সংবাদ শিরোনাম

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ খারিজ করে কানাডার আদালত যে রায় দিয়েছে, তা বিবেচনার বিষয় নয় বলে মনে করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্বব্যাংক তাদের অর্থ বন্ধ করে দিয়েছিল- এটাই বাস্তবতা। আদালত কিংবা কানাডার কোনো আদালতের রায়ের বিষয়ে আমরা কখনোই কোনো উক্তি করিনি।

“আমাদের সে সময়ে যেটা বক্তব্য ছিল, পদ্মা সেতু নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এখন কোথায় কি প্রমাণ হলো, না হলো সেটা তো আমাদের বিষয় নয়।”

দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এই অবকাঠামো প্রকল্পে প্রতিশ্রুত অর্থায়ন থেকে চার বছর আগে বিশ্ব ব্যাংক সরে দাঁড়ানোর পর নিজস্ব অর্থায়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পায়নি বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন। তবে প্রকল্পের কানাডীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সঙ্গে ঘুষ লেনদেনের একটি ষড়যন্ত্রের তথ‌্য পাওয়ার জানিয়ে মামলা করেছিল দুদক।

ওই ষড়যন্ত্রের অভিযোগের বিচারের রায়ে শুক্রবার কানাডার আদালত তার দেশের কোম্পানির বিরুদ্ধে বিশ্ব ব‌্যাংক উত্থাপিত দুর্নীতির অভিযোগের কোনো প্রমাণ না পাওয়ার কথা জানায়।

রায় উদ্ধৃত করে কানাডিয়ান পত্রিকা দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল বলেছে, ফোনে আড়ি পেতে সংগ্রহ করা যে তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রসিকিউশন মামলা সাজিয়েছিল তাকে ‘গালগল্প ও গুজব’ বলে ছুড়ে ফেলেছেন বিচারক।

এই রায়ের পর প্রধানমন্ত্রীপুত্র ও তার উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ফেইসবুকে লেখা প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিশ্ব ব‌্যাংকের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বাংলাদেশে যারা পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির কথা বলে গলা চড়িয়েছিল, তাদের এখন সরকারের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে এই প্রকল্পে বাংলাদেশের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তি বিশ্ব ব্যাংক বাতিল করার পর দুর্নীতির ওই ষড়যন্ত্রে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন সেই সময়ের যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেন।

অভিযোগ ছিল সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর বিরুদ্ধেও। তবে তাদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে দুদকের পক্ষ থেকে সে সময় জানানো হয়।

বিকালে বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে একুশে বইমেলার সোহরাওয়ার্দী মঞ্চে তিনটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন বিএনপি মহাসচিব।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নতুন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার নিরপেক্ষতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলেন মির্জা ফখরুল।

শনিবার বিকালে তিনটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনের এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্রশ্ন তুলেন।

তিনি বলেন, আজকে পত্র-পত্রিকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনাকে নিয়ে যে ছবি ছাপা হয়েছে এবং মিডিয়াতে যেটা এসেছে, তাতে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে, আমরা যে বক্তব্য রেখেছিলাম সিইসির নাম ঘোষণার পরে, সেটাই আজ সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

“আমরা আবারও নিশ্চিত করে বলতে চাই, এই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে ইসি কখনোই নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে না। কারণ তার দলীয় পক্ষপাতের ব্যাপারটি এখন জনগণের কাছে অত্যন্ত পরিষ্কার হয়ে গেছে।”

অধ্যাপিকা সৈয়দা ফাতেমা সালামের লেখা ‘সুন্দরী শূণ্য’ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রফিক মুহাম্মদের লেখা ‘পাখির আশা, পাখির বাসা’ ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাইদুর রহমান রুবেলের লেখা ‘ভুতের রাজ্য’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

মোড়ক উন্মোচনের সময় এক সময়ের শিক্ষক অধ্যাপক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, “এখানে আসলেই মনে হয়, এই মাসেই ১৯৫২ সালে আমাদের মুক্তির সূচনাটি হয়েছিলো ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। আমাদের অস্তিত্বের যে শেকড়, এই শেকড় এই ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রথিত হয়েছিলো।

“আমাদের কথা বলার সম্মিলিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র যখন হারিয়ে যায়, তখন আমরা ৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের কথাই স্মরণ করি এবং এই আশায় নতুন করে অনুপ্রাণিত হই- নতুন করে আমাদের অধিকারগুলো, লেখার অধিকার, কথা বলার অধিকার, আমাদের মৌলিক অধিকার ফিরে পাবার জন্য সংগ্রামে ব্রত হওয়ার জন্য শপথ গ্রহণ করি।”

অনুষ্ঠানে লেখিকা সৈয়দা ফাতিমা সালাম ও প্রকাশক রশীদুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

লেখিকার স্বামী ও বিএনপির উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, জাসাস সভাপতি অধ্যাপক মামুন আহমেদ, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান, মহিলা নেত্রী ফরিদা ইয়াসমীন, প্রকাশক রশীদুর রহমান ও অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম এসময় উপস্থিত ছিলেন।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম