সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, উন্নয়নের প্রথম শর্তই হচ্ছে সুশাসন। সুশাসন না থাকলে উন্নয়ন হবে কী করে? টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন করতে হলে সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। তা ছাড়া আমাদের সমাজে অপচয় আছে। এটিও রোধ করতে হবে।

বুধবার এসডিজির অভীষ্ট ও লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কর্মসূচি প্রণয়ন ও পরামর্শ গ্রহণসংক্রান্ত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় গণমাধ্যমের মতামত নেওয়া হয়। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক এ এইচ এম মোয়াজ্জেম হোসেন এবং ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘এখন ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন হচ্ছে, মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবায়ন হচ্ছে ৩৫ হাজার কোটি টাকায়। এক সময় মোট এডিপির আকারই ছিল ২২ হাজার কোটি টাকা। এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গেলে কিছু বিচ্যুতি হবেই। সেখান থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হবে। হাত গুটিয়ে বসে থাকলে চলবে না।’

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য (এসডিজি) ও লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকারের প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন কার্যাবলির কথা উল্লেখ করে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আরও বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় (২০১৬-২০) টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য (এসডিজি) ও লক্ষ্যমাত্রাসমূহকে সমন্বিত করেছি এবং এগুলো বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয় বিভাগভিত্তিক দায়িত্ব নিরূপণ করেছি। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য (এসডিজি) ও লক্ষ্যমাত্রাসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিরূপণের জন্য একটি ফলাফলভিত্তিক মূল্যায়ন কাঠামোও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. শামসুল আলম বলেন, যেহেতু এ লক্ষ্যমাত্রাসমূহ বাস্তবায়নে নিজস্ব অর্থায়নের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তাই সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে অর্থায়ন এবং এসডিজিসহ এসব বিষয়ে গণসচেতনতা তৈরিতে গণমাধ্যমের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগানো। যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল করে জাতীয় প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার আওতায় ১ কোটি ২৯ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা হবে, যা শ্রমবাজারের চাহিদার চেয়েও বেশি হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজিবিষয়ক মুখ্যসমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘এসডিজি উচ্চাভিলাষী হলেও বাস্তবায়ন অসম্ভব নয়। এটা অর্জন করতেই হবে। সম্পদ সব সময়ই সীমিত। কিন্তু এর সৃজনশীল ব্যবহারের মাধ্যমে এসজি অর্জন করতে হবে। একটি দারিদ্র্যমুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, শোষণহীন বাংলাদেশ গঠনে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, ‘পরিকল্পনাহীন কোনো কাজ এগোতে পারে না। বাংলাদেশ পরিকল্পনার মধ্যে এগিয়ে চলছে। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও ভূমিকা রয়েছে। কোনো ব্যাংক থেকে যদি হাজার হাজার টাকা লুট হয়, গণমাধ্যম তা অবশ্যই প্রকাশ করবে। আবার জঙ্গি প্রতিরোধে, সুশাসন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও নজরদারির মাধ্যমে মিডিয়া ভূমিকা রাখবে। এ জন্য কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য ইত্যাদি খাতের মতো মিডিয়াকেও স্বাভাবিক গতিতে চলতে দিতে হবে।’

টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য (এসডিজি) ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তুতি দৃষ্টান্তমূলক উল্লেখ করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট লক্ষ্য ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের যথাযথ সাফল্য অর্জন করবে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম