সংবাদ শিরোনাম

 

শফিউর রহমান সেলিম, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহের ভালুকায় ফসলি জমির পাশাপাশি জলাশয় ভরাট করে একের পর শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও উঁচু ভবন গড়ে তোলার প্রতিযোগিতা চলছে। এতে একদিকে যেমন মাটির শ্রেণি পরিবর্তন হচ্ছে, পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ বিপন্ন হচ্ছে আর প্রকৃতি হারাচ্ছে ভারসাম্য।

প্রভাবশালী একটি ধনাঢ্য মহল সস্তায় জমি কিনে দিনের পর দিন ওই কাজ করে যাচ্ছে।
এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই দশক ধরে ভালুকার হবিরবাড়ি, ভরাডোবা ও উথুরা এলাকা বিশেষ করে উপজেলার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। বর্তমানে এ উপজেলায় দেড় শতাধিক ছোট-বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে। যার বেশির ভাগই গড়ে তোলা হয়েছে হয়তো সরকারি বনভূমি, খাসজমি, জলাশয় নইলে ফসলি জমিতে। তা ছাড়া বনভূমি দখলের অভিযোগে ভালুকার শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে কয়েক শ মামলা চলছে।

সূত্র মতে, হবিরবাড়িসহ উপজেলার দুটি রেঞ্জে একসময় প্রায় ২৪ হাজার একর বনভূমি ছিল। প্রভাবশালী লোকজন এসব দখলে নেওয়ার পর বর্তমানে বনভূমির পরিমাণ প্রায় ৮-১০ হাজার একরে এসে ঠেকেছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে ভালুকা উপজেলার মাস্টারবাড়ি, সিডস্টোর, কাঁঠালী, মেহেরাবাড়ি, ধামশুর, হাজিরবাজার, ভালুকা পৌর এলাকা (খিরু ব্রিজের পাশে), কলেজপাড়া, ভরাডোবা নিশিন্দা ও পাশের ত্রিশালে বিশালাকার জলাশয় ভরাট চলছে হরদম। জলাশয় ভরাটে সরকারের নিষেধাজ্ঞা মানা হচ্ছে না। বিভিন্ন আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রভাবশালীদের সহযোগিতায় শিল্পপতিরা জলাশয় ও ফসলি জমি ভরাট করে চলেছেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দুই পাশে ফসলি জমি বা জলাশয়ে বিভিন্ন কারখানার প্রচুর সাইনবোর্ড লাগানো রয়েছে।

সরেজমিন উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের নিশিন্দা গ্রামে গেলে স্থানীয়রা জানান, রুস্তম টেক্সটাইল মিল নির্মাণের জন্য দিন-রাত মাটি ফেলে প্রায় ২০ একরের নিশিন্দা বিলটি ভরাট করা হচ্ছে।

ভরাডোবা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল সরকার জানান, ওই ইউনিয়নের অলঙ্গা বিলে একসময় প্রচুর ধান উত্পন্ন হতো। মাছও পাওয়া যেত প্রচুর। এখন বিলটি ভরাট করে গড়ে কারখানা তোলা হয়েছে।

রুস্তম টেক্সটাইল মিলের ম্যানেজার আইয়ুব আলী সরকারের মোবাইলে বারবার চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে মিলের দায়িত্বে নিয়োজিত সিভিল ইঞ্জিনিয়ার আসাদুজ্জামান বলেন, ‘শুধু আমরাই তো বিল ভরাট করছি না। অনেকেই করছে। আমাদের জলাশয় ভরাট নিয়ে আপনাদের এত ভাবনা কেন? তা ছাড়া, আইয়ুব সাহেব ফোন রিসিভ না করলে তাঁর অফিসে গিয়ে কথা বলতে পারেন। ’

উপজেলার হবিরবাড়ি রেঞ্জ অফিসার জামিল মোহাম্মদ খান জানান, ভালুকায় ২৩ হাজারের বেশি একর বনভূমি ছিল। তা ছাড়া বেদখল হওয়া বনভূমি বিষয়ে বিভিন্ন আদালতে শতাধিক মামলা রয়েছে। তবে ভালুকায় বর্তমানে কত একর বনভূমি বন বিভাগের দখলে রয়েছে, তা তিনি জানাতে পারেননি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল আহসান তালুকদার জানান, জলাশয় বা ফসলি জমি ভরাট করে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম