সংবাদ শিরোনাম

 

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ডান হাত এবং বিএনপি জাতায়াতের সমর্থক হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত সহকারী রেজিস্ট্রার খন্দকার এহসান হাবীব  পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘গরু’ বলে আখ্যায়িত করায় তাঁর স্থায়ী পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনের ২য় দিনেও ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ক্ষোভ-বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগের মধ্যে দিয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের হাজার হাজার শিক্ষার্থীরা পালন করেছেন ২য় দিনের কর্মসূচী। চলতি মাসের ৫ তারিখের মধ্যে উক্ত  সহকারী রেজিস্ট্রারের স্থায়ী বহিস্কারাদেশের দাবী জানিয়ে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। এ ঘটনায় জুরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জানাযায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে বিশ^বিদ্যালয়ের হাজার হাজার সাধারন শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে  সহকারী রেজিস্ট্রার খন্দকার এহসান হাবীবের অশালীন মন্তব্যে তাঁর স্থায়ী বহিস্কারাদেশের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে। বিক্ষোভ মিছিলটি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এসময় উত্তেজিত বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে টায়ারে অগ্নিসংযোগ করে রেজিস্ট্রারের স্থায়ী বহিস্কারের দাবী জানান। প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে সহকারী রেজিস্ট্রার এহসান হাবীবের স্থায়ী পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্য বারাবর আল্টিমেটাম দিয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে উপাচার্য বরাবরে জমা দেয়া স্মারকলিপিতে দাবী করা হয়, ৩০ জানুয়ারী বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরু দায়িত্বে থাকা সহকারী রেজিস্ট্রার জামাত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী এহসান হাবীবের ব্যাক্তিগত ফেইসবুক আইডিতে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়সহ সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের অবমাননাকর মন্তব্যে শিক্ষার্থীদের ‘গরু’ বলে আখ্যায়িত করেন। এ অবস্থায় আগামী রবিবার বেলা ১টার মধ্যে তাঁর স্থায়ী বহিস্কারের পদক্ষেপের দাবী জানাচ্ছি।
অপরদিকে বিশ^বিদ্যালয়ের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিষয়টি জুরুরী ভিত্তিতে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনার্থে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি দতন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোঃ জাহিদুল কবীর।
তিনি আরো জানান, ঘটনাটি তদন্তের জন্য বিশ^বিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর এ এম এম শামসুর রহমান’কে সভাপতি ও রেজিস্ট্রার আমিনুল ইসলামকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সামাজিক বিজ্ঞান ও অনুষদের ডিন ও পরিচালক (ছাত্র কল্যাণ ও নির্দেশনা) প্রফেসর ড. মো: নজরুল ইসলাম, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোশাররাত শবনম ও প্রক্টর ড. মো: জাহিদুল কবীর। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মাধ্যেই তদন্তের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Trishal Pic-1
উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি মঙ্গলবার, রাতে বিশ^বিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার খন্দকার এহসান হাবীব তাঁর ফেসবুকের টাইমলাইনে লিখেছেন, “বিষয়টা প্রাইভেট পাবলিক না। বিষয়টা হলো মেধার। যোগ্যতার। আপনি পাবলিকের গরু নিবেন, নাকি প্রাইভেটের মেধা নিবেন?”  তিনি তার আরেকটি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, “পাবলিকের অনেক গরু প্রতিদিন আমি আমার বাড়ির মাঠে ঘাস খেতে দেখেছি।” সহকারী রেজিস্ট্রার এহসান হাবীবের এমন স্ট্যাটাসে বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি একধরনের নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপার সৃষ্টি হয়েছে।
নজরুর বিশ^বিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহীত উল আলম এর ছেলে বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় থেকে পাশ করলেও তাকে জাতীয় কবি কাজী নজরুর ইসলাম বিশ^বিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ প্রদানের পায়তারা চলছে। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারী সম্ভাব্য সিন্ডিকেটের সভায় বিতর্কিত নিয়োগসহ উপচার্যোর পূত্রকে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানায়।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম