সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম জানিয়েছেন, বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের গঠনমূলক ব্যবহারের পাশাপাশি ইদানিংকালে মানহানিকর প্রচারণা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব সমস্যা দূরীকরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়ে থাকে। বর্তমানে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ সরকারকে সাড়া দিচ্ছে।

জাতীয় সংসদে সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফিরোজা বেগমের (মহিলা আসন-৩৩) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানিয়েছেন।

তারানা হালিম বলেছেন, ‘ফেসবুকের গঠনমূলক ব্যবহারের পাশাপাশি এর ধ্বংসাত্মক, বিশেষ করে, সমাজে অস্থিতিশীলতা, বৈষম্যমুলক প্রচারণা ও নানাবিধ মানহানিকর প্রচারণা ইনাদিংকালে বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব সমস্যা দূরীকরণের জন্য প্রতিনিয়ত ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হয়ে থাকে। সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যমে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়ে থাকে।’

তিনি আরো বলেছেন, ‘এ বিষয়ে মূল দায়িত্ব পালন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের অনুরোধে ও প্রেরিত তালিকা অনুযায়ী বিগত দেড় বছরে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ফেসবুকে সন্ত্রাস, ধর্মীয় উস্কানীসহ অন্যান্য আপত্তিকর বিষয়ে সর্বমোট ১৯৬টি একাউন্ট, পেইজ/লিঙ্ক বন্ধ করার জন্য তাদেরকে অনুরোধ করা হয়। এর মধ্যে তারা মোট ৮৭টি একাউন্ট, পেইজ/লিঙ্ক বন্ধ করেছে এবং বর্তমানে তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সাড়া দিচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেছেন, ‘বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, এনটিএমসি এবং গোয়েন্দা সংস্থা হতে জঙ্গিবাদ ছড়ানো বিষয়ে ফেসবুক এবং অনলাইন মিডিয়ার সর্বমোট ৩১টি একাউন্ট, পেইজ/লিঙ্ক এবং বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল, ব্লগ বন্ধ করার জন্য ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এবং সকল আইআইজিকে অনুরোধ করা হয়। এর মধ্যে মোট ২৬টি একাউন্ট, পেইজ/লিঙ্ক এবং নিউজ পোর্টাল, ব্লগ বন্ধ হয়েছে।’

তিনি জানিয়েছেন, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সংগঠিত অপরাধ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নজরদারি নিশ্চিতকল্পে এবং এ ব্যবস্থাকে অধিকতর শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যে ইন্টারনেট সেফটি সলিউশন নামক সিস্টেম ক্রয় পক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তিনি বলেছেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়াসহ অনলাইন মিডিয়াগুলো মানুষের সক্ষমতা অনেক ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি করে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মতো বাংলাদেশেও কখনও কখনও এর অপব্যবহার লক্ষণীয়। এ সমস্থ মিডিয়ার সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিতকল্পে মিডিয়াগুলোর নিজস্ব নীতিমালা রয়েছে। যেমন ফেসবুক এবং গুগল তাদের নিজস্ব নীতিমালা দ্বারাই পরিচালিত। এ ছাড়াও দেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন-২০১৩ এবং তথ্য অধিকার প্রবিধামালা-২০১০ রয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা-২০১৫ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৬ প্রণয়নের কাজ চলছে।’

সকল সাইবার ক্যাফে সিসিটিভি স্থাপন এবং রেকর্ড সংরক্ষণসহ এ সংক্রান্ত অনুশাসনসমুহ কঠোরভাবে মনিটরিংয়ের জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে বলে জানিয়ে তারানা হালিম বলেছেন, ‘এসব বিগত ১ বছর ধরে কার্যকর হচ্ছে।’


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম