সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : অমর একুশে গ্রন্থমেলা প্রথম সপ্তাহ পার করল। মঙ্গলবার ছিল বইমেলার সপ্তম দিন। গত সাত দিনে মেলায় বিক্রি নিয়ে বেশিরভাগ প্রকাশক সন্তুষ্ট। তবে মেলার অব্যবস্থাপনা নিয়ে অধিকাংশ প্রকাশকই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ইতিমধ্যে বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির পক্ষ থেকে মেলায় অব্যবস্থাপনার এগারোটি বিষয় নিয়ে বাংলা একাডেমিকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তবে সেই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এখনও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন প্রকাশকরা। স্টলের সুুবিন্যাস ও পাঠকের আগমনের দিকগুলো বিবেচনা করলে মেলা জমে উঠেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

এগারো অব্যবস্থাপনার মধ্যে মেলার মাঠে পর্যাপ্ত আলোর অভাব, মাঠের সর্বত্র ইট বসানোর কাজ সুচারুরূপে হয়নি, বিভিন্ন স্টলে পাইরেটেড বই, অপরিষ্কার মেলা চত্বর অন্যতম। এ ছাড়া মোড়ক উন্মোচন মঞ্চটি মানসম্মত না হওয়া, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের তথ্য কেন্দ্র তেমন দৃশ্যমান নয়, মেলায় আগতদের জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও উল্লেখযোগ্য বলে মন্তব্য করেন সংশ্লিষ্টরা। মেলা ঘুরে দেখা গেছে অভিযোগগুলো এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। অব্যবস্থাপনাগুলোর সুরাহা হলে মেলার সামনের দিনগুলো আরও ভালো হবে বলে আশা করছেন সবাই।

মেলার প্রথম সপ্তাহ নিয়ে বলতে গিয়ে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মেলা ভালো হচ্ছে তবে অব্যবস্থাপনার রয়ে গেছে। এ ব্যাপারে আমরা বাংলা একাডেমিকে চিঠি দিয়েছি কিন্তু এখন পর্যন্ত সমস্যাগুলো সমাধানের কেনো উদ্যোগ আমাদের চোখে পড়ছে না। মেলায় প্রবেশ তোরণ দেখে মনে হয় আমরা ৩০ বছর পিছিয়ে গেছি। যারা এই সাজসজ্জার কাজ করেছেন আমার মনে হয় তাদের নান্দনিকতা বোধের অভাব রয়েছে।’

মেলায় এক সপ্তাহে বইয়ের বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে অনন্যা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মনিরুল হক বলেন, গত দু’বছরের তুলনায় এবারের মেলায় আমাদের প্রকাশনার বিক্রি বেশ ভালো। আশা করছি, ১০ তারিখের পর মেলা আরও ভালো হবে। তবে মেলায় মোড়ক উন্মোচন মঞ্চটি দেখতে বেশ দৃষ্টিকটু। আর খাবারের দোকানগুলোতে খাবারের দাম আরও কমানো উচিত।’

প্রথম এক সপ্তাহে মেলায় বইয়ের বিক্রি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অনুপম প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী মিলনকান্তি নাথ ও অন্বেষা প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী শাহাদাত হোসেন।

মেলায় বিভিন্ন প্রকাশনীর কোন বইগুলো ভালো বিক্রি হচ্ছে সে ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে অন্যপ্রকাশ থেকে হুমায়ূন আহমেদের ‘মিসির আলী দশ’, আনিসুল হকের ‘সেরা দশ’, মোশতাক আহমেদের ‘শিকার, মোহিত কামালের ‘বিষাদনদী’, মুস্তাফিজ শফির ‘মায়া মেঘ নির্জনতা’, মোস্তফা কামালের ‘রূপবতী’ বইগুলো ভালো চলছে।

তাম্রলিপির স্বত্বাধিকারী একেএম তরিকুল ইসলাম রনি বলেন, মেলার প্রথম দিন থেকেই মুহম্মদ জাফর ইকবালের নতুন দুটি বই ‘রিটিন’ ও ‘সহজ ক্যালকুলাস’ ভালো বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের মা আয়েশা ফয়েজের ‘শেষ চিঠি’ বইটিও পাঠকের নজর কেড়েছে। আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গণি জানালেন, এ বছর তার প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘নির্বাচিত প্রবন্ধ’ ভালো চলছে। ঐতিহ্যের ব্যবস্থাপক আমজাদ হোসেন কাজল বলেন, ‘মেলায় শুরু থেকেই বিক্রি ভালো। আমাদের এখান থেকে প্রকাশিত বইগুলোর মধ্যে ভালো বিক্রি হচ্ছে- বুলবুল সরওয়ারের ‘জেরুসালেম’, নির্ঝর নৈঃশব্দ সম্পাদিত বঙ্গবন্ধুর ভাষণ-সংকলন ‘ওঙ্কারসমগ্র’ এবং শারমিন আহমদের মুক্তির কাণ্ডারি তাজউদ্দীন : কন্যার অভিবাদন।’

কাকলী প্রকাশনীর এ কে নাছির আহমেদ সেলিম জানালেন, হুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ মিসির আলী, কথামালা, মেহের আফরোজ শাওনের ‘হুমায়ূন সঙ্গীত : নদীর নামটি ময়ূরাক্ষী’, সুমন্ত আসলামের ‘জ্যোৎস্না নিমন্ত্রণ’ ভালো বিক্রি হচ্ছে। অনন্যার ব্যবস্থাপক সাইদুল ইসলাম জানালেন, তাদের প্রকাশনা থেকে ইমদাদুল হক মিলনের ‘নয় মাস’, গোলাম মওলা রনির ‘তাসের ঘরে বাঁশের খুঁটি’ ও ‘আমেরিকার ডায়েরি’, সৈয়দ কলিমুল্লাহর ‘অনন্ত প্রতীক্ষা’ ভালো বিক্রি হচ্ছে। সময় প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী সামিউল ইসলাম খান বলেন, আনিসুল হকের ‘এক লক্ষ লাইক’, সুমন্ত আসলামের ‘হাফ সার্কেল’ বইগুলো ভালো চলছে।

অন্বেষা প্রকাশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায় তাদের প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত মাহবুবুল হক শাকিলের শেষ কাব্যগ্রন্থ ‘জলে খুঁজি ধাতব মুদ্রা’, আনিসুল হকের ‘হাসির গল্প সমগ্র’, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের ‘আন্দোলন-সংগ্রামে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ বইগুলো ভালো চলছে।

প্রাইম ব্যাংকের অমর একুশে কার্ড : একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে মেলায় নির্ধারিত ২৫ ভাগ ছাড়ের বাইরে আরও ২১ ভাগ ছাড়ে অমর একুশে কার্ডের মাধ্যমে বই কেনা যাবে। এই কার্ড এনেছে প্রাইম ব্যাংক লিমিটেড। ১ হাজার টাকা ও ২ হাজার টাকা মূল্যের এই প্রি-পেইড কার্ডটি পাওয়া যাবে ব্যাংকের সব শাখায়। ২১ ভাগ ছাড়ে ১ হাজার টাকার কার্ডটি পাওয়া যাবে ৭৯০ টাকায় আর ২ হাজার টাকার কার্ডটি পাওয়া যাবে ১৫৮০ টাকায়। মেলা চলাকালীন এ অফার চলবে। এ ছাড়া প্রাইম ব্যাংকের সব ক্রেডিট কার্ড হোল্ডার বই কেনাকাটায় ১০ ভাগ ক্যাশব্যাক সুবিধা পাবেন। ব্যাংকটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রি-পেইড কার্ডটি পেতে কোনো ধরনের অ্যাকাউন্ট লাগবে না। এ কার্ড ব্যবহার করে যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে কমিশনে বই কেনা যাবে- অবসর, অনন্যা, অন্যপ্রকাশ, অনুপম প্রকাশনী, আগামী প্রকাশনী, আহমদ পাবলিশিং হাউস, অ্যাডর্ন পাবলিকেশন, কাকলী প্রকাশনী, জার্নিম্যান বুকস, পাঠক সমাবেশ, পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স, মাওলা ব্রাদার্স, সময় প্রকাশন ও সাহিত্য প্রকাশ। মঙ্গলবার বিকালে অমর একুশে গ্রন্থমেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে বিশেষ সুবিধার এ প্রি-পেইড কার্ডটির উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন ও ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ কামাল খান চৌধুরী। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি মাজহারুল ইসলাম, নির্বাহী পরিচালক কামরুল হাসান শায়ক, আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গনি প্রমুখ।

নতুন বই : মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির সমন্বয় ও জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে জানা যায়, প্রথম এক সপ্তাহে নতুন বই এসেছে ৫৭২টি। মঙ্গলবার মেলার সপ্তম দিনে ১২১টি নতুন বই এসেছে। এগুলোর মধ্যে অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশ হয়েছে আনিসুল হকের ‘সেরা দশ গল্প’, অনুপম প্রকাশনী থেকে মোরশেদ শফিউল হাসানের ‘প্রসঙ্গ মুক্তিযুদ্ধ’, কথাপ্রকাশ থেকে শামসুর রাহমানের ‘ছড়া সমগ্র’, কাকলী থেকে মেহের আফরোজ শাওনের ‘হুমায়ূন সঙ্গীত : নদী নামটি ময়ূরাক্ষী’, বেঙ্গল পাবলিকেশন্স থেকে ‘লালন সাঁই মরমী কবি ও দ্রোহী’, ঐতিহ্য থেকে ‘মুক্তির কাণ্ডারি তাজউদ্দীন : কন্যার অভিবাদন’, মেরিট ফেয়ার প্রকাশন থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের ‘বঙ্গবন্ধু, বাঙালি ও বাংলাদেশ’, কথাপ্রকাশ থেকে বেগম আকতার কামালের ‘রবীন্দ্রনাথের ব্রক্ষ্ম ভাবনা’, সময় থেকে কর্নেল (অব.) তৌফিকুর রহমানের ‘গেরিলা ১৯৭১’, নবযুগ থেকে ড. সন্্জীদা খাতুনের ‘রবীন্দ্র বিশ্বাসে মানব অভ্যুদয়’, নালন্দা থেকে প্রকাশ হয়েছে গোলাম কুদ্দুছের ‘কালের ধ্বনি’।

মূলমঞ্চের আয়োজন : মঙ্গলবার গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলা ভাষার প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মোস্তাফা জব্বার।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মো. নজরুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামিলুর রেজা চৌধুরী। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন তিমির নন্দী, বুলবুল মহলানবীশ, মাহমুদ সেলিম ও সন্দিপন দাস।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম