সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, মাদারীপুর : মরা নদীতে নাব্য ফিরিতে আনতে ১১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩টি নৌপথ খননের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান।

শনিবার বিকালে মাদারীপুর লঞ্চঘাট এলাকায় ৫০৮ কোটি টাকা বয়ে মাদারীপুর-জাজিরাসহ গুরুত্বপূর্ণ ১২টি নৌপথের খনন কাজের উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, ২০ হাজার ৪০০ কিলোমিটার নদীপথ হারিয়ে গেছে। ২৪ হাজার কিলোমিটার নদীপথ ছিল, তা বর্ষাকালে ছয় হাজার কিলোমিটার এসে দাঁড়িয়েছে। সেইসব নৌপথের গতিবেগ ফিরিয়ে আনতে গত আট বছরে এক হাজার ১০০ কিলোমিটারের মতো নদীপথ খনন করেছে সরকার।

মন্ত্রী বলেন, নদী খননের জন্য আরও ২০টি ড্রেজার নির্মাণ করছে সরকার। এ ছাড়া প্রাইভেট সেক্টরেও আরও ৫০টি ড্রেজার এসেছে বলে জানান নৌমন্ত্রী।

দেশের বেশির ভাগ নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় নাব্য সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। এজন্য সারাদেশের নদ-নদী, ছোট-বড় খাল ও পুকুর খননে মহাপরিকল্পনা বা মাস্টারপ্ল্যান চূড়ান্ত করছে সরকার। এর আওতায় পদ্মা ও মেঘনাসহ মোট ৪০৫টি নদী, ছয় হাজার ৫৩৬টি খাল এবং ১৮ হাজার ৪০৩টি পুকুর খনন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহাপরিকল্পনার খসড়া প্রায় চূড়ান্তের পথে। এতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২২ লাখ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের প্রায় সাতগুণ। আগামী ১৫ বছরে এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে তিনটি মন্ত্রণালয়কে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে নৌপথের গভীরতা ও দৈর্ঘ্য বাড়বে। এতে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন আরও গতিশীল হবে। শিল্প-কারখানার পণ্য পরিবহন খরচ কমে আসবে। কৃষিকাজের সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। বাড়বে মাছের উৎপাদন। সুপেয় পানির চাহিদা মিটবে। নদীমাতৃক এ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ বেশি সুফল পাবেন। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন চরাঞ্চলে একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যমে হচ্ছে নৌপথ।

জানা গেছে, বর্তমানে দেশের নদীগুলোর দৈর্ঘ্য ২৪ হাজার কিলোমিটার। সারা বছর তিন হাজার ৮০০ কিলোমিটার নৌপথে যান চলাচলের উপযোগী থাকে। বর্ষা মৌসুমে নৌপথ বেড়ে দাঁড়ায় ছয় হাজার কিলোমিটারে। নাব্য সংকটে বাকি পথে যান চলতে পারে না।

মহাপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের মোট ৪০৫টি নদীর মধ্যে তিনটি মিয়ানমার ও ৫৪টি ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত। ভাটির দেশ হওয়ায় বাংলাদেশের প্রধান নদীগুলোতে প্রতি বছর ১ দশমিক ২ বিলিয়ন (১২০ কোটি) ঘনমিটার পলি প্রবাহিত হয়। এর বড় অংশই নদীর তলদেশে জমে নাব্য সংকট সৃষ্টি করছে। মহাপরিকল্পনার আওতায় তিন প্রধান নদী যমুনা, পদ্মা ও মেঘনাসহ মোট ৪০৫টি নদী, ছয় হাজার ৫৩৬টি খাল এবং ১৮ হাজার ৪০৩টি পুকুর খনন করা হবে। নদীগুলোতে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা হবে। প্রধান তিন নদী খননে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫ লাখ ৬২ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। বাকি নদী, খাল ও পুকুর খননে ধরা হয়েছে ছয় লাখ ১১ হাজার ২০৭ কোটি টাকা। এ কাজে সবমিলিয়ে ব্যয় হবে ২১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম