সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢুকতেই কানে বাজে ঠক-ঠক, খট-খট শব্দ। চলছে স্টল নির্মাণের কাজ। কেউ রঙ করছেন র‌্যাকে, কেউ পালিশ। আবার কেউ ছাউনিসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন কাজ করছেন।

শুক্রবার বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে।

আর মাত্র চারদিন পরই পর্দা উঠবে বাঙালির প্রাণের উৎসব অমর একুশে গ্রন্থমেলার। তাই শেষ মুহূর্তে এসে যেন ব্যস্ততার শেষ নেই বাংলা একাডেমি থেকে শুরু করে লেখক, প্রকাশকদের। মেলা প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার ব্যাপারেও এবার নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।

স্টল সজ্জার কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানান, আাগামী মঙ্গলবারের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে হবে। আমরা সে বিষয়টি মাথায় রেখেই কাজ করছি। প্রতিদিন ভোরে এসে রাত ১১টা পর্যন্ত বিরামহীন কাজ করছি। আশা করছি নির্ধারিত সময়ের আগে সব কাজ শেষ করে ফেলতে পারবো।

এবার বাংলা একাডেমি চত্বর ছাড়াও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান চত্বরের পাঁচ লাখ স্কয়ার ফুট জায়গা গ্রন্থমেলার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান গ্রন্থমেলা আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ।

তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় প্যাভিলিয়ন ছাড়া সাড়ে ছয়শ ইউনিটের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। তবে এ চত্বরে প্যাভিলিয়ন থাকবে ১৩টি। এর মধ্যে বাংলা একাডেমির হবে দুটি। লিটল ম্যাগাজিন প্রদর্শনীর জন্যও প্রায় একশ স্টলের কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহেদা খাতুন বলেন, এবারের মেলার কাজ অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেক আগেই শুরু হয়েছে। গত অক্টোবর মাস থেকে কাজ চলছে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার উদ্বোধন করবেন। তার আগেই যেন মেলার সব ধরনের কাজ শেষ হয়, সে ব্যাপারে স্টল নির্মাণের দায়িত্বরত শ্রমিকদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। আশা করছি, তারা এর মধ্যে সব কাজ শেষ করে ফেলতে পারবেন।

শাহেদা খাতুন আরো বলেন, এ বছর লিটল ম্যাগ, শিশু কর্নারকে আগের চেয়ে আরো আকর্ষণীয় করে তোলা হচ্ছে। শিশুদের জন্য প্রতিবারের মতো এবারো শিশুপ্রহর ঘোষণা করা হবে। এদিন সকাল থেকে শিশুরা মেলায় এসে নাচ-গানসহ নানা উৎসবে মেতে উঠবে। এ ছাড়া গ্রন্থমেলা যেহেতু বাঙালির প্রাণের মেলা, তাই মেলা যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য ও আকর্ষণীয় হয়- সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যে কেউ মেলায় এসে যেন শান্তিপূর্ণভাবে স্বাচ্ছন্দে মেলা ঘুরে দেখতে পারেন সে বিষয়টি মাথায় রেখে মেলাকে সাজানো হচ্ছে।
Fair220170127181251

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, মেলার কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। দুই একদিনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। বাংলা একাডেমির বাইরে যাতে কেউ বই বিক্রি করতে না পারে সে ব্যাপারে বিশেষ নজর থাকবে। মেলায় যাতে সবাই নিরাপদে আসতে পারে এবং যেতে পারে সে ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এবার ২ হাজার পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন দায়িত্বপালন করবেন।

তিনি আরো বলেন, এবার মেলার পাশাপাশি আগামী ১-৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলনকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সম্মেলনে কলকাতা, ত্রিপুরা, অস্ট্রেলিয়া, চায়না, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের লেখকরা অংশ নেবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার উদ্বোধনের সঙ্গে এ সম্মেলনেরও উদ্বোধন করবেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম