সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সংঘাত, বিভিন্ন অপরাধসহ দলের সুনাম ক্ষুণ্নকারীদের দল থেকে বের করে দেবে আওয়ামী লীগ। অন্যদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘরোয়াভাবে প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপি।

সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কলহ মেটানোর পাশাপাশি ত্রুটিপূর্ণ ব্যক্তিদের খুঁজে দল ছাড়া করার উদ্যোগ নিয়েছে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপিতে পুরোদমে চলছে দল পুনর্গঠনের কাজ। নির্বাচনে ইতিবাচক ফল আনতে ঢেলে সাজানো হচ্ছে সব উইং। এরই মধ্যে প্রায় অর্ধেক সাংগঠনিক জেলার নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। মূল দলের পাশাপাশি অঙ্গসংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোও পুনর্গঠন করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী এক নেতা বলেন, অন্যায়ের জন্য আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই মন্ত্রিত্ব হারানো, সংসদ সদস্য জেলে যাওয়ার দৃষ্টান্ত আছে। আওয়ামী লীগ অন্যায়কারীদের ছাড় দেয় নি, দেবে না। আগামীতে আরো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, হামলা-মামলাসহ নানা চাপের মুখে পড়ে বাধ্য হয়ে ঘরোয় প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেছে বিএনপি। এরপরও সব দুর্বলতা ও ভুলত্রুটি শুধরে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে আগামী নির্বাচনী মাঠে নামতে চায় দলটি। এক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে দল গোছানোকে। তারা মনে করেন, নির্বাচনে ইতিবাচক ফলের জন্য শক্তিশালী সংগঠনের বিকল্প নেই। বিগত সরকারবিরোধী দুই দফা আন্দোলনে তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থা তছনছ হয়ে পড়ে। হামলা, মামলা ও ক্ষমতাসীনদের নানা নির্যাতনে অনেক এলাকায় নেতৃত্বশূন্য হয়ে পড়ে দলটি। সাংগঠনিক দুর্বলতার চিত্র বিগত স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ফুটে উঠে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে অনুপ্রবেশকারী ও আগাছা মুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান বলেন, ‘দলীয় নেতা-কর্মীদের কেউ খারাপ কাজ করলে বা আইন অমান্য করলে রক্ষা করার চেষ্টা করে নি আওয়ামী লীগ, করা হবেও না। আগামীতে আরও বেশি কঠোর হবো।’

সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘দলে যারা বিশৃঙ্খলায় জড়াবে, যারা অপরাধে জড়াবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেওয়া আছে।’

বিএনপির এক নীতিনির্ধারক জানান, নির্বাচনের এতদিন আগে ইশতেহার তৈরির পেছনেও যথেষ্ট কারণ রয়েছে। আগামী নির্বাচনের আগে এমন একটি ইশতেহার দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে যা সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য হয়। তাই এখন থেকেই ইশতেহারের খসড়া তৈরি করা হচ্ছে। এগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাছাই-বাছাই শেষে তৈরি করা হবে চূড়ান্ত ইশতেহার। কথার গল্পমালায় না সাজিয়ে বাস্তবতার আলোকেই ইশতেহার তৈরি করা হবে বলে জানান ওই নেতা।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। আমরা সম সময় নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছি। নির্বাচনের মাধ্যমেই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে যেতে চাই। অতীতে আমরা বেশ কয়েকবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছি। তাই যে কোনো সময় নির্বাচন হলে বিএনপি এতে অংশ নেয়ার মতো ক্ষমতা রাখে।

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অন্যতম শর্ত হচ্ছে একটি স্বাধীন নির্বাচন কমিশন। সেই কমিশন গঠনকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সংলাপের পর অনেকটা আশাবাদী হলেও সার্চ কমিটি ঘোষণায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ হন তারা। কিন্তু তবুও হাল ছাড়ছেন না। নির্বাচন কমিশন গঠনের আগে ক্ষমতাসীনদের চাপে রাখা সম্ভব হলে ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য একটি ইসি গঠনে সরকারকে বাধ্য করা যাবে। ন্যূনতম গ্রহণযোগ্য ইসি গঠন হলেও আপাতত বড় ধরনের আন্দোলনে যাবে না দলটি।

এরপর তারা নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার গঠনের ওপরই জোর দেবে। দলটির নেতারা মনে করেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার নিরপেক্ষ না হলে ইসি যতই শক্তিশালী হোক তাদের পক্ষে অবাধ নির্বাচন করা সম্ভব হবে না। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পূর্বশর্ত হচ্ছে- নিরপেক্ষ নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার। তাই অনেক কিছু ছাড় দিয়ে হলেও তারা সহায়ক সরকার বাস্তবায়নেই গুরুত্ব দেবে। তাই আগামী কয়েক মাসে দলটি এমন কোনো হঠকারী সিদ্ধান্ত নেবে না যাতে নির্বাচনের সার্বিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়।

জানা গেছে, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০ দলের ব্যানারেই আগামী নির্বাচনে যাচ্ছে বিএনপি। জামায়াত নির্বাচন করতে না পারায় এবার আসন ভাগাভাগি নিয়ে জটিলতা কম হবে। জামায়াত ছাড়া অন্য দলগুলোর কয়েকটিকে কিছু আসন ছাড় দিলেই তারা খুশি হবেন। সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৫০টি আসন জোটের শরিকদের ছাড় দেয়া হতে পারে। সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনের ইশতেহার তৈরির লক্ষ্যে ঘরোয়া প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ কয়েক নেতার পাশাপাশি পেশাজীবীদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে এ কাজে। খাত অনুযায়ী কাজ করতে অভিজ্ঞদের দায়িত্বও দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসন। ‘ভিশন ২০৩০’-এর আলোকেই তৈরি করা হবে আগামী নির্বাচনী ইশতেহার।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম