সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : দুইবার গ্রেনেড হামলার শিকার হয়েও প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। তবে পারলেন না রোগ থেকে। কয়েক বছরের চিকিৎসাকে ব্যর্থ করে দিয়ে রবিবার ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি।

রক্তে হিমোগ্লোবিন স্বল্পতাজনিত অসুস্থতা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন সুরঞ্জিত। শুক্রবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ল্যাব এইডে ভর্তি করা হয়। কয়েক মাস আগে তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত বলে খবরও প্রকাশ হয়। পরে সুরঞ্জিত নিজেই জানিয়েছিলেন, তার রোগটা ক্যানসার নয়। ইতোমধ্যে তিনি আমেরিকায়ও চিকিৎসা নিয়েছেন।

ছাত্র জীবন থেকেই সাধারণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করে গেছেন সুরঞ্জিত। সাম্যবাদের আদর্শে দীক্ষিত হন তিনি, শুরু করেন বামপন্থি রাজনীতি। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে ন্যাপ থেকে দাঁড়ান সুনামগঞ্জে। তাকে বিমুখ করেননি এলাকার ভোটার। আসলে কখনও তাকে বিমুখ করেনি জনগণ।

জনগণের জন্য কাজ না করলে সাতবারের সংসদ সদস্য হওয়া কি চাট্টিখানের কথা? তবে তিনি জনগণের ভালোবসাই কেবল অর্জন করেননি, তৈরি হয়েছিল বহু শত্রুও। আর তাকে হত্যার চেষ্টাও হয়েছিল। বিশেষ করে

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় আহতদের মধ্যে ছিলেন সুরঞ্জিতও। তার সেদিনের রক্তমাখা পোশাকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবারও ছড়িয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশে চালানো ওই হামলায় ২৪ জন নিহত হয় আহত হয় প্রায় ৩০০ মানুষ। বঙ্গবন্ধু কন্যাকে সেদিন মানববর্ম বানিয়ে যারা বাঁচিয়েছিলে তাদের মধ্যে সুরঞ্জিতও ছিলেন।

গ্রেনেড হামলায় রক্তাক্ত সুরঞ্জিতের গায়ে বিঁধেছিল অজস্র স্প্লিন্টার। বহু অপারেশনের পরও বেশ কিছু রয়ে গিয়েছিল তার গায়ে।

একই বছরের ২১ জুন গ্রেনেড হামলা হয় সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে। ওই এলাকার আখড়া পয়েন্টে আওয়ামী লীগের জনসভায় এই গ্রেনেড হামলার মূল লক্ষ্য ছিল সুরঞ্জিত। তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও নিহত হন যুবলীগ কর্মী ওয়াহিদ। আহত হয়েছিলেন প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী। হামলার আগে আগে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন সুরঞ্জিত।

এই মামলার বিচার এখনও শেষ করা যায়নি। এ নিয়ে নানা সময় সুরঞ্জিত তার অসন্তোষও জানিয়েছিলেন। সেই অসন্তোষ নিয়েই তিনি এখন চলে গেছেন পরপারে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম