সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা।

জাতীয়সংসদে সোমবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নাসিমা ফেরদৌসীর (মহিলা আসন-১৩) তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেজে রক্ষিত ঋণ তথ্যের ভিত্তিতে বর্তমানে (নভেম্বর ২০১৬) সকল ব্যাংক ওআর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি ব্যক্তি বা কোম্পানির সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৩২ জন। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ শ্রেণিকরণ বিবরণী মোতাবেক বর্তমানে (সেপ্টেম্বর-২০১৬) ব্যাংকসমুহের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৮ হাজার ৮৭৭ কোটি টাকা। যা মোটে ঋণের ৯.২৬ শতাংশ।’

এ সময় অর্থমন্ত্রী আরো বলেছেন, ‘আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার ৫৫৮কোটি টাকা। যা মোট ঋণের ৮.৯৪ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা।’

খেলাপি ঋণ আদায়ে সরকার তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেছেন, ‘খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে অর্থ ঋণ আদালত আইন ২০০৩, দেউলিয়া আদালত আইন ১৯৯৭ ও পাবলিক ডিমান্ড রিকোভারি অ্যাক্ট-১৯১৩ রয়েছে। খেলাপি বা শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তদারকির জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি পৃথক টাস্কফোর্স সেল রয়েছে। উক্ত সেলের মাধ্যমে অর্থ ঋণ আদালতসহ অন্যান্য আদালতে দায়েরকৃত মামলাসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।’

তিনি জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও এর বিভিন্ন শাখা অফিসমূহ কর্তৃক ব্যাংকারদেরসাথে বিভিন্ন সমন্বয় সভায় ব্যাংকিং খাতের শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের কার্যকর পদ্ধতি অবলম্বনের বিষয় ব্যাংকসমূহে প্রয়োজনীয় পরামর্শ বা নির্দেশনা প্রদানের কাজ চলমান রয়েছে।

অর্থ-ঋণ আদালত আইন-২০০৩ এর অধীনে আদালতের বাইরে বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমেও শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকসমুহের সাথে সমঝোতা স্মরক সম্পাদনের মাধ্যমে শ্রেণিকৃত ঋণ আদায়ের কার্যক্রমকে তরান্বিত করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘খেলাপি ঋণ আদায়েরলক্ষ্যে স্থানীয় ও বিশ্ববাণিজ্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা পূর্বক সময়ে সময়ে পুনঃতফসিলিকরণ ও পুনর্গঠন নীতিমালা শর্ত শিথিল করা হয়েছে।’

মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মতিনের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৬ মাসে (ডিসেম্বর ২০১৬) সারাদেশে তফসিলী ব্যাংকসমূহ মোট ৯ হাজার ৯৩৩ কোটি ৫ লাখ টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণ করেছে। এ ঋণের আরোপিত সুদের হার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ। তবে ডাল, তৈলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভূট্টা চাষে মাত্র ৪ শতাংশ রেয়াতি সুদের হারে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে ৬ শতাংশ হারে সুদ ভর্তুকি প্রদান করে থাকে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম