সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকার প্রতারণা করছে এমন অভিযোগ করে সত্যিকার অর্থে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে দেন যাতে মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে। মুখ খুলে কথা বলতে পারে এবং তার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পেতে পারে।’

সোমবার বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বিএনপির মানবাধিকার সেল কর্তৃক প্রকাশিত ‘ফাইটিং মিলিটেন্সি ইন  কিউইস্ট অফ পিস’ বইয়ের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদের উত্থানের কথা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘নাইন-ইলেভেনের পর থেকে গোটা পৃথিবীর শান্তির যে চেহারা পাল্টে যেতে শুরু করে। সিরিয়া, লিবিয়া, মিয়ানমারসহ সমগ্র বিশ্বের রাজনৈতিক চেহারা পাল্টে দিয়েছে। আজকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলামানদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দ্বারা মায়ের পেটে শিশুকে গুলি করে মারা হচ্ছে, সাংবাদিকদের গুলি করে মারা হচ্ছে। ’

ফখরুল বলেন, ‘যেখানে গণতন্ত্র থাকবে না সেখানে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রাবাদের জন্ম হবে এবং তা আরও প্রসারিত হবে। এই কথাটি হলো আসল কথা। যেটি আমরা বারবার বলার চেষ্টা করছি। এই সন্ত্রাসবাদকে মোকাবেলা করার জন্য প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য।’

বিএনপি শুরু থেকে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিল এমন দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘তাবেল্লা সিজার হত্যার পর যখন বিএনপির জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছিল তখন প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্ক থেকে বললেন এটার সঙ্গে বিএনপি যুক্ত। এরপর আর কি নিরপেক্ষ তদন্ত হবে? এখন পর্যন্ত এইসব ঘটনায় যাদের ধরা হয়েছে তাদের সবাইকে হয়তো ক্রসফায়ার বা অন্যভাবে মেরে ফেলা হয়েছে।’

‘জঙ্গিবাদ নিয়ে সরকার ফায়দা নিতে চায়’ এমন অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বারবার বলছি আপনারা (সরকার) সত্যিকার অর্থে জঙ্গিবাদ দমনে আন্তরিক হলে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের খুঁজে বের করুন। যে কাজটি বিএনপি ২০০৪-০৫ সালে করেছিল। কিন্তু আপনারা তা করছেন না। ইচ্ছাকৃতভাবে করছেন না, কারণ এতে আপনাদের রাজনৈতিক ফায়দা নিতে সুবিধা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। ২০০৫ সালে জঙ্গিবাদ বাড়তে থাকে। নতুন নতুন জঙ্গি সংগঠনের সৃষ্টি হয়। আমরা তখন এরসঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করেছি। বিচারের আওতায় নিয়ে এসেছি। আপনাদের আমলেই ব্লগার হত্যা হচ্ছে, প্রকাশকরা হত্যা হচ্ছে। কারণ আপনারা এদের প্রশ্রয় দেন।’

তথ্যমন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে ফখরুল বলেন, ‘সরকারের একজন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী তিনি বলেছেন বেগম খালেদা জিয়া জঙ্গিবাদের প্রশ্রয় দেন। কী দৃষ্টতা? যারা লড়াই করেছি, ১৯৭১ সালে যারা যুদ্ধ করেছি, নির্যাতিত হয়েছি, নিপীড়িত হয়েছি তাদেরকে বাংলাদেশে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন ও স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেয়া লোকেরা সন্ত্রাসী বলছে। এগুলো বলতে বলতে তারা কিছুটা সফলও হয়েছে।’

জঙ্গিবাদকে ব্যবহার করা হচ্ছে এমন দাবি করে ফখরুল বলেন, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য এই বিষয়টি সরকার যাতে না করতে পারে এজন্য একটি মাত্র পথ জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে, সচেতন করে লড়াই করতে সোচ্চার করতে হবে।  কারণ জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়।  আমরা (বিএনপি) সব ধরনের জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে।’

জাসাসের সভাপতি অধ্যাপক মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সেলিমা রহমান, শওকত মাহমুদ, ঢাবি শিক্ষক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, বিএনপি নেতা রুমিন ফারহানা, শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম