সংবাদ শিরোনাম

 

শফিউর রহমান সেলিম, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : ফুলবাড়ীয়া উপজেলার আন্ধারিয়াপাড়া বিডিএস দাখিল মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থীর ফরম ফিলাপে ভুল করায় অন্য বিষয়ে পরীক্ষা দিয়েছে ৪৪ পরিক্ষার্থী। এ নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শনিবার বিক্ষুদ্ধরা প্রতিষ্ঠানের অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

উপজেলার আন্ধ্যারিয়াপাড়া বিডিএস দাখিল মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পরীক্ষায় ৪৪ জন পরিক্ষার্থী অংশ নেয়। ফরম ফিলাপের সময় মাদ্রাসার সুপার বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের কোর্ডে ভুল করে শারীরিক শিক্ষার বিষয়ের কোর্ড বসিয়ে দেয়। ২ বছর ধরে ওই ৪৪ দাখিল পরিক্ষার্থী বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের ওপর প্রস্ততি নিয়েছিল। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়-এর বদলে শারীরিক শিক্ষার প্রশ্নপত্র দেয়া হলে শিক্ষার্থীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে। অভিভাকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। শনিবার মাদ্রাসা খোলার পর পরিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা মাদ্রাসায় জড়ো হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে। অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এ ব্যাপারে পরিক্ষার্থী দুলেনা আক্তারের পিতা দুলাল মিয়া জানান, তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। তিনি অতি কষ্টে ৩ সন্তানকে লেখাপড়া করাচ্ছেন। তার মেয়ে পরীক্ষা দিয়ে বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করেছে। লিমা আকতারের পিতা গোলাম মোস্তফা জানান, তার মেয়ে ৪৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে তার ক্লাস রোল ছিল ৩। তার জিপিএ৫ পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পরীক্ষার দিন আমার মেয়ে হল থেকে কেঁদে বের হয়ে এসেছে। মাদ্রাসা সুপারের দায়িত্বে অবহেলার নানা বিষয় নিয়েও কথা বলেন তিনি।

পরীক্ষার্থী শারমিন আক্তার ও নয়ন মিয়া জানান, তারা ২ বছর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ের ওপর প্রস্ততি নিয়েছে। এ নিয়ে মাদ্রাসায় তারা ক্লাসও করেছে। শারীরিক শিক্ষার ওপর তারা কোন ক্লাস করেনি। কোন প্রস্তুতি ছিল না। মাদ্রাসা সুপারের ভুলের কারণে তারা আশানুরুপ ভাল করতে পারেনি। তাদের এ খারাপ ফলাফলের জন্য দায়ী মাদ্রাসা সুপারের বিচার দাবি করেন।

মাদ্রাসা সুপার মো. হাসমত উল্লাহ শেখ জানান, বিষয়ের কোড নম্বর পরিবর্তনের জন্য ৪৪ পরিক্ষার্থীর বিষয় পরিবর্তন হয়েছে। এ জন্য প্রথমে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডকে দায়ী করার চেষ্টা করলেও পরে তিনি নিজেই এ ভুলটি করেছেন বলে স্বীকার করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন আকতার জানান, তিনি বিষয়টি জানেন না। তার দায়িত্ব অন্য ভেন্যুতে।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম