সংবাদ শিরোনাম

 

স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম : মহান একুশে ফেব্রুয়ারী আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভের পর এই দিবসটিকে বিশ্ব মানের মর্যাদায় নিয়ে গেছে। বছর ঘুরে আবারো একুশ দ্বোরগোরায় এসে গাইছে আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী আমি কি ভুলিতে পারি।
জাতীর আত্মমর্যদা ও অহংকার বোধের প্রতীক ৫২ এবং ৭১’। ভাষা আন্দোলনের ৬১ ও মুক্তিযুদ্ধের ৪৫ বছর পরও আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈন্যতা দেখে শহীদদের প্রতি উদাসীনতায় শংকিত হয় প্রাণ। গফরগাঁওয়ের স্বনামধন্য এমন বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেল, শহীদদের স্বরনে নেই কোন শহীদ মিনার বা স্মৃতিস্তম্ভ। ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সমূহের কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের একদিকে ভাষা দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারছেনা। আরেকদিকে এ আন্দোলনের গুরুত্ব অনুধাবনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। উপজেলায় মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে ৭৪টি। এর মধ্যে শহীদ মিনার রয়েছে ১৮টিতে। দাখিল, আলীম ও সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা রয়েছে ৬৩টি। পরিতাপের বিষয় এই ৬৩ প্রতিষ্ঠানের কোনটিতেই শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে গড়ে উঠেনি কোন সৌধ। ডিগ্রি কলেজ, কারিগরি কলেজের সংখ্যা ৮টি, শহীদ মিনার রয়েছে ২টিতে। প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ২২৮টি। তবে ৪টিতে রয়েছে শহীদ স্মৃতির প্রতীক শহীদ মিনার। উপজেলার মোট ৩৭৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বছরের শুরুতে সরজমিন ঘুরে দেখা গেল এই চিত্র। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবসের কোন কর্মসূচী পালন করা হয়না। শ্রদ্ধা জানানো হয়না শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের একক অংশ গ্রহনে। তারা দিনটিকে ঐচ্ছিক ছুটির দিন হিসেবে ভোগ করে। পাঁচবাগ ইউনিয়নের দীঘিরপাড় আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবুল বাশার খান বলেন, প্রতি বছর আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের কর্মসূচীগুলো যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হয়, যদিও এই প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনারের স্থায়ী কাঠামো নেই। শত বছরের প্রাচীন প্রতিষ্ঠান পৌর এলাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ইসলামিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও খাইরুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নেই কোন শহীদ মিনার বা স্মৃতিস্তম্ভ। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এই দিবসের তাৎপর্য জনমানুষের চেতনাকে কতটুকুই বা নাড়া দেয়। পৌর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি কর্মসূচীতে যোগদান করা ছাড়া আলাদা অনুষ্ঠান ও ভিন্ন কর্মকান্ড চোখে পড়েনা। এতে শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গফরগাঁও উপজেলা নাগরিক আন্দোলন ও উপজেলা দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডাঃ কে এম এহছান এডভোকেট বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন নেই বিষয়টি উদ্বেগ এবং দুঃখের। নতুন প্রজন্মকে আমরা ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস জানা এবং চর্চা থেকে বঞ্চিত করছি। কথা বলে জানা যায়, দিবসটি পালনে সরকারি প্রজ্ঞাপন বিষয়ে অবহিত নন অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান। গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর কুন্ডু বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্ন্তজাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন বাধ্যতামূলক। শহীদ মিনার থাকা না থাকার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈতিক বোধ।


মতামত জানান :

 
 
আরও পড়ুন
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম