সংবাদ শিরোনাম

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক : হায়দরাবাদ টেস্টের প্রথম দুই দিন শেষে বাজে কিপিংয়ের কারণে আলোচনায় ছিলেন মুশফিকুর রহিম। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক আজ ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষেও আলোচনায়। তবে এবার আলোচনায় বীরোচিত ব্যাটিংয়ে!

টেস্ট ক্রিকেট মানে ধৈর্যের পরীক্ষাও। সেই পরীক্ষায় আজ মুশফিককে লেটার মার্ক দেওয়া যায় একবিন্দু না ভেবেই!

মুশফিক আজ যখন উইকেটে এলেন, ১০৯ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে কী দুর্দান্ত ব্যাটিংয়েই না দলকে নির্ভরতা দিলেন অধিনায়ক। ধৈর্যের প্রতিমূর্তি হয়ে ব্যাটিং করে গেলেন দিনের শেষ পর্যন্ত, ২০৬ বল খেলে দিন শেষে অপরাজিত ৮১ রানে।

আগের চার টেস্টে ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ নিতে ব্যর্থ হয়েছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তরুণ অলরাউন্ডার আজ দলের বিপদে ক্রিজে নেমে করলেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি, দিন শেষে ১০৩ বলে ৫১ অপরাজিত।

তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩২২। সফরকারীরা এখনো পিছিয়ে ৩৬৫ রানে, ফলোঅন এড়াতেই এখনো চাই ১৬৬ রান। সপ্তম উইকেটে ৮৭ রানের জুটিতে অবিচ্ছিন্ন মুশফিক-মিরাজ। কাল এই জুটি যত বড় হবে, ততই বাড়বে বাংলাদেশের ফলোঅন এড়ানোর আশা।

তৃতীয় দিনের শেষ সেশনটা বাংলাদেশের স্বপ্নের মতো কাটলেও সকালটা ছিল দুঃস্বপ্নের! দিনের তখন কেবল তৃতীয় ওভার। ভুবনেশ্বর কুমারের বল স্কয়ার লেগে পাঠিয়ে দিলেন মুমিনুল হক। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এক রান পূর্ণ করার পর দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে থমকে গেলেন, থমকে গেলেন তামিম ইকবালও। খানিকটা ইতস্তত করে দুজন আবার ছুটলেন। কিন্তু তামিম ফেরার আগেই উমেশ যাদবের থ্রো থেকে বল ধরে নন স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্প ভেঙে দেন ভুবনেশ্বর। তামিম রানআউট ব্যক্তিগত ২৪ রানে।

খানিক বাদে উমেশের শিকার হয়ে ফিরলেন মুমিনুলও। ডানহাতি পেসারের বলের লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ মুমিনুল (১২)। চতুর্থ উইকেটে প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ। তবে মাহমুদউল্লাহকে (২৮) এলবিডব্লিউ করে ৪৫ রানের এ জুটি ভাঙেন ইশান্ত শর্মা। বাংলাদেশের স্কোর তখন ৪ উইকেটে ১০৯! পঞ্চম উইকেটে শতরানের জুটিতে দারুণভাবে প্রতিরোধ গড়েন মুশফিক ও সাকিব।

উমেশ, ইশান্ত, অশ্বিনদের দারুণ সব শটে চার মেরে সাকিব তুলে নেন ফিফটি। টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর বোলার অশ্বিন তো তার প্রথম ১৪ ওভারে উইকেটই পাননি! অবশ্য ১৫তম ওভারে সাকিবকে ফিরিয়েই ম্যাচে প্রথম উইকেট নেন ভারতীয় অফ স্পিনার। যদিও তাতে দায় ছিল সাকিবের। যেভাবে ব্যাট করছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল, সেঞ্চুরিই করতে যাচ্ছেন সাকিব। কিন্তু ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে খেলতে গিয়ে উমেশের তালুবন্দি হয়ে অশ্বিনকে উইকেট উপহার দেন। শেষ হয় সাকিবের ১০৩ বলে ১৪ চারে খেলা ৮২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।

সাকিবের বিদায়ের পর দ্রত ফিরে যান সাব্বির রহমানও। রবীন্দ্র জাদেজার বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে সাব্বিরের ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান। ২৩৫ রানে রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তখন তিন শ’র আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায়। এরপরই মিরাজকে নিয়ে শুরু মুশফিকের লড়াই।

আগের চার টেস্টের আট ইনিংসে রান মোটে ২০, সর্বোচ্চ ১০। সেই মিরাজ আজ ব্যাটিংয়ের শুরু থেকেই মাথা ঠান্ডা করে নিজের খেলাটা খেলে গেলেন, অধিনায়ককে দিলেন যোগ্য সঙ্গ। দিনের ১ ওভার বাকি থাকতে অশ্বিনকে চার মেরে মিরাজ পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি।

দিনের শেষ ওভারে ইশান্তের বলে আঙুলে আঘাত পেয়েছিলেন মুশফিক। তবে হাতে ম্যাজিক স্প্রে নিয়ে পরের বলেই পুল করে স্বাগতিক পেসারকে মেরেছেন দারুণ এক চার। রাতে বিশ্রাম নিয়ে কাল নতুন করেই দিন শুরু করতে পারছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে মুশফিক কাল দলকে কতদূর এগিয়ে নিতে পারেন, তার ওপর নির্ভর করছে ম্যাচের ভবিষ্যৎও।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত প্রথম ইনিংস: ১৬৬ ওভারে ৬৮৭/৬ ডিক্লে (কোহলি ২০৪, বিজয় ১০৮, ঋদ্ধিমান ১০৬*, পূজারা ৮৩, জাদেজা ৬০*, তাইজুল ৩/১৫৬, মিরাজ ২/১৬৫, তাসকিন ১/১২৭)

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস:  ১০৪ ওভারে ৩২২/৬ (সাকিব ৮২, মুশফিক ৮১*, মিরাজ ৫১*; উমেশ ২/৭২, জাদেজা ১/৬০, অশ্বিন ১/৭৭)।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম