ করা হয়েছে। সরকার জনগণকে ভয় পায়। এজন্যই ভোট দেয়ার পরিবেশ তৈরি করতে চায় না।’

সরকার ব্যর্থতা ঢাকতে মিথ্যাচার করছে এমন মন্তব্য করে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘বিএনপিকে দাবিয়ে রাখতে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকবে বলেও মনোভাব পোষণ করছে। কিন্তু ইতিহাস বলে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করে ক্ষমতা চিরস্থায়ী করা যায় না। কেউ কোনো দিন পারেনি।’

মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে মহিলা দলের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম