সংবাদ শিরোনাম

 

মোঃ রাসেল হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহে বেআইনীভাবে পরিচালিত ইংরেজী মাধ্যম অন্বেষা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের নির্দেশে আজ রবিবার দুপুরে বন্ধ করে দিয়ে জেলা প্রশাসন। পাকিস্তানের দালাল কুখ্যাত মোনায়েম খানের মেয়ে নাসরিন মোনায়েমের প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটিতে মোনায়মে খান শহীদ ও পাকিস্তানের পতাকা চাঁদতারা খচিত করে প্রতিষ্ঠানের সকল কাগজ ও সনদপত্র প্রদান এবং জাতীয় দিবসগুলো পালন না করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করা হয়। জেলা প্রশাসক মোঃ খলিলুর রহমানের নির্দেশে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) মোঃ আঃ লতিফ ও জেলা শিক্ষা অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম বিপুল সংখ্যক পুলিশ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করেন। তবে বিটিশ ভিত্তিক ইংরেজী মাধ্যম পরিচালিত এ প্রতিষ্ঠানের ১৭৯জন শিক্ষার্থী যাতে ছাড়পত্র নিয়ে অন্য কোথাও ভর্তির সুযোগ পায় সে লক্ষ্যে আগামী সাত দিন অফিস খোলা রাখার নির্দেশ দেন। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কৌশলে এক মাসের জন্য স্কুল বন্ধের নোটিশ জারী করা হয়। এ খবরে তাৎক্ষনিক হতাশাগ্রস্থ অভিভাবক, শিক্ষার্থীরা এসে ভীড় জমায়।
প্রাপ্ত তথ্যে, জানা গেছে, তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানে গভর্নর মোনায়েম খানকে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধারা ঢাকায় হত্যা করে। এর পর থেকে মোনায়েম খানের মেয়ে নাসরিন মোনায়েম খান তার পিতাকে মুক্তিযোদ্ধা এবং পাকিস্তানীরা হত্যা করেছে তা প্রমান করতে নানা কৌশলে চেষ্টা করতে থাকে। সুচতুর নাসরিন খান ২৬ বছর পর ১৯৯৬ সালে ময়মনসিংহ শহরের সাহেব আলী রোডে তাদের নিজ বাড়ীতে অন্বেষা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজ প্রতিষ্ঠা করে। প্রতিষ্ঠানটির সকল দাপ্তরিক কাগজ ও পত্রে শহীদ মোনায়েম খান হিলালী অব পাকিস্থান লেখা এবং মনোগ্রামে চাঁদতারা খচিত প্রতীক ব্যবহার করে আসছে। বিটিশ বিত্তিক পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটিতে কোন ধরণের জাতীয় দিবস পালন ছাড়াই গত ২১ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করে আসছেন কুখ্যাত মোনায়েম খানের মেয়ে ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ নাসরিন মোনায়েম খান।

IMG_0792
শিক্ষানগরী ময়মনসিংহে ইংরেজী লেবেলে পাঠদানরত একটি প্রতিষ্ঠানে কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধীকে মুক্তিযোদ্ধা বলে প্রচার, পাকিস্তানীদের দুসর হিসাবে অতিগোপেেন চারদিকে বেস্টনী দিয়ে পাঠদানের আড়ালে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করণ, স্বাধীন বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চাঁদতারা খচিত মনোগ্রাম, জাতীয় দিবসগুলোসহ কোন দিবসে জাতীয় প্রতাকা উত্তোলন না করার নানা অভিযোগে ময়মনসিংহবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। এ নিয়ে ১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ দশকের ছাত্রনেতৃবৃন্দ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে গত ২৬ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।
এর পর থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী এ  প্রতিষ্ঠানটি সুকৌশলে তাদের লিফলেটে  সম্প্রতি স্কুলে ভর্তির আবেদনে ৭১ এ পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানকে শহীদ আখ্যা দিয়ে ১০ হাজার লিফলেট বিতরণ করে। এঘটনায়  মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সাবেক ছাত্রনেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে। নেতৃবৃন্দ এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকসহ প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে । অপরদিকে অšে¦ষণা স্কুলে মোনায়েম খানকে শহীদ আখ্যায়িত করায় মুক্তিযোদ্ধারাও তীব্র আপত্তি জানায়। এ সব ঘটনায় জেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে সরকারের শিক্ষমন্ত্রণালয়ে রিপোট প্রদান করে।

IMG_0836
শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত ১৬ তারিখের স্বারক নং-৩৭.০০.০০০০.০৭২.৩৯.০৩৩.১৬-২৮ ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনকে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের নির্দেশ দেন। নির্দেশে বলা হয়, ময়মনসিংহ জেলার অšে¦ষা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের কোন অনুমোদন না থাকায় এবং প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ১। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতাকারী তৎকালীন পুর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর আব্দুল মোনায়েম খানকে শহীদ আখ্যা দেয়া ২। প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক কাগজপত্র ফবফরপধঃবফ ঃড় ঃযব সবসড়ৎু ড়ভ ংযধযববফ মড়াবৎহড়ৎ ধনফঁষ সড়সবহ শযধহ য.ঢ়.শ’ লেখা ও মনোগ্রামে চাঁদতারা খচিত প্রতীক ব্যবহার করা ৩। প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন জাতীয় দিবস যথাযথভাবে পালন না করা ৪। প্রতিষ্ঠানটিতে রাষ্ট্রীয় বিধিবিধান অনুসরণ না করা এবং ৫। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কারিকুলামে বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী কোন ইতিহাস অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগ। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোঃ আঃ লতিফ স্কুল গেইটে স্কুল বন্দের নোটিশ টানিয়ে দেন।
রবিবার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে গেলে প্রতিষ্ঠানের পক্ষে হিসাব সহকারী শাহজাহান নোটিশ গ্রহণ করেন। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের খবরে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন, কমিটিনিস্ট পার্টির সভাপতি এড এমদাদুল হক মিল্লাত, জেলা জাসদের সাধারন সম্পাদক এড নজরুল ইসলাম চুন্নুসহ নব্বইয়ের দশকের সাবেক ছাত্রনেতৃবৃন্দ কলেজ ক্যাম্পাসে যান এবং তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

Mymensingh Onnesa Int. Schooll Closed pic 02
পাশাপাশি সাবেক ছাত্রনেতৃবৃন্দ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতিকারীদের বিচার দাবী করেন। অপরদিকে স্কুল এন্ড কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল নিলুফার সুলতানা উপস্থিত সাবেক নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের উপর তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কর্তৃপক্ষ স্কুলটি বন্ধ না করে সতর্কতা জারী করতে পারত। এখন এ স্কুলের ১৭৯জন শিক্ষার্থীর কি হবে। ওরা তো জেএসসি এসএসসি কোন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি। সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি আকস্মিকভাবে বন্ধ করে দেয়ায় শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও অভিভাবকরা মহাবিপাকে পড়েছে। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি চালু রেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান। স্কুল বন্ধের নোটীশ টানানো কালে বেশ কয়েকজন অভিভাবক তাদের সন্তানদের ভবিষ্যত শিক্ষা জীবন নিয়ে উদ্বোগ প্রকাশ করেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রতিক্রিয়ায়  বলেন স্কুল চালু রেখে এদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারতেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম