সংবাদ শিরোনাম

 

 

ভাষাশহীদদের স্মৃতিবিজড়িত মাস ফেব্রুয়ারি। দেশব্যাপী এ মাসজুড়ে চলবে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত নানা আয়োজন। তারই অংশ হিসেবে অমর একুশে গ্রন্থমেলা শুরু হয়েছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার এ মেলার উদ্বোধন করেছেন। লেখক-পাঠকের মেলবন্ধনের সেতু এ গ্রন্থমেলা যেন বাঙালির প্রাণের মেলা।

আজকের যে গ্রন্থমেলা তার শুরু স্বল্পপরিসরে বাংলা একাডেমির বটতলা চত্বরে। ১৯৭২ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৩২টি বই দিয়ে শুরু এ মেলা পরবর্তী সময়ে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এখন অনেক বৃহৎ পরিসরে আয়োজিত হচ্ছে। ১৯৮৪ সালে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রথম বড় পরিসরে অমর একুশে গ্রন্থমেলার আয়োজন করা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছরই মেলার পরিসর বেড়েছে। যে কারণে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১৪ সাল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারণ করা হয় এ মেলা।

একটি বিষয় লক্ষণীয়, বাংলা ভাষার প্রতি আমাদের আবেগ ও ভালোবাসা দেখা যায় কেবল ফেব্রুয়ারি মাসে। আর বাকি ১১ মাসই বলতে গেলে অবহেলিত থাকে। রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলা স্বীকৃতি পেয়েছে অনেক আগেই। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সর্বস্তরে আজও বাংলা ভাষার প্রচলন সম্ভব হয়নি। সাইনবোর্ড, বিলবোর্ড, নামফলক, গণমাধ্যমে ইংরেজি বিজ্ঞাপন ও মিশ্র ভাষার ব্যবহার বন্ধে পদক্ষেপ গ্রহণে হাইকোর্টের আদেশের পরও তিন বছর পার হতে চলল। কিন্তু সে আদেশের বাস্তবায়ন লক্ষ করা যাচ্ছে না। কিন্তু কোনো জাতি তার নিজ ভাষা ও সংস্কৃতিকে এরকম অবজ্ঞা-অবহেলা করে সামনে এগোতে পারে না। জাতীয়ভাবে আমাদের বিষয়টি অনুধাবন করতে হবে।

মানুষকে জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করে থাকে বই। আমাদের আত্মাকে করে শুদ্ধ। একটি ভালো বই সৃজনশীলতা ও নতুন ভাবনায় দীক্ষিত করে। ভেসে যায় সব ধরনের কুসংস্কার, বিভ্রান্তি ও গোঁড়ামি। গ্রন্থমেলায় এমনই শত সহস্র বই পাঠকের মন ও মস্তিষ্কে ছড়িয়ে দেবে নতুন ভাবনা ও সৃজনশীলতা। প্রাণের মেলায় প্রতিদিন নিত্যনতুন বই বিমোহিত করবে সব ধরনের পাঠককে- এ প্রত্যাশা আমাদের।

বিগত দুটি গ্রন্থমেলায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এবার মেলার ভেতরে এবং বাইরে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারির মধ্যেও যাতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে, সে ব্যাপারে সর্বাত্মক সতর্ক থাকতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

এবার অবশ্য একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তা হলো ধর্মীয় উসকানিমূলক বইয়ের প্রতি নজরদারির। আমরা আশা করি, ধর্মীয় উসকানিমূলক যেকোনো বই প্রকাশে লেখক, প্রকাশক থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাই সতর্ক থাকবেন। একই সঙ্গে নজরদারির নামে কোনো লেখক-প্রকাশক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নজর রাখতে হতে। এ ছাড়া মেলার ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। লেখক, প্রকাশক ও পাঠকের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সার্থক হয়ে উঠুক প্রাণের এই মেলা।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম