সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : জঙ্গিবাদ নির্মূলে সারা দেশে কাউন্টার টেরোরিজম ক্রাইম ইউনিট গড়ার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। তিনি বলেছেন, একটি-দুটি জঙ্গি মেরে জঙ্গিবাদের মতো বৈশ্বিক সমস্যা সমাধান করা যাবে না।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের ৩৭তম সাধারণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। ট্রান্স-ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলামসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ডিএমপির বিশেষ শাখা হিসেবে বর্তমানে ‘কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স-ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট’ কাজ করছে। এরই বর্ধিত রূপ দেয়ার কথা বলেন কমিশনার আছাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘ডিএমপির একটি ইউনিট হয়েছে ছোট্ট আকারে। কিন্তু আজকে যে বৈশ্বিক সমস্যা জঙ্গিবাদ, এটাকে সমাধান করতে গেলে আমাদের একটি ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট অবশ্যই করতে হবে।’

২০১৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিশেষ শাখা হিসেবে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স-ন্যাশনাল ক্রাইম  ইউনিট গঠিত হয়। এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম। নতুন এ সংস্থাটি কাউন্টার টেরোরিজম বিভাগ, সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগ, ক্রাইমসিন ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগে- এই চার ভাগে  কাজ করছে।

১০০ সদস্যের এই ইউনিট একজন ডিআইজি, একজন অতিরিক্ত ডিআইজি,  চারজন উপ-কমিশনার (ডিসি), ১০ জন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি), ২০ জন সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) এবং ৪০ জন ইন্সপেক্টর নিয়ে যাত্রা হয়।

এই ইউনিট দিয়ে দেশজুড়ে জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব নয় জানিয়ে এর পরিধি ও কর্মক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন কমিশনার আছাদুজ্জামান। তিনি অতিথিদের উদ্দেশে বলেন, ‘তা যদি না করি স্যার, তাহলে দুই-একটি জঙ্গি মেরে, দুটি অভিযান চালিয়ে এই জঙ্গিবাদকে দমন করতে পারব না।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের এখনই প্রস্তুতি নিতে হবে- আমরা কীভাবে জনগণের জীবন রক্ষা করব, কীভাবে বিশ্বকে শান্তিপূর্ণ রাখব।’

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্স-ন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের মূল কাজ ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএমপির একজন কর্মকর্তা বলেন, সন্ত্রাসবাদ, সন্ত্রাবাদে অর্থায়ন, সন্ত্রাসবাদে সহায়ক অপরাধগুলো প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা এ ইউনিটের মূল উদ্দেশ্য।  গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, অভিযান পরিচালনা, মামলা রুজু, মামলা তদন্ত এবং তদন্ত-উত্তর সন্ত্রাসীদের পর্যবেক্ষণে রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এ ইউনিটের কার্যক্রমে।

২০১১ সালের এপ্রিলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের এক সেমিনারে তৎকালীন অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) ও বর্তমান আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক জঙ্গি ও চরমপন্থী দমনে ন্যাশনাল পুলিশ ব্যুরো অব কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট নামে একটি ইউনিট চালু করার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব করেছিলেন। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর গত বছরের  ফেব্রুয়ারিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের অধীনে ক্ষুদ্র পরিসরে যাত্রা শুরু করে বিশেষায়িত এ ইউনিট।

সাম্প্রতিক সময়ে সারা দেশে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বেড়ে যাওয়ায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে। একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কার্যক্রম সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার কার্যক্রম চলছে। শিগগির পুলিশের বিশেষ এ সংস্থাটির পরিধি বাড়বে বলে জানান একজন কর্মকর্তা।

ডিএমপির এই কর্মকর্তা আরো জানান, এ নিয়ে বেশ আগে থেকে কাজ চলছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সেই অনুযায়ী কাজও চলছে। তবে অন্য বাহিনী থেকে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের বৈশিষ্ট্য কী হবে, সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি তিনি।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের যত অভিযান

গত বছরের ২৬ জুলাই রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড–সংলগ্ন ৫ নম্বর সড়কের জাহাজ বিল্ডিং নামের একটি বাসায় ‘জঙ্গি আস্তানায়’অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এতে নয়জন ‘জঙ্গি’ নিহত হয়।

২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া বড় কবরস্থানের একটি বাড়িতে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা। এসময় গুলশান হামলার মূল পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরীসহ তিনজন নিহত হয়। তামিম চৌধুরীকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য এর আগে পুলিশ ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

১০ সেপ্টেম্বর জঙ্গি আস্তানায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিযানে তানভীর কাদেরি ওরফে শমসেদ ওরফে আবদুল করিম নিহত হয়। তার স্ত্রী আবেদাতুল ফাতেমা ওরফে খাদিজা, তাদের ছেলে তাহরীন কাদির রাসেল, আফরিন ওরফে প্রিয়তী ও শায়লা আফরিন আহত হয়। তবে তানভীর অভিযানের সময় নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে জানিয়েছিলেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক।

৩ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরের রূপনগর আবাসিক এলাকার একটি জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে জাহিদুল ইসলাম ওরফে জাহিদ নিহত হয়। সে নব্য জেএমবির সামরিক শাখার প্রধান, গুলশান ও শোলাকিয়া হামলাকারীদের প্রশিক্ষক এবং নিহত জঙ্গি নেতা তামিম চৌধুরীর সেকেন্ড ইন কমান্ড (ডান হাত) ছিল।

৮ অক্টোবর গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের অভিযানে নব্য জেএমবির ঢাকা অঞ্চলের সামরিক কমান্ডার জঙ্গি ফরিদুল ইসলাম আকাশসহ সাত জঙ্গি নিহত হয়।

সর্বশেষ ২৪ ডিসেম্বর রাজধানীর দক্ষিণখানের আশকোনায় জঙ্গি আস্তানায় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের অভিযান দুইজন নিহত, একজন আহত ও চারজন আত্মসমর্পণ করেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম