সংবাদ শিরোনাম

 

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি : দীর্ঘদিন মেরামত না করায় কুলিয়ারচর উপজেলা সদরের প্রধান সড়কের বেইলি সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এরপরও সেতুটির ওপর দিয়ে যানবাহন পারাপার হচ্ছে। ফলে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় সেতুটি দাড়িয়াকান্দি-কুলিয়ারচর সড়কে কুলিয়ারচর পৌর শহরের ভাটি দোয়ারিয়া এলাকায় অবস্থিত। সেতুটির অধিকাংশ পাটাতনের জোড়া খুলে গেছে। নিচ দিয়ে খুলে গেছে নাট-বল্টু। ফলে গাড়ি পারাপারের সময় বেশি শব্দ হয় এবং সেতু কেঁপে ওঠে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক থেকে উপজেলা সদরে ঢোকার একমাত্র সড়কে দুই যুগ আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়। অল্প সময়ের মধ্যে পাকা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও তা করা হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে সেটি মেরামত করাও হচ্ছে না। এ কারণে সেতুটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
যানবাহনের কয়েকজন চালক বলেন, যেহেতু সেতুটি মহাসড়ক থেকে উপজেলা সদরে ঢোকার একমাত্র সড়কে অবস্থিত, সে কারণে হালকা ও ভারী সব ধরনের যান এটির ওপর দিয়ে চলাচল করে। নয় টন ধারণক্ষমতার ট্রাকও এর ওপর দিয়ে পারাপার করতে হয়। পাটাতন পরিবর্তন এবং খুলে যাওয়া নাট-বল্টু সংযোজন না করায় ঝুঁকির মাত্রা বেড়েছে। এ কারণে তাঁরা দোয়া-দরুদ পড়ে সেতুটি পার হন।

মিজানুর রহমান (৩৫) নামের একজন ট্রাকচালক বলেন, ‘প্রায়ই মালভর্তি ট্রাক নিয়ে সেতুটি পার হতে হয়। পার  সময় ব্রিজ (বেইলি সেতু) কাঁপে, লগে ভয়ে আমিও কাঁপি। তখন দোয়া ইউনুস পড়ে পার হই।’ এক বছরের মধ্যে চারবার তাঁর ট্রাকের চাকা পাটাতন ভেঙে আটকে গেছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় কয়েকজন বলেন, সেতুটির ওপর দিয়ে হেঁটে পার হওয়ার সময়ও অনেকের পা পাটাতনের ফাঁকে আটকে যায়। পা কেটে গিয়ে রক্ত ঝরে।

সেতু লাগোয়া দোকানি উজ্জ্বল মিয়া বলেন, প্রায় প্রতিদিন সেতুটিতে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটছে। দুই দিন আগেও এক দিনে তিনবার পাটাতনে গাড়ি আটকে যানজট তৈরি হয়।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, এ কথা ঠিক যে সেতুটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সড়কটি দিয়ে সব ধরনের যান চলে। এ কারণে বেইলি সেতুর পরিবর্তে পাকা সেতু হলো স্থায়ী সমাধান। তবে এই মুহূর্তে জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের অনুরোধ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। আশার সংবাদ হলো, বৃহত্তর ময়মনসিংহ পল্লি উন্নয়ন সড়ক প্রকল্পের (বিএমআরআইডিপি) অধীনে সেতুটি তালিকাভুক্ত হওয়ার পথে। হয়ে গেলে চার কোটি টাকা ব্যয়ে পাকা সেতু হয়ে যাবে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম