সংবাদ শিরোনাম

 

শেরপুর প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার অংশ খারামোরা পাহাড়ে বসবাসকারী বাঙালি ও আদিবাসীদের জীবনে আর্শীবাদ বয়ে আনতে পারেনি খরস্রোতা নদী সোমেশ্বরী। বর্ষাকালে ওই নদীর দু’পাড় পানিতে থাকে টইটম্বুর। তখন যাতায়াতের একমাত্র ভরসা নৌকা। আর তখন প্রায়ই ঘটে নৌকাডুবির ঘটনা। বন্ধ হয়ে যায় কয়েকশ শিক্ষার্থীর স্কুলে আসা। স্থবিরতা আসে ব্যবসা-বাণিজ্যে। অসুখ-বিসুখে স্থানীয়রা পড়েন চরম বিপাকে। আর গতিহীন হয়ে পড়ে সাধারণ মানুষের চলাফেরা। শুধু একটি সেতুই পাল্টে দিতে পারে ওই দুই উপজেলার ২৫টি গ্রামের লাখো মানুষের জীবনচিত্র।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ওই এলাকায় সেতু নির্মাণের একটি প্রস্তাব একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীর পাহাড়ঘেরা নিভৃত পল্লী খারামোরা গ্রাম। এ গ্রামটির উপর দিয়েই বয়ে গেছে সোমেশ্বরী নদী। এ নদীর দু’পাড়ে রানীশিমুল ও কাংশা ইউনিয়নের রাঙাজান, কোচপাড়া, তাওয়াকোচা, বালিজুরি, খ্রিস্টান পাড়া, পূর্ব কালিনগড়, পশ্চিম কালিনগড়সহ ২৫টি গ্রাম। খারামোরা গ্রামে রয়েছে ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি দাখিল মাদ্রাসা আর নদীর ওপারে বালিজুড়িতে রয়েছে ২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি দাখিল মাদ্রাসা, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাজার। জীবনের তাগিদে চলাচলের জন্য গ্রামবাসীর সহায়তায় সোমেশ্বরী নদীর উপর তৈরি করা হয়েছে একটি সরু বাঁশের সাঁকো। শুকনো মৌসুমে ওই সাঁকোটি সাময়িক ব্যবহার করা গেলেও বর্ষার সময় নদীতে পাহাড়ি ঢলের মাত্রা তীক্ষ্ণ থাকায় সাঁকোটিরও হদিস থাকে না।

সরকারি বালিজুড়ি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসমা ও শিমু জানায়, বর্ষার সময় নদী পার হয়ে স্কুলে আসার জন্য সব সময় নৌকা পাওয়া যায় না। তখন সাঁতরে স্কুলে আসতে হয়। এ সময় বইখাতা ও পরনের কাপড় ভিজে যায়। ঠিকমত ক্লাস করতে পারে না তারা। শরীর ভিজে যাওয়ায় অনেক সময় জ্বর, কাশি ও পানির শ্যাওলায় ঘাঁ পাচড়া হয়।

খারামোরা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. সামেদুল হক ও রাসেল গাজী বলেন, কয়েকশ শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসতে হয়। বর্ষার সময় পাহাড়ি ঢলের কারণে সোমেশ্বরী নদীর এপারের ছাত্রছাত্রীরা ওইপাড়ে যেতে পারে না। আবার অপর পাশের ছাত্রছাত্রীরা এপারে আসতে পারে না। তবে কেউ কেউ নৌকায় আসার চেষ্টা করে। ঘটে নৌকাডুবির ঘটনাও। যে কারণে অনেক ছাত্রছাত্রী ভয়ে স্কুলে আসতে চায় না।

কোচপাড়া গ্রামের কৃষক আমজাদ মিয়া, হবিবর ও দিলু বলেন, এখানকার ২৫টি গ্রামের লাখো মানুষ বর্ষার সময় নদীর পারাপারে শঙ্কায় ভোগে। উৎপাদিত শাক সবজি, ধান, পাট ক্ষেতেই পঁচে নষ্ট হয়ে যায়। শুকনা মৌসুমে বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পারাপারে সাময়িক চলাচল করা গেলেও বর্ষার সময় নদীতে পাহাড়ি ঢলের মাত্রা বেশি থাকায় সাঁকোটি ভেসে যায়। বর্ষা শেষে আবার নতুন করে সাঁকোটি তৈরি করে নিতে হয়।

আদিবাসী নেতা ভুপেন্দ্র সাংমা বলেন, যুগ যুগ ধরে আমরা এখানে বসবাস করে আসছি। প্রতি বছর আমাদের নদী সাঁতরে পাড়ি দিতে হয়। সাইকেল কাঁধে নিয়ে পাড়ি দিতে হয়, যখন একবুক পানি হয়, তখন পাড়ি দেয়া যায় না। নদী পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করলে কয়েকবার নাকানি-চুবানি খাবার পর আমাদের তীরে উঠতে হয়।

স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক জাহিদ বলেন, নদী যখন ভরা থাকে ওই সময় মুমূর্ষ রোগীকে ঘাড়ে তুলে অথবা কলার ভেলা বানিয়ে নদী পার করে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হয়। অনেক সময় রোগীকে নদী পার করা সম্ভব হয় না। তখন রোগীর স্বজনরা এসে কান্নাকাটি করে। পরে বাধ্য হয়ে লুঙ্গি পরে নদী সাঁতরে গিয়ে রোগীর চিকিৎসা করে আসি।

এ সম্পর্কে শ্রীবরদী এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সোমেশ্বরী নদীর উপর ১শ ২০ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব একনেকে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। নির্মাণে পাঁচ কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে। অর্থ সহায়তা দেবে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকার।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম