সংবাদ শিরোনাম

 

পাঠ থেকে সূক্ষ্ম সুতা তৈরিতে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। পাশাপাশি পাটের তিনটি জিনোম সিকোয়েন্স উন্মোচনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তোষা ও দেশি পাটের জীবনরহস্য উন্মোচনের সাড়ে তিন বছরের মধ্যে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের গবেষণার এই ফলাফল সম্প্রতি বিশ্বখ্যাত জার্নাল নেচার প্ল্যান্টে প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন (এনসিবিআই) জেনোম তিনটির কোড নাম্বারও দিয়েছে। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশের এই সাফল্য দেশে-বিদেশেও আলোচিত হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশ ও বিশ্বের তৈরি পোশাকের উপযোগী পাটের আঁশ তৈরি করার বিজ্ঞানটি বাংলাদেশের দখলে এলো। নতুন ধরনের পাটের জাত উদ্ভাবনও অনেক সহজ হয়ে গেল। আর এর মাধ্যমে দেশের সাফল্যের মুকুটে আরেকটি পালক যুক্ত হলো নিঃসন্দেহে। এ সাফল্যের জন্য কৃষিবিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমরা অভিনন্দন জানাই।
তথ্য মতে, দেশি জাতের পাট থেকে সুতা তৈরির ভিসকস উৎপাদনের খবর আগেই জানা গিয়েছিল। যা সম্ভব হয়েছে বিজ্ঞানীদের শ্রমলব্ধ গবেষণা এবং একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের আন্তরিকতা ও কার্যকর সহযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে। সাফল্য ও সরকারি সহযোগিতার এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা যে আরও নতুন কিছু আবিষ্কার করতে সক্ষম হবেন তেমন আশাবাদও অমূলক নয়। গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের একদল বিজ্ঞানী ২০১০ সালে তোষা পাট, ২০১২ সালে ছত্রাক এবং ২০১৩ সালে দেশি পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেন। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে মাকসুদুল আলম মারা যাওয়ার পর ওই গবেষণার ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় তৈরি হলেও পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মনজুরুল আলমের নেতৃত্বে গবেষণার পরবর্তী ধাপ শুরু হওয়ার পর এটাই সবচেয়ে বড় সাফল্য। বিজ্ঞানীরা সূক্ষ্ম আঁশ তৈরি হতে পারে এমন পাটের জাত উদ্ভাবনেরও প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
বিশ্বে মোট ১০০ প্রজাতির পাটজাতীয় প্রাকৃতিক তন্তুর বৃক্ষ রয়েছে। এর মধ্যে বিশ্বে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক আঁশের ৮০ শতাংশ আসে পাট থেকে। বাস্তবতা হলো জলবায়ুগত কারণে আমাদের দেশে যথেষ্ট পরিমাণ পাটের আবাদ হয়ে থাকে। আবার উৎপাদিত পাটের বিপণন নিয়েও কৃষকরা নানা সময়ে সমস্যার মুখোমুখী হন। সুতরাং পাট থেকে সূক্ষ্ম সুতা তৈরির বিষয়টি বেগবান হলে, দেশের কৃষকরা পাট উৎপাদনেও আরও আগ্রহী হবে, এমনটি মনে করা যেতে পারে। যা একই সঙ্গে আমাদের কৃষি এবং শিল্প খাতকে সমৃদ্ধ করবে।
জানা যায়, তৈরি পোশাক শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল তন্তু। যা বাইরের দেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এ পর্যন্ত তুলা থেকেই সর্বোচ্চ তন্তু তৈরি হয়ে আসছে। বিজ্ঞানীদের দাবি পাট ও তুলার আঁশের মধ্যে মূল পার্থক্য তৈরি করে লিগনিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক। পাটের আঁশে এটি বেশি থাকায় তা তুলার আঁশের চেয়ে মোটা হয়ে থাকে। ফলে পাটের আঁশের তৈরি সুতা দৈনিক ব্যবহার্য পোশাক বা তৈরি পোশাকের কাপড় তৈরিতে ব্যবহার করা হয় না। পাটের জিনগত বৈশিষ্ট্যের গঠন ও বুনন সম্পর্কে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা নতুন গবেষণায় বলেছেন, জিনগত বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন এনে পাটের আঁশ তুলার মতো সূক্ষ্ম করা যাবে। সুতরাং উন্নতমানের তন্তু যখন দেশে উৎপাদিত পাট থেকেই তৈরি করা হবে তখন বিষয়টিকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবেই বিবেচনা করা যায়।
সর্বোপরি বলতে চাই, বিজ্ঞানীদের এই সূক্ষ্ম সুতা তৈরির সাফল্য এগিয়ে নিতে হলে, সরকারি পাটকলগুলোর মানোন্নয়নও অত্যন্ত জরুরি। জানা গিয়েছিল, এজন্য প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি প্রয়োজনে আর্থিক বিনিয়োগে আগ্রহী চীনের সঙ্গে মিনিউটস অব ডিসকাশন ‘এমওডি’ স্বাক্ষর হয়ে আছে। আমরা মনে করি এখন সরকার তথা সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া। আমরা মনে করি, পাট থেকে অতি সূক্ষ্ম সুতা বা ভিসকস উৎপাদন শুরু করা গেলে আমাদের আমদানিনির্ভরতা কমে যাবে। দেশও আর্থিকভাবে লাভবান হবে। এতে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার যে প্রত্যাশা রয়েছে বাংলাদেশের, তা আরও সহজতর হবে। সরকার ও সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে যথাযথ গুরুত্ব দিকথ এটাই আমাদের প্রত্যাশা।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম