সংবাদ শিরোনাম

 

বিনোদন ডেস্ক : মডেল-আইটেম গার্ল জ্যাকুলিন মিথিলার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তার বাবা-মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা। কারণ মিথিলার উপার্জনেই চলত সংসার। ৩ ফেব্রুয়ারি বারিক বিল্ডিং এলাকার কালীবাড়ি সড়কের ‘রণজিত ভবনে’র ভাড়া বাসায় আত্মহত্যা করেন চট্টগ্রামের মেয়ে মিথিলা। মিথিলা যে সুইসাইড নোট লিখে গেছেন তাতে স্বামী উৎপলের অবহেলার কথা উল্লেখ রয়েছে। মিথিলার মৃত্যুর পর পরিবারটিতে নেমে এসে ঘোর অমানিশা। এদিকে মিথিলার মৃত্যুতে দায়ের করা মামলায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মিথিলার বাবা স্বপন শীল বলেন, ‘আমি একসময় সেলুনে কাজ করতাম। এখন অসুস্থতার কারণে সে কাজ করতে পারি না। আমার আয়ের কোনো পথ নেই। মেয়ে আমাদের সংসার চালাত। চট্টগ্রামের বারিক বিল্ডিং এলাকার কালীবাড়ি সড়কের ‘রণজিত ভবনে’র ভাড়া বাসায় তিন বছর ধরে থাকি আমরা। ওই বাসায় প্রতি মাসে ভাড়াসহ সব মিলিয়ে ১২ হাজার টাকার মতো ব্যয় হয়। এ ছাড়া বাজার খরচ থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব কেনাকাটার জন্য মাসের শুরুর আগেই টাকা পাঠিয়ে দিতেন মিথিলা। এখন আমরা কীভাবে বাঁচব?

তিনি আরও জানান, রামকৃষ্ণ স্কুলের নবম শ্রেণীতে লেখাপড়ার সময় ফটিকছড়ি উপজেলার ধুরুং এলাকার উৎপল রায় নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ায় মিথিলা। তাকে নিয়ে ঘর বাঁধার স্বপ্নও দেখেন। দুই পরিবারেও ছিল বিয়ের সম্মতি। কিন্তু পরবর্তীতে মডেলিং জগতে পা বাড়ানোর পর তাকে নিয়ে দেশে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর উৎপল এবং তার পরিবার মিথিলাকে বউ করে ঘরে তুলতে আপত্তি তোলে। কিন্তু বউ হিসেবে স্বীকৃতি পেতে উৎপলকে চাপ দেয় মিথিলা এবং তার পরিবার। এরপর গত বছরের ৩ নভেম্বর ঢাকায় তাদের কোর্ট ম্যারেজ হয়। বিয়ের অনুষ্ঠানের পর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে মিথিলাকে ঘরে বরণ করে নেয়ার কথা বলে চট্টগ্রামে চলে আসে উৎপল। এরপর আর সে মিথিলার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। শেষমেশ মিথিলাই উৎপলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হাটহাজারী এলাকার ভাড়া বাসায় গিয়ে দেখা পায়নি। দেখা করার জন্য ফোন করে অনুরোধ করেও উৎপল দেখা করেনি। বরং উৎপলের জীবন থেকে মিথিলাকে সরাতে পরিবার থেকে সরাসরি এবং ফোন করে টাকার অফারও দেয়া হয়। উৎপলের মামা দীপক সরাসরি বারেক বিল্ডিংয়ের বাসায় গিয়ে এবং ভাবী রুপা ফোন করে মিথিলাকে বলেন, ‘টাকা যা লাগবে নিয়ে যাও, তারপরও উৎপলের জীবন থেকে সরে যাও।’

স্বামী এবং তার পরিবারের সদস্যদের অবহেলায় মিথিলা আত্মহত্যা করেছে বলে মিথিলা তিন পৃষ্ঠার সুইসাইড নোটে লিখে গেছে। মিথিলা আত্মহত্যার পর তার বাবা স্বপন শীল বাদী হয়ে বন্দর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় স্বামীসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে পুলিশ এ মামলায় শুক্রবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।


মতামত জানান :

 
 
 
কপিরাইট © ময়মনসিংহ প্রতিদিন ডটকম - সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম