সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, ‘প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই।’ আজ এসএসসি পরীক্ষা শুরুর পর ধানমণ্ডি গভর্নমেন্ট বয়েজ ল্যাবরেটরি স্কুল কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য প্রশ্ন ফাঁসের গুজব ছড়ানো হয়। প্রশ্ন ফাঁসের কোনো সুযোগ নেই।’

অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘চিরকাল প্রশ্ন ফাঁস হয়ে আসছিল। আমরা তা বন্ধ করেছি। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করেন। আমরা উন্নত শিক্ষায় ছেলেমেদের শিক্ষিত করতে চাই। বর্তমানে যে প্রশ্নে পরীক্ষা হচ্ছে তাতে শিক্ষার্থীরা খুশি। তারা আনন্দ উল্লাসের মধ্যে পরীক্ষা দিচ্ছে।’

এ সময় শিক্ষাসচিব, ঢাকা বোর্ড চেয়ারম্যান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কর্মকর্তাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ১০টায় সারা দেশে একযোগে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিল ও কারিগরি বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। পরীক্ষা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।

প্রথম দিন এসএসসিতে বাংলা (আবশ্যিক) প্রথম পত্র, সহজ বাংলা প্রথম পত্র, বাংলা ভাষা ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি প্রথম পত্রের পরীক্ষা হচ্ছে। মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে প্রথম দিন কোরআন মাজিদ ও তাজবিদ এবং কারিগরিতে বাংলা-২ বিষয়ে পরীক্ষা হচ্ছে।

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৬১৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ৯ লাখ ১০ হাজার ৫০১ জন ছাত্র এবং ৮ লাখ ৭৬ হাজার ১১২ জন ছাত্রী।

এ বছর থেকেই পরীক্ষা বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) প্রশ্নপত্রে ১০ নম্বর কমছে, অপরদিকে সৃজনশীল বা রচনামূলকে (তত্ত্বীয়) ১০ নম্বর বাড়ছে।

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সকাল ১০টায় রাজধানীর ধানমণ্ডির গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি স্কুলের পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার আট বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে ১৪ লাখ ২৫ হাজার ৯০০ জন, মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে দাখিলে ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫০১ ও এসএসসি ভোকেশনালে (কারিগরি) এক লাখ ৪ হাজার ২১২ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে।

তত্ত্বীয় পরীক্ষা ২ মার্চ শেষ হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা ৪ মার্চ হতে শুরু হয়ে ১১ মার্চ শেষ হবে।

এবার ৩ হাজার ২৩৬টি কেন্দ্রে ২৮ হাজার ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দিচ্ছে।

এবার নিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬ লাখ ৭ হাজার ১২৪, অনিয়মিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৭৬ হাজার ১৯৮ ও বিশেষ (১ থেকে ৪ বিষয়ে পরীক্ষা দেবে) পরীক্ষার্থীর সংখ্যা এক লাখ ৪৫ হাজার ২৯৮ জন।

বিদেশে আটটি কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ৪৪৬ জন।

বাংলা দ্বিতীয় পত্র এবং ইংরেজি প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র ছাড়া সব বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রে এসএসসি পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এ বছর থেকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ক্যারিয়ার শিক্ষা নামে দুটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

আগের মতোই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, সেরিব্রাল পালসি জনিত প্রতিবন্ধী এবং যাদের হাত নেই এমন প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থী স্ক্রাইব (শ্রুতিলেখক) সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারছে। এ ধরনের পরীক্ষার্থীদের এবং শ্রবণ প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে।

এ ছাড়া অটিস্টিক, ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত পরীক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বৃদ্ধিসহ শিক্ষক, অভিভাবক বা সাহায্যকারীর বিশেষ সহায়তায় পরীক্ষা দেওয়ারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এবার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ইতোমধ্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, ‘কেউ মিথ্যা ফাঁস হওয়া প্রশ্নের পেছনে ছুটলে ক্ষতি ছাড়া কোনো লাভ হবে না। কেউ ফেসবুকে ভুয়া প্রশ্ন তুলে দিলে বিটিআরসি সঙ্গে সঙ্গে সেই লিংক বন্ধ করে দেবে।’

পরীক্ষা কেন্দ্রে একমাত্র কেন্দ্র সচিবরাই ফোন বহন করতে পারেন। স্মার্ট ফোন নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। ছবি তোলা যায় না এমন ফোন ব্যবহার করবেন তারা।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম