সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে রাজনীতিতে বিএনপি অপ্রাসঙ্গিক হবে বলে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাটের সঙ্গে বৈঠকের পর এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের এ মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির মধ্যে নেগেটিভ বিষয় চলে এসেছে, একটা ধারা। মানি না, মানবো না- এই একটি মানসিকতায় তারা ভুগছে। এটা থেকে তারা বের হতে পারছে না। দেখবেন তারা ঠিকই ইলেকশনে অংশ নেবে।’

কোন বিশ্বাস থেকে বলছেন বিএনপি নির্বাচনে আসবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এটা কোন বিশ্বাসের বিষয় নয়। বিএনপি রাজনীতি করে। তাদেরও তো রাজনৈতিক কৌশল আছে। তারা গত নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ভুল তারা করেছে, এর পরিণাম তাদের যতটা দুর্বল, সংকুচিত দল করেছে, এলোমেলো করেছে, সেখানে তাদের ভবিষ্যতে রাজনৈতিক অঙ্গনে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ার একটা ঝুঁকি থাকে। সেই ঝুঁকি তারা নেবে বলে আমার বিশ্বাস হয় না।’

তিনি বলেন, ‘আরেকটি নির্বাচনে অংশ না নিলে তাদের অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। সেই ঝুঁকিটা তারা নেবে বলে আমার বিশ্বাস হয় হয় না। কাজেই তারা নির্বাচনে অংশ নেবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমি গোটা জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমরা একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে নির্বাচন কমিশনকে তার স্বাধীন ও কর্তৃত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সব রকমের সহযোগিতা আমরা দেব।’

সরকার নোয়াখালীর হাতিয়ায় রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, কিন্তু নোয়াখালীর বাসিন্দারা এর প্রতিবাদ জানিয়েছে। সেই এলাকার সন্তান হিসেবে আপনার মন্তব্য কি- এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি সরকারকে প্রতিনিধিত্ব করি। নোয়াখালীর মানুষ হিসেবে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। আমি সরকারের সিদ্ধান্তকেই ফলো করব। সরকারের সিদ্ধান্ত যাতে ইমপ্লিমেন্ট হয় সে ব্যাপারে আমার যা যা প্রায়াশ, দায়িত্ব আমাকে সেটা করতেই হবে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরণের একটা বিষয় (রোহিঙ্গা) যখন আমাদের উপর এসে গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে মানবিক সংকট মোকাবেলায় তহবিল গঠন ও সাহায্য সহযোগিতায় আহ্বান করা হয়েছে। এখানে যে তহবিল দরকার আমার তো সেটা দিতে পারছি না।’

বিএনপি নতুন নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগ চেয়েছে- এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির কে যে কী বলে তাতো জানি না। একেক জন একেক কথা বলেন। তাদের নেতাদের মধ্যে ভিন্ন মত। আজকে তো ফখরুল সাহেব এমন একটা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সামনে তাদের (নির্বাচন কমিশন) কর্ম দেখার অপেক্ষায় আছেন। এটা যদি তাদের সকলের মত হয় তা ভাল।’

‘আরেক জন আরেক কথা বলবে। কেউ আবার বলছেন জনতার মঞ্চের লোক, তাকে (সিইসি) সরে যেতে। এখনও নাকি প্রেসিডেন্টের সুযোগ আছে সিইসিকে বাদ দেওয়ার। এসব বিষয় আছে, আবোল-তাবোল কত কথা। দল এলোমেলো দুর্বল হয়ে গেলে যা হয়। এত হতাশা তাদের উপর ভর করেছে, এত বিপর্যন্ত তাদের কথাবার্তা, এলোমেলো, কারো সাথে কোরো কোনো মিল নেই’ বলেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি আরও বলেন, ‘সেদিন দেখলাম মির্জা ফখরুল সাহেব সার্চ কমিটি নিয়ে হতাশ, পাশাপাশি দেখলাম মওদুদ আহমেদ সাহেব আবার আশাবাদী। তারাই তো এক জায়গায় নেই, তবে আমরা কীভাবে মন্তব্য করব।’

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয়ে কথা হয়েছে, আমাদের নতুন প্রশাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

রোহিঙ্গাদের হাতিয়া দ্বীপে স্থানান্তরের কথা বলা হচ্ছে, এ বিষয়ে সাংবাদিকরা অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই প্রস্তাবের বিষয়ে আমাদের অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাই। রোহিঙ্গারা সেখানে যেতে চায় কিনা তাও দেখতে হবে। রোহিঙ্গারা মানসিক আঘাত পেয়েছে, এমন কিছু আমরা চাইবো না যাতে তারা পুরনায় মানসিক আঘাত পায়।’

বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা হয়েছে কিনা- এ বিষয়ে বার্নিকাট বলেন, ‘আমি ৩৫ বছর ধরে কূটনীতির সাথে জড়িত আছি কিন্তু বাংলাদেশের মত জটিল রাজনৈতিক পরিবেশে থাকিনি। রাজনৈতিক বিষয়গুলো ভালভাবে জানতে আমরা সব সময় আলোচনা করে থাকি।’


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম