সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ঝিনাইদহ-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তাহজীব আলম সিদ্দিকী। তিনি বলেছেন, ‘চতুর্থবারের মতো আমার মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনার সৌভাগ্য হলো। সংসদের লাইব্রেরি থেকে পূর্ববর্তী কয়েকজন মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ সংগ্রহ করে মনোযোগের সাথে পাঠ করেছি। সকল ভাষণের মধ্যে একটি মিল খুবই সুস্পষ্ট, সরকার দ্বারা অনুমোদিত ভাষণে মহামান্য রাষ্ট্রপতিগণ চিরাচরিতভাবে শুধু সরকারের অর্জন, সফলতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাই বলেন। কোনো ভাষণেই বিন্দুমাত্র ব্যর্থতা কিংবা বিফলতার কোনো উল্লেখই আমি খুঁজে পাইনি। আত্মসমালোচনা বা আত্ম-উপলব্ধির লেশমাত্র খুঁজে পাইনি। জনগণের কাছে ভুল স্বীকার করে আত্মসংশোধনের প্রত্যয় ব্যক্ত করলে রাজনৈতিকভাবে কোনো ক্ষতি আছে কিনা, আমার জানা নেই। অতীতের ভাষণের যে চিরাচরিত সংস্কৃতি, মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবারও তা থেকে বের হয়ে আসতে পারেননি। আমিও তাই আমার স্বভাবসুলভ অবস্থান থেকে বের হয়ে আসতে পারছি না। আমি মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাব অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে প্রত্যাখ্যান করছি।।’

জাতীয় সংসদে রবিবার রাতে (২৯ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর দেওয়া বক্তব্যে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকীর ছেলে তাহজিব আলম সিদ্দিকী এসব কথা বলেছেন।

তাহজীব আলম সিদ্দিকী আরো বলেছেন, ‘তবে ভাষণ প্রত্যাখ্যান করলেও মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানাতে চাই তার (রাষ্ট্রপতির) সাংবিধানিক অধিকার, নির্বাচন কমিশনারের মতো স্পর্শকাতর পদে নিয়োগ দেওয়ার পূর্বে আলোচনার দুয়ারকে রাজনীতিবিদদের জন্য উন্মোচিত করার জন্য। সরকারি দল, বিরোধী দল, সংসদের বাইরের সকল ছোট-বড় দলকে আমন্ত্রণ করেছেন। কিন্তু আমন্ত্রণ করলেন না সংসদে স্বতন্ত্র এমপিদের, যারা সরাসরিভাবে জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার চেয়ে রাজনীতির দোকান খুলে সুবিধাবাদী রাজনীতি করাই যেন সম্মানজনক।’

তাহজীব আলম বলেছেন, ‘গত বছরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য, বিশ্ব কাঁপানো ঘটনা বাংলাদেশের হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী আঘাত। এই আঘাত রাষ্ট্রের অসাম্প্রদায়িক ভিত্তিকে বিবর্ণ করেছে। জনগণের মধ্যে একটি সর্বগ্রাসী ভয় সঞ্চারিত হয়। বিদেশি বন্ধুরা আতঙ্কগ্রস্থ হয়ে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। তবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে যে পদক্ষেপ নিয়েছে তা প্রশংসার দাবিদার। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যেসব বিদেশিরা দেশ ছেড়েছে, তারা আজও বাংলাদেশে আসতে নিরাপদ বোধ করছে না। এই বিশ্বায়নের যুগে বাংলাদেশের প্রতি এই আস্থাহীনতা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কর্মকান্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে বাধ্য করবে।’ এ সময় দেশের ভাবমূর্তি উদ্ধারকল্পে মিশনগুলোর ব্যর্থতার সমালোচনা করেন তিনি।

তাহজীব আলম যোগাযোগ খাত, শিক্ষা খাতের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘জাতিগতভাবে সহজেই আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগি। প্রথম দিবসে বই-উৎসবের সাফল্য ম্লান করে দিল একেবারে ভুলে ভরা পাঠ্যবইগুলো। হয়েছে বানান ভুলের মহোৎসব।’

পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু নির্বাচনে ধর্মভিত্তিক রাজনীতির কাছে আত্মসমর্পণেরও সমালোচনা করেন তিনি। একইসঙ্গে বিরোধী দলের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, ‘আপাতত বিরোধী বেঞ্চের প্রথম আসনটি এবং তার সাথে সম্পর্কিত সান্ত্বনাসূচক সকল রকম সুযোগ-সুবিধা ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেয়ে সন্তুষ্ট থাকতে পারেন। তাতে আমাদের রাজনীতি নিয়ে পশ্চিমাদের নাক গলানো বন্ধ হবে এবং রাতে টকশোতে জনগণকে টক টক কথাও শুনতে হবে না।’


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম