সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে বেশ কিছু নির্বাচনে কারচুপিরোধে ব্যর্থতার সমালোচনার মুখে বিদায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ বলেছেন, পাঁচ বছরের দায়িত্ব পালনে তিনি ছিলেন সফল। অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনে সক্ষমতার প্রমাণ দেয়ার দাবিও করেছেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে মেয়াদ শেষ করার পর বুধবার বেলা তিনটায় আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ এ কথা বলেন।

২০১২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশানার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ এবং তিন কমিশনার আবদুল মোবারক, আবু হাফিজ ও জাবেদ আলী। নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের মতো ওই কমিশনও নিয়োগ পায় সার্চ কমিটির সুপারিশে। সে সময়ের রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান তখনও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ শেষে তাদেরকে নিয়োগ দিয়েছিলেন।

সে সময় নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনে থাকা বিএনপি শুরু থেকেই এই কমিশনকে মেনে নেয়নি। শুরু থেকেই তারা বলে আসছে যে তাদের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়। তবে এই কমিশনের অধীনে ২০১৩ সালের পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তারা উৎড়ে যায় ভালোভাবেই। নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন দিনভর নানা অভিযোগ করলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের ফল যায় বিএনপির পক্ষে। আর ভোটে বল প্রয়োগ বা কারচুপির কোনো অভিযোগও পরে পাওয়া যায়নি।

এই কমিশনের অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের মুখেই। বিএনপি-জামায়াত জোট এ জন্য নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করলেও কমিশন বলেছে, তারা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার জন্য এই ভোট আয়োজন করেছে।

ভোট ঠেকাতে নজিরবিহীন সহিংসতার মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের পর এই কমিশনের অধীনে শান্তিপূর্ণ এবং মোটামুটি গ্রহণযোগ্য ভোট হয় উপজেলা পরিষদের প্রথম তিন পর্বে। অল্প কিছু এলাকায় কারচুপির অভিযোগ থাকলেও মোটাদাগে তিন পর্বের ভোট ছিল অনেকটাই গ্রহণযোগ্য। তবে এর পরের তিন পর্বে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কেন্দ্র দখল, বিএনপিসমর্থিত প্রার্থীদেরকে বাধা দেয়াসহ নানা অভিযোগ উঠে। আর এর প্রতিকারে নির্বাচন কমিশন যথেষ্ট কঠোর হতে পারেনি বলে অভিযোগ আছে। আবার নির্বাচন চলাকালে সিইসি রকিবের ছুটিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা হয় সে সময়।

তিন পর্বের প্রশ্নবিদ্ধ উপজেলা নির্বাচন শেষে এই কমিশনের অধীনে পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেও ব্যাপক কারচুপি ও ক্ষমতাসীনদের আধিপত্য বিস্তারের অভিযোগ উঠে। বিশেষ করে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারাও সমালোচনা করেছেন নির্বাচন কমিশনের।

এ নিয়ে সমালোচনার মুখেই বিদায় নিলেন সিইসি রকিবউদ্দীন আহমেদ। তবে বিদায় বেলায় তিনি কোনো সমালোচনাই গায়ে মাখেননি। বলেন, ‘এই পাঁচ বছরে আমাদের কোনো ব্যর্থতা নেই। চ্যালেঞ্জের ‍মুখোমুখি হয়ে সফলতার সঙ্গে সব কাজ করেছি।’

ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে গত ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট রকিব কমিশনের সবচেয়ে অবিতর্কিত নির্বাচন হিসেবেই ধরা হয়। এই নির্বাচনে ভোটের দিন নজিরবিহীনভাবে বিএনপি একে সুষ্ঠুও বলে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিদায়ী সিইসি বলেন, ‘সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষায় ৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন করতে বাধ্য হয়েছি।’

সিইসিসহ তিন নির্বাচন কমিশনারের মেয়াদ শেষ হলেও আরেক কমিশনার শাহ নেওয়াজ এখনও দায়িত্বে আছেন। তিনি ২০১২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেন। ফলে তিনি ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পদে বহাল থাকছেন।

এরই মধ্যে কে এম নুরুল হুদাকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে পাঁচ সদস্যের নতুন কমিশন নিয়োগ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি তাদের শপথের দিন নির্ধারিত হয়েছে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম