সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন তিনি তার বাবার মতোই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ও দলের সাথে বেঈমানী করবেন না। জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত তিনি দলের জন্য কাজ করে যাবেন।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী যুবলীগের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভা হয়। সভা পরিচালনা করেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ। এ সময় যুবলীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মেয়র আইভী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অনেক অপপ্রচার হয়েছে। আমি সেগুলো মাথায় নেইনি। আমি শুধু আমার জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকেছি। আমি এখানে (বঙ্গবন্ধু এভিনিউ) দাঁড়িয়ে আমার বাবার মতোই বলতে চাই, জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত বেঈমানি করব না দলের (আওয়ামী লীগ) সাথে, দলের মাননীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাথে। আমার মৃত্যু যেন হয় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ বলে।’

জয় বাংলাকে দেশের সার্বজনীন শ্লোগান করার জন্য যুবলীগকে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এটা যেন শুধু আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। আমাদের জাতীয় শ্লোগানে পরিণত হয় এই ব্যাপারে আপনারা কাজ করবেন।’

মতবিনিময় সভায় আসার কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এসেছি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে। আপনারা হয়ত আমাকে অনেকে চেনেন আইভী হিসেবে। আমার বাবার চুনকার নামে। তার পরিচয়েই আমি পরিচিত। বাবার একটি মাত্র পরিচয় ছিল। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের একজন একনিষ্ঠ কর্মী। তিনি বঙ্গবন্ধুর সাথে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত একদিনের জন্য বেঈমানি করেননি।’
উত্তরাধিকার সূত্রে রাজনৈতিক পরিবেশ থেকে বেড়ে ওঠার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আইভী বলেন, ‘রাজনীতি মানেই মানুষকে নিয়ে কাজ করা। ছোট বেলাতেই এই শিক্ষা পেয়েছি আমি। আর সেই শিক্ষা থেকেই আমার রাজনীতিতে আসা।’

বাবার মৃত্যুর পর আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে নাসিক মেয়র নির্বাচিত হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি যখনই দেশে এসেছি প্রতিবারই নেত্রীর (শেখ হাসিনা) সাথে দেখা করেছি। ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে দল ভাল অবস্থায় থাকার পরও এবং ব্যাপক কাজ করার পরও বহির্বিশ্ব এবং অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের কারণে আওয়ামী লীগ হেরে যায়। এরপর ২০০২ সালের শেষের দিকে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন ঘোষণা করা হয়। তখন আমাদের দলের অনেকেই দেশের বাইরে ছিলেন। জোট সরকারের অত্যাচার জেল-জুলুম নির্যাতনের কারণে নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশের নেতাকর্মীরা তখন মাঠে দাঁড়াতে পারতেন না। ঠিক সেই সময় দেশে এসে নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলাম।’

স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী ছিলাম। তখন একা একা হেঁটেছি। আমার সাথে দুই থেকে তিনজন লোক থাকত। ভয়ে কেউ হাঁটতে চাইত না। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নাই। সকলেই পলাতক। কারণ ওই সময় ওই পরিস্থিতি আমার জানা ছিল না। দেশে এসে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। সে সময় নেত্রী আমাকে জড়িয়ে ধরে বলেছিলেন, আর দেশের বাইরে যাওয়া হবে না। আমি বলেছিলাম, আর যাব না। দেশেই নির্বাচন করব। ’

পৌরসভা নির্বাচনের বিজয়ী হওয়ার কারণ তুলে ধরে আইভী বলেন, ‘আমার সেই সময় মনে হয়েছিল, মানুষ আমাকে ভোট দেয় নাই, ভোট দিয়েছে আওয়ামী লীগের চুনকাকে। যারা তাকে ভালবাসত। একই সাথে জোট সরকারের অত্যচার-নির্যাতনের প্রতিবাদ হিসেবে।

সেই থেকে শুরু করি আমার কার্যক্রম। এই পথ চলায় বিভিন্ন প্রতিক’লতার মাঝেও সততা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছি। আমি আমার নিজের অবস্থানে দাঁড়িয়ে থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করেছি। আমার বিরুদ্ধে শত অপপ্রচার চালানো হয়েছে। কখনো কখনো আমাকে তৃতীয় শক্তি, কখনো বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ট- ইত্যাদি অভিহিত করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে। কিন্তু আমি একটি কথারও প্রতিবাদ না করে শুধু কাজ করে গেছি মানুষের জন্য।’

তিনি আরো বলেন, ‘শুধু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ রেখেছি। তার কাছে কখনো কোন কিছু চাইনি। আবদার করিনি। শুধু আমার কাজটা করে গেছি। কৌশলগত কারণে দলের বাইরের লোকদের সাথে নিয়েও কাজ করেছি। নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আমাকে কাজটি করতে হয়েছে।’

বিজয়ী হওয়ার পর আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর সাথে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘নেত্রী সেদিন আক্ষেপ করে বলেছিলেন, আমাদের এত উন্নয়ন। এত কাজ। আইভী ১ লাখ ৯৫ হাজার ভোট পেয়েছে এটা তো বড় কথা নয়। ধানের শীষ ৯৫ হাজার ভোট পেল! এটা কিভাবে হল!

নেত্রী সেদিন বলেছেন, আমাদের প্রচারণা কম। আমরা যে জিনিসগুলো করছি তাও তুলে ধরতে পারছি না তৃণমূলের কাছে।’

আইভী নাসিক নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার নির্বাচনেই আমরা কাজে লেগেছি সকাল দশটা/এগারটার দিকে। কিন্তু অপজিশন পার্টি ভোরে আজানের সময় মসজিদে মসজিদে গিয়ে মানুষের সাথে কথা বলেছে। ধর্মকে তারা ব্যবহার করেছে। যে জিনিসটা হয়ত আমরা অনেকে করতে পারি না। আমরা সত্য কথা বলি। আমরা মিথ্যার আশ্রয় নেই না। আর এটা উচিতও না। কারণ, একটা সময় মানুষ সেটা বুঝতে পারে।’


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম