সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে যখন আরাফাত সানী নিজ বাসায় নাসরিন সুলতানাকে নিয়ে যেতে অপারগতা প্রকাশ করেন তখন নাসরিন বিবাহবিচ্ছেদ চেয়েছিলেন। এমনকি আরাফাত সানী গ্রেপ্তার হওয়ার আগের রাতেও বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করার জন্য মোবাইলে অনুরোধ জানিয়েছিলেন নাসরিন সুলতানা।

বুধবার সঙ্গে আলাপকালে আরাফাত সানীর স্ত্রী দাবিদার নাসরিন সুলতানা এসব কথা জানান।

নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘২০১৬ সালের মে মাসে আমরা থাইল্যান্ডে বেড়াতে যাই। সেখান থেকে ফিরে এসে আমাকে তার বাড়িতে উঠিয়ে নেওয়া কথা ছিল। কিন্তু দেশে ফিরে সে আমার সাথে খারাপ ব্যবহার করা শুরু করে। তখন বুঝতে পেরেছিলাম, সে আমাকে আর চায় না। তাই বিরক্ত হয়েই আমি তার কাছে গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ডিভোর্স চেয়েছিলাম। কিন্তু তাতে সে সাড়া দেয়নি। বরং তার নম্বর দিয়ে আমার নামে একটি ফেসবুক একাউন্ট খুলে আমাকেই আমাদের অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি পাঠায় ও হুমকি দেয়। সর্বশেষ সে (সানী) গ্রেপ্তার হওয়ার আগের রাতে আমি তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করি। সে সময় তাকে বলেছিলাম, চলো আমরা বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করি। কিন্তু সে রাজি না হয়ে আমাকে থ্রেট করতে থাকে।’

সম্পর্কের শুরুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে শেষের দিকে দুজনের এক কমন ফ্রেন্ডের মাধ্যমে আমাদের আলাপ হয়। তখন আমি ইন্টারমিডিয়েট প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। সে ধানমন্ডি এলাকার একটা ক্লাবে প্র্যাকটিস করত। প্রায়ই আমাদের দেখা হতো। সেখান থেকে আমাদের যোগাযোগ বাড়তে থাকে। চার মাস দেখা-সাক্ষাতের পর সানীই আমাকে প্রথম প্রপোজ করে। এতে আমি রাজি হয়ে যাই। আমরা আরো কাছাকাছি চলে আসি, যা অনেকদিন কন্টিনিউ থাকে।’

বিয়ে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ার সাথে সাথে চিন্তা করলাম, সম্পর্কের একটা স্টাবলিশমেন্ট দরকার। কিন্তু ওই সময় সানী বিয়ের ব্যাপারে পরিবারকে জানাতে পারবে না বলে জানায়। পরে আমরা দুই পরিবারকে না জানিয়ে একটি রেস্তোরাঁয় বিয়ে করি। এর পর আমরা একটি ভাড়া বাসায় থাকতাম। সেখানে প্রায় সাত মাসের মতো ছিলাম। এর পর আমাকে উঠিয়ে নেওয়ার জন্য সানীকে প্রেশারাইজড করলে সে নানান টালবাহানা শুরু করে। সানীর কালক্ষেপণ দেখে ২০১৫ সালের জুলাই মাসে তাদের সাভারের বাসায় যাই এবং তার মা ও স্বজনদের বিষয়টি জানাই। তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মারধর করেন এবং আমাকে বাসা থেকে বের করে দেন। ওই সময় সানী সামনেই ছিল। সে আমাকে রক্ষা করার জন্য কিছুই করেনি। ওই বাসা থেকে আসার পর আমাদের সম্পর্কের কিছুটা অবনতি ঘটে। পরে ২০১৬ সালের শুরুর দিকে সানী আমার সাথে মিউচুয়াল (সমঝোতা) করে। কথা ছিল, কিছুদিন পর আমাকে উঠিয়ে নেবে। সম্পর্কের উন্নতি হওয়ায় আমরা মে মাসে থাইল্যান্ড বেড়াতে যাই।’

আদালতে দেওয়া কাবিননামার প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি বলেন, ‘এটা সানীই আমাকে দিয়েছিল।’

এর আগে নাসরিন সুলতানার মামি বানু বেগম জানিয়েছেন, তাদের বাসায় সানীর যাতায়াত ছিল।

এ প্রসঙ্গে নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘কয়েকবার সে আমাদের বাসায় এসেছে। যখন ঝগড়া হতো বা আমি কোনো কারণে অভিমান করতাম, তখনই সে আমার মান ভাঙাতে আসত।’

বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধান যেতে চান কি না, জানতে চাইলে নাসরিন সুলতানা বলেন, ‘আমি শুরু থেকেই সানীর কাছে একটা মীমাংসা চেয়েছিলাম। কিন্ত সেটা সে করেনি। এখন বিষয়টি অনেক দূর গড়িয়েছে। পরিস্থিতিই বলে দেবে, সামনে আমাদের কী করা উচিৎ।’

২০১৫ সালের দিকে আরাফাত সানীর বাড়িতে নাসরিন সুলতানার যাওয়া ও মারধরের বিষয়ে জানতে আরাফাত সানীর মা নার্গিস আক্তারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন ধরেন আরাফাত সানীর চাচা সানাউল্লাহ হিমেল।

তিনি বলেন, ‘মেয়েটি একবার আমাদের বাসায় এসে চিল্লাচিল্লি করেছিল। দাবি করেছিল, সে আরাফাত সানীর স্ত্রী। আমরা তাকে না চেনায় বাসা থেকে তাড়িয়ে দেই। তবে মেয়েটি যে মারধরের অভিযোগ করছে, তা সত্য নয়।’


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম