সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘আইনগত জটিলতায় বিনিয়োগ বিলম্বিত হচ্ছে। দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন কোনো আইনের দরকার নেই। বরং পুরোনো কিছু আইনের সংশোধন প্রয়োজন।’

বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। বিডার তিন সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান কাজী মো. আমিনুল ইসলাম।

বৈঠকে বিডার পক্ষ থেকে বিনিয়োগের জন্য পাঁচটি আইন সংশোধন ও পরিমার্জনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সেগুলো হলো- কাস্টম অ্যাক্ট, কোম্পানি অ্যাক্ট, কন্ট্রাক্ট অ্যাক্ট, আরবিট্রেশন অ্যাক্ট ও ইনসলভেন্সি অ্যাক্ট।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগে জটিলতা সৃষ্টি করে এমন বেশ কিছু আইনের কথা তুলে ধরেছেন বিডার চেয়ারম্যান। তারা এসব আইনের সংশোধন ও পরিমার্জন চেয়েছেন। আমরা তাদের এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি।’

আনিসুল হক বলেন, ‘কিছু কিছু আইন আছে যেগুলো বিনিয়োগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কাস্টমস অ্যাক্ট, ১৯৬৯ সালে হয়েছিল। এখন নতুন করে কাস্টমস অ্যাক্ট হবে। সেই অ্যাক্টে কী কী থাকলে বিনিয়োগবান্ধব হবে সেটাই বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আমাকে জানিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘কাস্টমস অ্যাক্ট ছাড়া আছে কোম্পানি অ্যাক্ট। কোম্পানি অ্যাক্টের কিছু কিছু ধারা পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও সংশোধনের কথা ওনারা বলেছেন। সেগুলো আমরা দেখব। মূলত কন্ট্রাক্ট অ্যাক্ট একটু ধোয়া-মোছা করতে হবে। কন্ট্রাক্ট অ্যাক্টটা অত্যন্ত সুন্দর, কিন্তু যুগোপযোগী করার জন্য এটাকে একটু ধোয়া-মোছা করতে হবে।’

আনিসুল হক বলেন, ‘বিডার প্রতিনিধিদল আরবিট্রেশন অ্যাক্ট সংশোধনের প্রস্তাবও দিয়েছেন। ওই আইনের ক্ষেত্রে ওনারা বিশেষভাবে যেটা বলেছেন তা হল- প্রথমে আরবিট্রেশন করার জন্য একটা সময় বেঁধে দিতে হবে। আরবিট্রেশন করার যে ব্যয় তা নামিয়ে আনার জন্য আরবিট্রেটরদের ফি আইনে বেঁধে দিতে হবে।’

‘বিডা ইনসলভেন্সি অ্যাক্টের কথাও বলেছেন। অর্থ ঋণ আদালতের মামলা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভূমি নিবন্ধনের ব্যাপারেও ওনারা বলেছেন। সেখানে আমরা খুব তাড়াতাড়ি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি,’ বলেন আনিসুল হক।

মন্ত্রী বলেন, ‘আরবিট্রেশন অ্যাক্ট, কাস্টম ও কোম্পানিজ অ্যাক্টের ব্যাপারে তাদের মতামত এই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের হাতে দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আইনের কিছু পরিবর্তন এখনই হবে। আর কিছু পরিবর্তন আস্তে আস্তে করা হবে।’

কবে নাগাদ আইনগুলো পাস হতে পারে, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘হয়তো সংসদের এই সেশনে হবে না। এই সেশনের পর বাজেট সেশনের আগে যে ছোট্ট সেশন হতে পারে, সেই সেশন শুধু আইন পাসের জন্যই হবে। সেক্ষেত্রে আমরা সেই ক্যালেন্ডার সেশন ধারার চেষ্টা করব।’

বৈঠক শেষে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্য আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করতে হলে দেশি-বিদেশি অনেক ইনভেস্টমেন্ট প্রয়োজন। ইনভেস্টমেন্ট আসার জন্য বাংলাদেশে যে ইনভেস্টমেন্ট ক্লাইমেট দরকার, এর বেশ কিছু বিষয় আছে আইন সংক্রান্ত। ওই বিষয়গুলো নিয়েই আমরা মাননীয় মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আলোচনা ইতিবাচক। এ বিষয়গুলো নিয়ে আমরা সামনের দিকে যাব, একটা কর্মপরিকল্পনা নিয়েছি। এ কর্মপরিকল্পনা অনুসারে আমরা এ রিফর্মগুলো বাস্তবায়ন করব, যাতে বাংলাদেশে বিজনেস ক্লাইমেট বিশ্বমানের হয়। দেশি-বিদেশি যারাই বিনিয়োগ করতে চান তারা যেন দুঃশ্চিন্তা ছাড়াই নিরাপদে বিনিয়োগ করতে পারেন।’

আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘বিনিয়োগের বাধা হিসেবে অনেক বিষয় আছে। যেমন দ্রুত সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ, ভবন নির্মাণের অনুমতি, ভূমি নিবন্ধন, ঋণ ইত্যাদি।’


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম