সংবাদ শিরোনাম

 

মোঃ রাসেল হোসেন, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহে পুলিশের পৃথক অভিযানে ভালুকার হাশেম হত্যাকান্ডের মূলঘাতক ও কলেজ ছাত্রী অপহরণকারী চক্রের মূলহোতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় নিহত হাশেমের দুই হাত, পা ও মাথার কংকাল (মাথার খুলি) এবং অপহৃতা কলেজ ছাত্রী সুরাইয়া জাহান সেতুকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে তাদেরকে গাজীপুর ও ভালুকা থেকে গ্রেফতার করে। সোমবার দুপুরে ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম তার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্য জানান।
পুলিশ সুপার জানান, ভালুকার আংগারপাড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবুল হামেশের স্ত্রী আছমার সাথে পাশ্ববর্তী মাহমুদুল ইসলাম মাহার সাথে পরকীয়া সৃষ্টি হয়। আবুল হাশেম তাঁর আত্বীয় স্বজনদের মাধ্যমে খবর পেয়ে দেশে ফিরে আসে। এ সময় স্বামী হামেশের সাথে স্ত্রী আছমার দাম্পত্য কলহ দেখা দেয়। পরকীয়ায় বাধা হয়ে উঠার কারণে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করে চক্রটি। এক পর্যায়ে গত ১৪/১১/১৬ তারিখ রাতে স্ত্রী আছমা তার মেয়ে মুক্তা, সাইফুল ও পরকীয়া প্রেমিক মাহাকে নিয়ে স্বামী আবুল হামেশকে প্রথমে খাবারের সাথে চেতনা নাশক ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে নির্মমভাবে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে। পরে তাঁর লাশ গুম করতে বর্বোরোচিত লোমহর্ষক কান্ড ঘটিয়ে নিহত আবুল হাশেমের শরীর থেকে মাথা, দুই হাতু দুই পা বিচ্ছিন্ন করে মৃতের শরীর পার্শ্ববর্তী একটি পোল্ট্রি ফার্মের খালি জায়গায় ফেলে রাখে। এছাড়া বিচ্ছিন্ন মাথা, হাত ও পা বস্তাবন্ধি করে একপি মুরগীর ফার্মের বর্জ্য ফেলার কুপে ফেলে চাপা দিয়ে রাখে।
এ বর্বোরোচিত লোমহর্ষক ঘটনার পরও স্ত্রী আছমা তার স্বামীকে খুজে না পাওয়া এবং অপহরণ হয়েছে দাবী করে ভালুকা থানায় অভিযোগ করেন। তদন্তে নিহত হাশেম অপহরণ না হওয়া এবং তাঁর নিখোজের পিছনে স্ত্রী কন্যা জড়িত থাকার কথা নিহতের পরিবার ও আত্বীয় স্বজনকে অবহিত করে পুলিশ। এদিকে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ নিহত হাশেমের মাথা ও হাত পা বিহীন খন্ডিত মৃত দেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মান্নান বাদী হয়ে ভালুকা থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা নং ২৪(১১)১৬ দায়ের করে।

16463255_1641689646132943_5351560982963951402_o
মামলায় নিহতের স্ত্রী আছমা ও কন্যা মুক্তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দীর্ঘ সময়েও নিহতের মাথা, হা ও পা উদ্ধারসহ ভালুকা থানা মামলার কুলকিনারা করতে না পারায় এসপির নির্দেশে গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। ডিবি পুলিশের এলআইসি বিভাগ এসআই পরিমল চন্দ্র দাস ও ইকতিয়ার উদ্দিন পুলিশ হেডকোয়ার্টার ও সিআইডির এলআইসির সহায়তায় তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে পরকিয়া প্রেমিক মাহাকে শনিবার গ্রেফতার করে। এছাড়া রবিবার আছমার ভাই সাইফুল ইসলামকে দিনাজপুর থেকে গ্রেফতার করে। সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বিকার করে এবং তাঁর তথ্য মতে নিহতের কন্ডিত মাথা, দুই হাত পা জনৈক জুয়েলের বাড়ীর পার্শ্ববর্তী মুরগীর ফার্মের বর্জ্য ফেলার কুপ থেকে রবিবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করে।
অপরদিকে জেলা সদরের দাপুনিয়া হলিচাইল্ড ইন্টান্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী সুরাইয়া জাহান সেতুকে কলেজে যাওয়ার পথে গত ২৯ জানুয়ারী পার্শ্ববর্তী সারোয়ার হাসান নয়ন ও তার সহযোগীরা অপহরণ করে। এ নিয়ে বিক্ষোভ, মানববন্ধন অবরোধ করে এলাকাবাসীসহ কলেজ শিক্ষার্থী অভিভাবকরা। কোতোয়ালী পুলিশের ওসি মোঃ কামরুল ইসলাম ও ডিবি পুলিশের ওসি ইমারত হোসেন গাজীর নেতৃত্বে ডিবির এলআইসি বিভাগ তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে রবিবার রাতে অপহরণকারীচক্রের মুলহোতা নয়নকে বালুকা থেকে গ্রেফতার করে। পরে নয়নের সহযোগীতায় অপহৃতা সেতুকে উদ্ধার করা হয়।  প্রেস ব্রিফিংকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএ নেওয়াজী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আল আমিন, ওসি কামরুল ইসলাম, ওসি ইমারত হোসেন গাজীসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম