সংবাদ শিরোনাম

 

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইলে নিজের ছেলেকে লুকিয়ে রেখে সমবয়সী এক ছেলেকে হত্যা করে ২য় স্ত্রীসহ শ্বশুরবাড়ীর লোকজনকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেছে রফিকুল ইসলাম ওরফে ভুলু। ঘটনার প্রায় এক বছর পর খুন হওয়া (পিতার দাবীকৃত) ছেলে রবিন (৯) ময়মনসিংহের আদালতে লুকিয়ে রাখার ব্যাপারে পিতা ভুলুকে জড়িয়ে জবানবন্ধি দেয়। এর আগে রবিনকে জেলা ডিবি পুলিশের এসআই মলয় চক্রবর্তী নান্দাইল থেকে মঙ্গলবার উদ্ধার করে। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে নিহত রবিনটি আসলে কে এবং তার পরিচয়।
ডিবি পুলিশ জানান, নান্দাইলের ভাটি বিলপাড় এলাকার রফিকুল ইসলাম ভুলু সাথে বনিবনা না হওয়ায় প্রথম স্ত্রী চার সন্তান রেখে অন্যত্র চলে যায়। পরে কিশোরগঞ্জে রাহিমা আক্তার সাথী নামের অপর এক নারীকে বিয়ে করেন। সাথীর সাথে বনিবনা না হওয়ায় সে পিত্রালয়ে চলে যান। এদিকে ভুলু ২য় স্ত্রীকে পিতার বাড়ী থেকে আনতে গেলে স্ত্রী সাথী, ভাই কামাল ও মঞ্জিলসহ অন্যরা তাকে মারধর করে। এ আক্রোশে স্ত্রী সাথী ও তার ভাইদের শায়েস্তা করতে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করে। এক পর্যায়ে নিজ ছেলে রবিন (৯) কে লুকিয়ে রেখে (ঢাকায় বাসায় কাজে দিয়ে) ছেলেকে অপহরণ ও পরে হত্যা করার অপরাধে মামলার পরিকল্পনা করে। খুনের পরিকল্পনায় এর আগে ছেলে রবিনকে দিয়ে একাধিক লোকজনকে জড়িত করে চিরকুট লিখে রাখে। পরে নান্দাইল রোড স্টেশন থেকে তাঁর ছেলের বয়সী অজ্ঞাতনামা এক ছেলেকে ফুসলিয়ে এনে অপর একজনের সহায়তায় হত্যা করে পরিত্যাক্ত ইটভাটায় ফেলে রাখে। এর আগে নিহত ছেলের পড়নে নিজের স্কুল ড্রেস ও লুঙ্গি পড়িয়ে তার পকেটে ছেলে রবিনের নিজ হাতের লেখা চিঠি রেখে আসে। স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশের অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে। এ খবরে ভুলুর আত্বীয় স্বজন থানায় গিয়ে লাশ দেখে তাদের রবিন বলে সনাক্ত করে। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্তকালে বাড়ীর লোকজনের কাছ থেকে জানতে পায় পিতা ভুলু তার ছেলে রবিনকে কয়েকদিন আগে ঢাকায় কাজে দিবে বলে বাড়ী থেকে নিয়ে গেছে। এতে পিতার প্রতি সন্দেহ হলে পুলিশ পিতা ভুলুকে আটক করে। এদিকে ছেলে রবিন ঢাকা থেকে অসুস্থ্য অবস্থায় বাড়ী ফিরে আবারো চলে যায়। এ নিয়ে মামলায় জটিলতা দেখা দেয়। মামলা ডিবি পুলিশের কাছে এলে তদন্ত শুরু করে এসআই মলয় চক্রবর্তী। অজ্ঞাতনামা নিহত ছেলের লাশের সন্ধানে নামে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত ভুলুকে পুলিশ রিমান্ডে নিলে ভুলু তার ছেলে রবিন সম্পর্কে জানায়, অপহরণ মামলার পর তাঁর ছেলেকে সে ফেরত পায়। অপহরণ মামলায় ২য় স্ত্রীসহ অন্যদের শাস্তি না হওয়ায় সে রবিনকে হত্যার মাধ্যমে স্ত্রী সাথীসহ অন্যদের ফাসানোর পরিকল্পনা করে। পরে নান্দাইল রোড স্টেশন এলাকা থেকে ভিক্ষুক অজ্ঞাকনামা এক ছেলেকে এনে রাতে হত্যা করে নিজের ছেলের কাপড় চোপড় ও লেখা চিঠি পকেটে রেখে পালিয়ে যান। তবে ছেলেটির বাড়ী কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া এলাকায় দাবী করলেও এ ঠিকানা সঠিক নয় বলে পুলিশ জানায়। গ্রেফতারকৃত ভুলু নিহত ছেলে এবং তাঁর নিজের ছেলে রবিনকে নিয়ে নানা তথ্য দিলেও পুলিশ মামলাটির কুলকিনারা করতে না পেরে গতকাল মঙ্গলবার নান্দাইল থেকে জীবিত রবিনকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় এক বছর আগে খুন হওয়া জীবিত রবিন গতকাল আদালতে জবানবন্ধি দেয়। জবানবন্ধিতে রবিন জানায়, তারা চার ভাইবোন। পিতার অত্যাচারে তার মা অন্যত্র চলে গেলে সে আবারো কিশোরগঞ্জের সাথীকে ২য় বিয়ে করে। তাদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় সৎ মা পিতার বাড়ীতে চলে যায়। পিতা ভুলু তাকে আনতে গেলে সৎ মা ও তার ভাইয়েরা পিতা ভুলুকে মারধর করে। অসুস্থ্য অবস্থায় পিতা বাড়ী ফিরে আসে। বাড়ীতে এসে রবিনকে দিয়ে একটি চিঠি লেখায়। চিঠিতে কয়েকজনের নাম মোবাইল নাম্বার লেখায়। পরে তাকে (রবিন) ঢাকায় কাজে পাঠায়। এদিকে বাবা বুলু সবার কাছে জানায় তাকে (রবিন) মেরে ফেলা হয়েছে। তবে আমি সুস্থ্য আছি বলে আদালতে দাবী করে। এলাকাবাসী জানতে চায় আসলে নিহত ছেলেটিকে এবং তার পরিচয় কি।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম