সংবাদ শিরোনাম

 

না-ফেরার দেশে চলে গেছেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রবীণ ও অভিজ্ঞ পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। রোববার ভোররাতে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে তার। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী সুরঞ্জিতের সংসদীয় রাজনীতিতে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অতুলনীয়। ব্যতিক্রমধর্মী প্রখর যুক্তিবোধসম্পন্ন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের মৃত্যুর মাধ্যমে বলা যায় দেশের রাজনীতির একটি অধ্যায়ের অবসান হলো।

দেশের প্রথম সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। এছাড়া পঞ্চদশ সংবিধান সংশোধন কমিটির কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তুখোড় পার্লামেন্টারিয়ান সুরঞ্জিত সর্বশেষ বর্তমান সংসদে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ছিলেন।

১৯৪৬ সালে সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে জন্মগ্রহণ করেন সুরঞ্জিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রিধারী সুরঞ্জিত কর্মজীবনের শুরু থেকে যুক্ত ছিলেন আইন পেশার সঙ্গে। তবে ছাত্রজীবন থেকেই তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বিপুল বিজয় অর্জন করেছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগের বাইরে হাতেগোনা যে কজন সদস্য নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব দেখিয়েছিলেন সুরঞ্জিত ছিলেন তাদেরই একজন। তিনি ছিলেন ন্যাপ থেকে বিজয়ী একমাত্র প্রার্থী।

এরপর ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও তিনি অংশ নিয়েছেন। পাঁচ নম্বর সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার ছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় নির্বাচনেও তিনি ন্যাপের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। এরপর দ্বিতীয়, তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম জাতীয় সংসদে তিনি নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ ও ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি জয়লাভ করেছিলেন একতা পার্টি ও গণতন্ত্রী পার্টির প্রার্থী হিসেবে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি নির্বাচন করেন। সে বছর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংসদবিষয়ক উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন সুরঞ্জিত।

তার অসাধারণ বাগ্মিতা, তীক্ষ্ণ যুক্তি আর উপস্থাপনার জুড়ি মেলা ভার। সাংবিধানিক বিতর্ক চলাকালে তার বক্তব্য সব সময় গুরুত্ব পেয়েছে। রাজনীতির এই কৃতী পুরুষের মৃত্যুতে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতার সৃষ্টি হলো তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।

সংসদীয় গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে তিনি সরকারি দলে থাকেন আর বিরোধী দলে থাকেন সব সময় দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করতেন। সংবিধান ও সংসদ সম্পর্কে তার জ্ঞান ও প্রজ্ঞা অতুলনীয় ছিল। যে কারণে নিজ দলের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধীরাও তার প্রজ্ঞা ও মেধার প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন।

রাজনীতির উজ্জ্বল একটি অধ্যায়ের নাম সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। কথার মাধ্যমে মানুষকে সহজে আকর্ষণ করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তার। দেশের স্বাধিকার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতা-পরবর্তী গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে তার অবদান অসামান্য। তার মৃত্যু আমাদের গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম