সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ : স্কুলছাত্রী কনিকা হত্যা মামলায় মাদকাসক্ত বখাটে যুবক আব্দুল মালেকের ফাঁসির রায় দিয়েছে আদালত। বুধবার বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটের সময় চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন শিশু আদালতের বিচারক চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. জিয়াউর রহমান।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহিপুর এসএএম দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী মহিপুর গ্রামের মৃত লক্ষণ ঘোষের মেয়ে কনিকা ঘোষকে ধারালো হাঁসুয়া দিয়ে কুপিয়ে হত্যার সময় তার তিন সহপাঠী বেহুলা গ্রামের মো. মকবুলের মেয়ে মরিয়ম খাতুন (১৫), অরুনবাড়ী গ্রামের মো. তাজেমুলের মেয়ে তানজিলা খাতুন (১৫) ও নসিপুর গ্রামের আব্দুল খালেকের মেয়ে তারিন আফরোজকেও (১৬) মারাত্মকভাবে আহত করার জন্য ৩২৬ ধারায় ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার জরিমানা, ৩০৭ ধারায় ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকার জরিমানা অনাদায়ে আরো তিন মাসের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না হওযা পর্যন্ত এসব দণ্ড চলতে থাকবে।

সরকারি কৌঁসুলি জবদুল হক ও মামলর সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ২৭ মে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মহিপুর থেকে প্রাইভেট পড়ে কনিকা ও তার তিন সহপাঠী মরিয়ম খাতুন, তানজিমা তাহসিন ও তারিন আফরোজ বাড়ি ফিরছিল। পথে মাদকাসক্ত বখাটে যুবক দিয়াড় ধাইনগর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুল মালেক হাঁসুয়া নিয়ে পেছন থেকে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সকলেই মারাত্মকভাবে আহত হয়। সদর হাসপাতাল নিয়ে যাওয়ার পথে কনিকা মারা যায়। কনিকার মা অঞ্জলি রানী ঘোষ বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও জানান, চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুর রশিদ, পরে জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার ওয়ারেশ আলী মিয়াকে তদন্তভার দেওয়া হয়। তিনি তদন্ত শেষে আসামী আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে আদালতে গত বছরের ৭ অক্টোবর অভিযোগপত্র দাখিল করেন। নিহত কনিকা রানী ও তার তিন সহপাঠী শিশু হওয়ায় এর মামলার বিচারকার্য শিশু আদালতে গত বছরের ২৩ নভেম্বর শুরু হয়। এই মামলায় আদালতে ২১ জন স্বাক্ষী উপস্থাপন করা হয়। এ বছরের ২৬ জানুয়ারী উভয় পক্ষের যুক্তিকর্ত উপস্থাপন শেষ হয়।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম