সংবাদ শিরোনাম

 

শামীম খান, গৌরীপুর ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : কি সুন্দর একটা ভবন। এতদিন ধইর‌্যা পইড়া রইছে। কিন্তু চিকিৎসাসেবা চালুর নামে খবর নাই। ভবনটা চালু হইলে তো এলাকার মা ও শিশু পোলাপানের অনেক উপকার হইতো। কবে যে ভবনটা চালু হইবো কে জানে!”। ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার আধুনিক মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নবনির্মিত ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে ক্ষোভের সঙ্গে এই কথাগুলো বললেন গৌরীপুর পৌর শহরের মোবাইল ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম রমজান। শুধু তিনি নন, গৌরীপুর উপজেলার সচেতন নাগরিকরা ভবনটি নির্মাণের দীর্ঘ সময় পরও চিকিৎসাসেবা চালু না হওয়ায় তীব্র ক্ষোভ আর বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্রের অভাবে চালু হচ্ছেনা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি।
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে গৌরীপুর-বাসস্ট্যান্ড সড়কে পৌরসভা কার্যালয়ের বিপরীত পাশে নির্মিত হয়েছে ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রটি। ২০১৪ সালের ১২ এপ্রিল তিনতলা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্থর স্থাপন করেন প্রয়াত সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডাঃ ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির এমপি। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শেষ হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৫ সালের শেষের দিকে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে চিকিৎসাসেবা চালু হলে মায়েদের মৃত্যুর হার কমানো, মা-শিশুর স্বাস্থ্য ভালো রাখা, অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ রোধ, যৌন রোগসহ এইচআইভি/এইডস থেকে রক্ষা, পরিকল্পিতভাবে স্বামী-স্ত্রী পরিবার গঠন, সন্তান কমে স্বল্প আয়েও আর্থিকভাবে সচ্ছলতা, সন্তানদের পুষ্টিকর খাবারসহ মৌলিক চাহিদাপূরণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি রোধের প্রয়োজনে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি কার্যক্রম সহ বিভিন্ন ধরণের সেবা দেওয়া হবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়া, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাব ও আসবাবপত্রের অভাবে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু করা যাচ্ছে না। ফলে কেন্দ্রটি এলাকাবাসীর কোনো কাজে আসছে না। মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু হলে সেখানে একজন মেডিকেল অফিসার, ২জন এফডব্লিউডিসহ নানা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সার্বক্ষনিক থাকবেন। তবে এখন পর্যন্ত ভবনটি চালু চালু না হওয়ায় পৌরসভার নিয়োজিত এফডাব্লিউডি ও একজন পিয়ন দিয়ে সেখানে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বহিঃ বিভাগের কার্যক্রম চালু রেখেছে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ।
এদিকে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের পরিসংখ্যান থেকে দেখা গেছে, ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এ উপজেলায় ২৬ নবজাতক ও ৩ প্রসূতি মাকে প্রসবকালীণ সময়ে প্রাণ দিতে হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ধারণা করা হয়েছিলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে এখানে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও যন্ত্রপাতি স্থাপন শেষে পুরাদমে চিকিৎসাসেবা চালু হবে। স্থানীয় লোকজন সহজেই সেবা পাবে। মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমবে। কিন্তু এলাকার  লোকজনের সেই আশা অপূর্ণই থেকে গেল। এই ভবনে কবে নাগাদ চিকিৎসাসেবা চালু হবে কেউ জানে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর উপজেলার পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা ডাঃ ফেরদৌস আরা বলেন, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি চালু হলে এলাকাবাসী উপকৃত হবে। কেন্দ্রটি চালু করার জন্য ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম